নতুন কিছু জানলাম

in Incredible Indiayesterday

প্রথমেই সকলকে নমস্কার। সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আজ আমি শেয়ার করব পাকা লাউ নিয়ে।

আগের এক পোস্টে আমি লাউ এর কথা শেয়ার করেছি। আমাদের লাউ গাছে অনেক গুলো লাউ হয়েছে। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসে নাকি লাউ গাছ রাখতে নেই, কেটে দিতে হয়। কদিন পরেই কেটে দিতে হবে। মা একটি লাউ গাছে রেখে দিয়েছিল পাকার জন্য। আজ সেই লাউটি আমি আর মা মিলে পারতে গেছিলাম।

1000485602.jpg

লাউটি পেড়ে নিয়ে বাড়িতে আসলাম। এবার লাউ এর কথা বলতে বলতেই ঠাম্মা হঠাৎ বলে উঠল লাউ এর উপরের খোলক দিয়ে নাকি একতারা, ডুগডুগি বানানো যায়। আমি তো শুনেই অবাক।
আমি তখন ঠাম্মাকে জিজ্ঞেস করলাম কীভাবে বানানো যায়! তখন ঠাম্মা আমাকে স্টেপগুলো বলল......
ঠিক সেইভাবেই ঠাম্মার দেখানো স্টেপে আমি লাউ কাটতে শুরু করলাম। লাউটি সাধারণত পাকতে দেওয়া কারণ হলো বীজ। এই বীজ বপণ করলেই আবার গাছ হবে।

প্রথমেই লাউয়ের বোটার অংশটি গোল করে কেটে নিতে হবে ঠিক এইভাবে.... কাটার জন্য আমি হাঁসুয়া নিয়েছিলাম, কিন্তু খোলকটা খুব শক্ত হওয়ায় আমি কাটতে পারছিলাম না। তাই মাকে বললাম কেটে দিতে।

1000485608.jpg

কাটার পর ঠিক এরকম লাগছিল। ভেতরটা ঠিক এরকম। এবার এর মধ্যে থেকে আগে বীজগুলো বের করতে হবে। তাই আমি আর মা মিলে বীজ বের করতে শুরু করি।

1000485611.jpg

লাউয়ের বীজগুলো ঠিক এরকম লম্বাটে ধরনের। আমি আর মা মিলে বসে থেকে সব বীজগুলো বের করি। বের করতে বেশ মজা লাগছিল। আগে কখনও এই জিনিসগুলো করা হয়নি তাই আর কি।

1000485618.jpg

এখানে সব বীজ গুলো বের করে রাখলাম। অনেক গুলো বীজ বেরিয়েছে। এই বীজ গুলো রোদে শুকিয়ে বপন করলেই চারা গাছ হবে।
এরপরে আমরা লাউয়ের মাঝের অংশ গুলো ভালো করে বের করে নেই।

1000485621.jpg

ঠিক এভাবে পরিষ্কার করে নেই। বীজ ছাড়া ভেতরে যা যা ছিল সব ফেলে দেই। তারপর মা একটা চাকুর সাহায্যে সম্পূর্ণ খোলকটিকে প্রায় মসৃণ করে দেয়।

1000485626.jpg

এই যে মা সুন্দরভাবে চাকু দিয়ে মসৃণ করছিল। মসৃণ করার পর ধুতে হবে। তাই আমি যত্ন সহকারে ধুয়ে নিয়ে আসলাম। খেয়াল রাখছিলাম যেন হাত থেকে পড়ে না যায়, পড়ে গেলেই ফেটে যাবে যদিও উপরের খোলকটি বেশ মজবুত ছিল।
তারপর আমি লাউয়ের খোলটিকে উপর করে রোদে দেই যেন তাড়াতাড়ি জল ঝরে পরে যায়।

1000485627.jpg

বেশ টানা কয়েকদিন রোদে শুকোতে হবে তাহলে নাকি আর শক্ত হবে। ঠিকমতো শুকিয়ে যাওয়ার পর নাকি বাদ্যযন্ত্র বানানো যায়। আর একতারা বানাতে নাকি এই লাউয়ের খোলকই ব্যবহার করা হয়।
সত্যিই এটা আমি আগে জানতাম না আর কোথাও শুনিনি।
আজকে আমি নতুন কিছু জানতে পারলাম।
তবে আমি লাউয়ের খোলটি শুকোচ্ছি বাদ্যযন্ত্র বানানোর জন্য না, ঘরে রাখার জন্য। খোলটির মধ্যে জিনিস রাখবো
আর খলটির উপরে ডিজাইন করব ভেবেছি।

আজ এখানেই শেষ করছি। আপনারা কী এটা আগে থেকেই জানতেন নাকি আজ জানলেন? জানাতে ভুলবেন না।
ধন্যবাদ।