বন্ধুদের সাথে আদিনা মসজিদ
সকলকে নমস্কার। আশা করছি সবাই খুব ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে আদিনা মসজিদ যাওয়ার গল্প শেয়ার করব।
হঠাৎ করেই একদিন রাতে বন্ধুদের সাথে প্ল্যান হলো আদিনা যাওয়া নিয়ে। বেশি আগে থেকে প্ল্যান করলে প্ল্যান ক্যান্সেল হয়ে যায়, তাই হটাহটি প্ল্যান করাই ভালো। প্ল্যান করার পরের দিনই আদিনা যাবো বলে ঠিক করা হলো। আদিনা পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলায় অবস্থিত। আদিনা দক্ষিণ এশিয়ার একটি বৃহত্তম মসজিদ। বন্ধুরা মিলে ঘুরতে যাওয়ার মজাই আলাদা।
অনেকদিন হলেই বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া হয় না। তাই সকালে স্নান খাওয়া করে বেরিয়ে পড়লাম আদিনার উদ্দেশ্যে। আমাদের বাড়ি থেকে আদিনা বেশ অনেকটাই দূর হয় প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। বাসে যাবো....তাই সবাই একজায়গায় হয়ে নেই প্রথমে। তারপর বাস আসলে বাসে উঠে পরি।
আমরা মোট পাঁচজন যাচ্ছিলাম, একজন বন্ধু ছিল আর বাকি তিনজন আমার বান্ধবী ছিল। বাসে মজা করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাই। বাস থেকে নেমে রাস্তা পাড় হলেই আদিনা। আদিনার সামনে গিয়ে দেখি সেখানে ফোন নিয়ে ঢোকা নিষিদ্ধ ছিল। সে কী বিপদ! এই ব্যাপারটা আমাদের একদম অজানা ছিল, কারণ আগে সবাইকে ফোন নিয়ে ঢুকতে দিত। মনটা খারাপ হয়ে গেলো ছবি তুলতে পারব না। যাইহোক, ফোনগুলো একটা দোকানে জমা দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। ভেতরটা বেশ বড়ো, বেশ সুন্দর। মসজিদের দেওয়ালে নানা রকম নকশা এবং পোড়ামাটির কাজ দেখলাম। কিন্তু আফসোস একটাও ছবি তুলতে পারলাম না।
মসজিদের ভেতরটা ঘুরতে বেশ অনেকক্ষণ লেগে যায়, অনেকটাই বড়। মসজিদের ভেতরে সময় কাটানোর পর আমরা বেরিয়ে আসি। বেরোনোর পর আদিনা মসজিদ থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরে 'গোলঘর' নামে একটি জায়গায় যাই টোটো করে। সেখানে 'গোলঘর' দেখতেই যায়।
ভেতরে ঢুকে প্রথমেই নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার লিখতে বলল, লেখার পর.... আরও ভেতরে গেলাম তারপর তিনটে কবর স্থান দেখলাম। কবরস্থানের জায়গাটা বেশ শান্ত এবং নিঝুম ছিল। কবর স্থান থেকে বেরিয়ে আরও ভেতরে যাই.... সেই জায়গাটা আরও বেশি সুন্দর ছিল। অনেক ছবি তোলারও জায়গা ছিল। এখানে কিন্তু ফোন নিয়ে ঢুকতে দিচ্ছিল....।
তারপর আর কী! সবাই মিলে লেগে পরলাম ছবি তুলতে। সবাই সবার ছবি তুলে দিলাম। ভীষন মজা করলাম। এভাবেই বিকেল হয়ে গেলো.... বাড়ি ফিরতে হবে, বেশি রাত করা যাবে না।
তাই বেরিয়ে পড়লাম বাড়ির উদ্দেশ্যে... টোটো করে মেইন রোড পর্যন্ত আসলাম। তারপর সবারই খিদে পেয়ে গিয়েছিল, আর সেটাই স্বাভাবিক সারাদিন পর তো খিদে পাবেই। তারপর একটা ভালো রেস্টুরেন্টে ঢুকে ভাত খেয়ে নিলাম। খেতে খেতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। তারপর রেস্টুরেন্ট থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে বাসে উঠে পড়লাম। সেদিন বাসেও খুব ভিড় ছিল আর বাস কম চলছিল। বাড়ি পৌঁছতে পৌঁছতে প্রায় রাত আটটাই বেজে যায়।
আজ এখানেই শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।
TEAM 7






