ট্যুর সুন্দরবন - ৪র্থ পর্ব
প্রথমেই সকলকে নমস্কার। আশা করি আপনারা সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আজ শেয়ার করব সুন্দরবন গিয়ে কোথায় থাকলাম।
আগের পোস্টে যেখানে গল্প শেষ করেছিলাম সেখান থেকেই আজ আবার শুরু করছি। লঞ্চে খানিকক্ষণ রেস্ট নিয়েই আমাদের খেতে ডাকলো। তখন প্রায় দুপুর পেরিয়েই যাচ্ছে.... তাড়াতাড়ি চলে গেলাম খেতে, অনেকটা বেলা হওয়ায় বেশ খিদে পেয়েছিল। খাওয়া দাওয়া লঞ্চের উপরের কম্পার্টমেন্টে হচ্ছিল। উপরে উঠলাম দেখলাম বেশ সুন্দর ভিউ দেখা যাচ্ছে.... শুধু চারদিকে জল আর জল। কোথাও গিয়ে মনে হচ্ছে নদীর জল আর মেঘ এক হয়ে মিশে গিয়েছে।
এরপর খেতে বসে পরলাম। খাবারে অনেককিছুই ছিল ভাত, ডাল, মাছের তরকারি, চাটনি, পাপড় ভাজা ইত্যাদি। খাবার গুলো খুব সুস্বাদু হয়েছিল। খাবার খেয়ে উপরেই ছিলাম, বেশ হাওয়া দিচ্ছিল.... মন ভরে গেলো দেখে। নদীটি চলেই যাচ্ছে কিন্তু শেষ হচ্ছে না, সব দিকেই শুধু জল দেখতে পাচ্ছি। সেখানে আরও অনেকগুলো লঞ্চ দেখেছিলাম। আমাদের লঞ্চটিতে শুধু আমরাই ছিলাম। আমাদের জন্যই বুক করা হয়েছিল। তাই আরও বেশি ভালো লাগছিল অচেনা কেউ ছিল না।
নদীর অপরূপ দৃশ্য আর মনোরম হাওয়া উপভোগ করতে করতে আমরা পৌঁছে গেলাম সুন্দরবনের একটি জায়গায় যেখানে আমরা থাকব।
তারপর সবাই সবার ট্রলি নিয়ে নেমে পরলাম। তারপর সবাই মিলে পাঁচ মিনিটের মতো রাস্তা হেঁটে গেলাম। হেঁটে গিয়ে আমরা একটি হোটেলে উঠলাম তার নাম ছিল পাখিরালয়। ভেতরে ঢুকেই স্যার আমাদের চারজন করে গ্রুপ করে দিলো এবং ঘরের চাবি দিলো। আমাদের অনেকগুলো রুম লেগেছিল কারণ আমরা অনেকজন ছিলাম। প্রত্যেকটা রুমে চারজন করে।
এবার রুমে ঢুকলাম দেখলাম বেশ ভালোই। পরিষ্কার আছে, তারপর বাথরুম দেখতে গেলাম কারণ বাথরুম পরিষ্কার হওয়াটা খুব প্রয়োজন। দেখলাম বাথরুমটাও পরিষ্কার আছে। আমাদের রুমে দুটো বেড ছিল। আর প্রতিটি রুমেই এক্সট্রা করে ওয়াশরুম ছিল যেটা সবার খুব প্রয়োজন। তারপর আমরা ফ্রেশ হয়ে খেতে চলে যাই। ওই হোটেলটিতেই আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। দুপুরে যা দিয়ে খেয়েছিলাম সেই খাবার গুলোই ছিল। যেই লঞ্চটা আমাদের বুক করা আছে, সেই লঞ্চ থেকেই খাবার নিয়ে এসেছে, খেয়ে উঠে রুমে আসলাম। তারপর স্যার সবাইকে বলল পরের দিন সকালে আমাদের তাড়াতাড়ি উঠতে হবে, অন্য একজায়গায় যেতে হবে।
তাই আমরা তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরি। আমাদের ঘুমের ভীষণ প্রয়োজন ছিল কারণ আমরা ট্রেনেও ঠিক মতো ঘুমাতে পারিনি তারপর তো সারাদিন জার্নি করেছি, ক্লান্তও লাগছিল।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। আশা করছি গল্পটি আপনাদের ভালো লেগেছে। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।




