When known becomes unknown! চেনা হয়েও যায় না চেনা!

in Incredible India3 days ago

1000075926.jpg

আপনাদের মধ্যে অনেকেই এমন আছেন যারা হয়তো বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন জায়গায় থেকেছেন শৈশব অবস্থায়!

কারণ একাধিক হতে পারে, যেমন একটি উদাহরণ হলো, হয়তো আপনাদের মধ্যে অনেকের পিতা ট্রান্সফারেবল কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন, আবার এমনটিও হতে পারে আপনাকে পড়াশোনার কারণেও সময়ের হাত ধরে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে হয়েছে!

উদাহরণগুলো উল্লেখ করবার কারণ খানিক আন্দাজ করতে পারবেন হয়তো আমার লেখায় নির্বাচিত শীর্ষক দেখে!

আজকের দিনটিকে আমি পিছন ফিরে তাকানো নামেও আখ্যায়িত করতে পারি!

সময়ের সাথে মানুষের বয়স বৃদ্ধি পায় এটি যেমন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, অন্যদিকে সময়ের হাত ধরে পরিচিত এলাকা কেমন যেনো অচেনা হয়ে যায় সেই সময়ের কারণেই!

আজকের দিনটি আমার কাছে ছিল ঠিক সেরকমই।
একসাথে পিছনে ফেলে আসা অনেক কিছু যখন জীবনের পিছনের স্মৃতির পাতা উল্টে দিয়ে যায়, তখন নিজের অজান্তেই চোখের সামনের সবকিছু ঝাপসা হয়ে আসে।

আজকে আমার ছোট মামীর বাড়িতে গিয়েছিলাম! হ্যাঁ! অনেকেই ভাবতে পারেন, মামাবাড়ি বলে প্রচলিত বাড়ি, যা নিয়ে কবিতাও আছে - "মামা বাড়ি, ভারী মজা!"
সেখানে মামীর বাড়ি অর্থাৎ বাড়িটিকে তার স্ত্রীর বাড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করছি!

ইতিপূর্বেও জানিয়েছি, আমি এমন একটি পরিবারে বেড়ে উঠেছি, যেখানে মহিলাদের কেবলমাত্র রান্না ঘরে সীমাবদ্ধ করে রাখার মত মানসিকতা পরিবারের পুরুষরা রাখেন না!

1000075846.jpg1000075847.jpg
(লিফটের পাশে স্বাগত জানাতে উপস্থিত মিষ্টি নামের পোষ্য খরগোশ!)

আমার এই মামী আমার মামী হয়ে ওঠার আগে, আমাদের শিক্ষিকা ছিলেন, কাজেই শুরু থেকেই সে নিজের সংসার, তিন সন্তানকে বড় করে তোলার পাশাপশি, নিজের পায়ের নিচের মাটির উর্বরতার সাথে এবং আত্মমর্যাদার সাথে আপোষ করেনি কখনোই।

কাজেই, বর্তমানে যে বাসস্থানে মামা, মামী এবং তাদের একমাত্র পুত্র সন্তান থাকে, সেটি মামীর বাড়ি!
বিষয়টি উল্লেখ করলাম, কারণ পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এই উন্নত সমাজেও পৃথিবীতে আনাচে কানাচে আজও বিদ্যমান।

যেখানে, নামে জিনিষ কেনা প্রচারে থাকে কিন্তু পেপার এ মালিকানা নয়!
অর্থাৎ এখানেই শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কতখানি প্রয়োজন, পাশাপশি উন্নত মানসিকতার সেটা প্রমাণ হয়ে যায়।

1000075852.jpg

1000075853.jpg1000075851.jpg
(মামীর বাড়ির ছাদ থেকে তোলা ছবি)

এবার প্রসঙ্গে ফেরা যাক! আজকে পুরোনো দিনের অনেকগুলো পাতা একসাথে উল্টে গিয়েছিল, সময়ের হওয়ায়।

মামীর বাড়ির থেকে হেঁটে ফেরার পথে প্রথমেই পা দাড়িয়ে গেলো সেই মাঠে, যেখানে আমি দশম শ্রেণীর পরীক্ষা দেবার পর স্টেজ শোতে অংশগ্রহণ করেছিলাম।

1000075856.jpg
সেই পরিচিত মাঠ

এটি আমার পাড়া, যেখানে বহু পরিবর্তন হয়েছে, ক্লাব ঘরের আর ঠিক পাশেই জায়গা করে নিয়েছে আমার বাবার উপার্জনের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মন্দির।
অর্থাৎ যে মন্দিরটি আমার বাবা তৈরি করে রেখে গিয়েছেন।
যদিও ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া এরকম কাজে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়, তবে সে যাইহোক কিন্তু এই মাঠে কালীপুজো বেশ ধুমধাম করে পালিত হয়।
এছাড়াও আমার জ্যাঠার একমাত্র পুত্র এই মাঠে প্রতিদিন ফুটবল খেলা প্র্যাকটিস করতো, এমন হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে এই মাঠের সাথে।

1000075857.jpg
পরিবর্তিত ক্লাব ঘর, পাশে আমার বাবার দ্বারা নির্মিত মন্দির!

আমার মনে পড়ে, এই মাঠেই সিনেমার আয়োজন, এই মাঠেই একাধিক প্রতিযোগিতার আয়োজন আর না জানি কতকিছু!!
এরপর খানিক পা বাড়াতেই আরো একবার থমকে গেলাম, আমার সবচাইতে কাছের হরিহর আত্মা শৈশবের বান্ধবী কবরীর বাড়ির সামনে!

আমার শৈশব বান্ধবীর বাড়ি
1000075858.jpg

বাড়ি ভাগাভাগির থাবায় খানিক পরিবর্তিত হয়েছে বটে, তবে কবরী যে আজ আর ইহজগতে নেই, তাদের অংশ আজও অপরিবর্তিত রয়েছে।
চোখের সামনে ভেসে উঠলো আর একরাশ স্মৃতি সাথে চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে উঠল নিমেষেই!

কত কম বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে আমার একমাত্র শৈশবের বান্ধবী!

সেই স্কুল থেকে কলেজ একসাথে পথচলা।
তারপর সব কেমন যেন ঘেঁটে গিয়েছিল!
ইশ! একটা টাইম মেশিন যদি পেতাম!
এরকম সাত সতেরো ভাবনা নিয়ে আরেকটু এগোতেই আবারো দাড়িয়ে পড়তে হলো, সেই আশ্রমের সামনে যার পাশেই আমাদের বাড়ি ছিল, তাই পাড়ার নাম আশ্রম পাড়া।

1000075859.jpgএই সেই আশ্রম, যার নামে আমাদের পাড়ার নামকরণ

প্রতি বছর কৃষ্ণ লীলার সময় কীর্তনের দলের একাংশ আমাদের বাড়িতে থাকতেন, তাদের যত্নে মা দিনরাত এক্ করে পরিশ্রম করতেন, যাতে তাদের সেবায় কোনো ত্রুটি না থাকে।

এরপর রাতের বেলায় আশ্রমে ভিড় করে কৃষ্ণ লীলা দেখা আর পাশেই গন্ধরাজ ফুল গাছে ফুটে থাকা ফুলের সুবাস পরিবেশকে মোহময় করে তুলতো!

এছাড়াও, সেই মন্দির যাদের জমিতে গড়ে উঠেছিল, সেই বাড়ির মেয়ে শর্মিষ্ঠা ছিল আমার সহপাঠী, আর তার পাশেই বণিক বাড়ির মেয়ে বন্দনা দিদি ছিল, আমার দিদির (ওল্ডার সিস্টারের) সহপাঠী।

1000075860.jpgবড়ো পুকুর, এখন পরিচ্ছন্নতার অভাব সুস্পস্ট

এখানেই শেষ নয়, এরপর পথ ধরে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো সেই বড় পুকুর যেখানে নিয়ে গিয়ে আমার জ্যেঠিমা আমাকে সাঁতার শেখাবের আপ্রাণ প্রয়াস চালিয়ে গিয়েও সফলতা অর্জন করতে পারেন নি!

আমার জ্যেঠিমা পেশায় পুলিশ, কাজেই তার বডি ফিটনেস নিয়ে বাড়তি কিছু বলার নেই, এবং আমার যে দাদার ফুটবলের কথা লেখায় পূর্বেই উল্লেখিত সে মিলিটারিতে রয়েছে!

1000075862.jpg
শিশু উদ্যান, পুকুরের পাশে
1000075863.jpg1000075864.jpg

যেহেতু আমিও শৈশব থেকেই খেলাধুলা এবং অন্যান্য শারীরিক এক্টিভিটিস এর সাথে যুক্ত থাকতাম, তাই হয়তো খানিক আশার আলো আমার মধ্যে জ্যেঠিমা দেখেছিলেন!

এইবার একটু হাসি পেলেও কষ্ট হলো নিজের বাড়িটির কথা ভেবে, এরপর কোথায় গিয়েছিলাম, সেটি আগামীকাল আপনাদের মাঝে ভাগ করে নেবো!

তবে, পরিশেষে বলি, জীবনে সবকিছুর মূল্য জীবনে থাকা অবস্থায় দিতে শেখা উচিৎ!
অনিশ্চিত এই জীবনের যেখানে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়, সেখানে মুহূর্তের মূল্য সবচাইতে অধিক।

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  
Loading...


image.png

curated by @miftahulrizky