কেনাকাটার অন্দরমহল!The Inner Sanctum of Shopping!

বাঙালির মাসের প্রথম এবং শেষ উভয় সময় মাথায় হাত!
কি অবাক হচ্ছেন তো উপরের লেখার লাইনটি পড়ে?
আমি কিন্তু হওয়ায় ভাষা কথা বলিনা! বাস্তব উদাহরণ দিলেই আমার কথার তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবেন।
মাসের উপার্জিত অর্থ বৃদ্ধি পায় নি! মানে যারা চাকুরীজীবী তাদের কথা বলছি, নাহ্! যারা ব্যবসা করেন তারাও যে বহাল তবিয়তে আছেন এই মুহুর্তে সেটিও দুঃখের সাথে বলতে পারছি না!
এই যে কথা বলছিলাম, দেখুন লেখার মাঝে কেমন খেই হারিয়ে যাচ্ছে, সবটাই টাকার মায়া!
যাক গে, যে কথা দিতে শুরু করেছিলাম, মাসের ওই একটি দিন, মানে যেদিন বেতন একাউন্টে জমা পড়বার আগে অধির আগ্রহে মোবাইলে চোখ রাখা কখন মোবাইলের স্ক্রীনে টুং করে একটি শব্দ পাওয়া যাবে, সঙ্গে একটি মেসেজ আপনার একাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়েছে!
উফ্! কি এক্সাইটমেন্ট! ঠিক যেনো প্রথম প্রোপোজ করবার আগের মুহুর্ত আর উত্তরে হ্যাঁ শুনতে পাবার প্রথম অভিজ্ঞতা!
দু'ক্ষেত্রেই আবেগ বেশিদিন স্থায়িত্ব হয় না, বিয়ের পর রোমান্স শেষ, আর ওই বেতন নিয়ে বাড়ি ফেরার পর, মাসের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর লিস্ট দেখলে বেতন পাবার এক্সাইটমেন্ট ও সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে!
যাক যে যাক! এরপর আরেকটি ধাক্কা অপেক্ষা করে মাসের শেষে!
তখন সংসারে কিছু প্রয়োজন এই কথা মুখ থেকে উচ্চারণ করা আর মাথায় বাজ পরা একই ব্যাপার!
উপরিউক্ত কথাগুলো বলতে পারছি কারণ, আমাকেও, ওই সমস্ত খরচ একলাই বহন করতে হয়, মাসের প্রথম কারোর হাতে লিস্ট ধরিয়ে দেবার লোক পাচ্ছি না!
মানে আজকাল বিয়ের উপর থেকে ভরসা উঠে গেছে সমাজ থেকে! কি বাড়তি জ্বালা নেবে, বাড়তি টাকা নেই, অথচ বাড়তি চাপ, তাই ছেলে পাওয়া যাচ্ছে না!
আচ্ছা, এর আগের লেখায় আপনাদের সাথে আমি বেশ কিছু অনলাইন থেকে কেনাকাটা জিনিসপত্রের ছবি ভাগ করে নিয়েছিলাম।
আজকে এসেছি খরচের হিসেব নিকেষ আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে। আমি তো আর কারো উপর এই দায়িত্ব দিতে পারছি না, তাই ভাবলাম এই প্লাটফর্মে যে কজন পরিচিত বন্ধু আছে, তাদের সাথেই দামদর, হিসেব নিকেষ করি, আর তারাই দেখুক সংসার না করেও কেমন যাঁতাকলে ফেঁসে আছি! মানুষ হওয়া কি মুখের কথা?
তাও তো এখন আমিষ খাবার খাই না বললেই চলে, তাতেও ব্যাংকে ক্রেডিট এর চাইতে ডেবিট এর মেসেজ অধিক!
সামগ্রীর তালিকা |
|---|
বাকি সামগ্রীর তালিকা:- |
|---|
এখানে আমার কেনাকাটা করা গ্রসারি দ্রব্যের কিছু উল্লেখ করলাম, এরপর আরো বেশ কিছু জিনিষ কেনা বাকি!
যারা প্রায়শঃই সমালোচনায় মুখর হয়ে থাকেন তারা একটি মানুষের লড়াইয়ের দিকটা যদি সত্যি বুঝতে পেতেন, তাহলে সামাজিক চিত্র বোধহয় ভিন্ন হতো!
অশান্ত বিশ্বের কারণে সাধারণ মানুষ কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সে দিকে সর্বাগ্রে দৃষ্টিপাত করা আবশ্যক বলে আমি মনে করি।
মানুষের তিনটি আবশ্যকীয় বস্তু খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থান প্রতিটির খরচ আমাকেই জোগাতে হয় একা!
এরপরেও যারা নিজেদের সমাজের মাথা মনে করে পিছনে সমালোচনায় মুখর হন, তাদেকে মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, একটি নারির ক্ষমতাকে কখনও ছোট করে দেখবেন না।

















