সরস্বতী পূজার প্যান্ডেল বানানো
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি আপনাদের মাঝে। আজ আমি সরস্বতী পূজার গল্প শেয়ার করব।
আগেই বলেছিলাম আমাদের পাড়াটা খুব একটা বড় নয় ছোট। এই ছোট পাড়াতেই আমরা ছোট করে সরস্বতী পূজা করি। পুজোয় সবাই নিজেদের সাধ্য মতো সাহায্য করে। পুজোর দুই, এক দিন আগে থেকেই ছোট-মোটো একটা প্যান্ডেল বানাতে শুরু করে দিতে হয়।
এবার ঠিক করেছিলাম পাখির বাসার প্যান্ডেল বানাবো। এখানে আমরা কয়েকজন মিলে প্যান্ডেল বানানোর দায়িত্ব নেই। এখানে আমি আর বিক্রমই বড় বাকি সবাই ছোট ছোট, তাই বিক্রম আর আমাকেই বেশি দায়িত্ব নিতে হয়।
পুজোর দুদিন আগে থেকে প্যান্ডেল বানানো শুরু করে দিয়েছিলাম। প্রথমেই খড় জোগাড় করে নেয় পাখির বাসা বানানোর জন্য। তারপর কয়েকজন মিলে বসে পরি বাসা বানাতে। কিছু খড় একজায়গায় করে, বাসার মতো বানিয়ে বেঁধে নিলাম, তারপর মাঝখানে পাখি ঢোকানোর জন্য গর্ত বানিয়ে নিলাম। তারপর মাটির ছোট ছোট পাখি বানিয়ে নেই। সেগুলিকে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে নেই। তারপর সাদা রং করে, ঠোঁট লাল রং করে নেই এবং চোখ একে নেই। পাখির বাসা গুলি টাঙানোর জন্য অনেকগুলো কঞ্চির দরকার। তাই আমরা বাঁশের থোপ থেকে অনেকগুলো কঞ্চি জোগাড় করি। কঞ্চিগুলি ঠিকঠাক জায়গা মত বসাই এবং পাখির বাসাগুলি সেখানে ঝুলিয়ে দিই।
ঠাকুরের পিছনেও আমরা কঞ্চি দিয়ে কিছু একটা বানাবো ভেবেছিলাম। প্রথমে সেটা ঠিক মতো হচ্ছিল না, তারপর বড়দের সহযোগিতায় সেটি করতে আমরা সফল হই। পাখিগুলির রং ঠিকমত শুকিয়ে গেলে আমরা বাসার মধ্যে বসিয়ে দিই। এইভাবে আমরা সরস্বতী ঠাকুরের প্যান্ডেল বানিয়ে নেই। আর খুব সহজেই কোনো খরচ ছাড়াই প্যান্ডেল বানিয়ে ফেলি। বানানোর পর যথেষ্ট সুন্দর লাগছিল। কিন্তু ছবিতে অতটাও ভালো লাগছে না যতটা নিজের চোখে দেখলে ভালো লাগবে। সবকিছুর মধ্যে আনন্দ লুকিয়ে থাকে, এই প্যান্ডেল বানাতে গিয়েও আমরা অনেক, অনেক আনন্দ করেছি।
তবে প্যান্ডেল ছাড়াও এখানে ছোটদের আরও একটা আবদার ছিল। আবদারটি হল একটি বড় আলপনা। ছোটদের জন্যই তো এই সরস্বতী পূজা তাই তাদের আবদার তো রাখতেই হবে। সেই কারণে পুজোর আগের দিন রাতে আমি আর বিক্রম মিলে আলপনাটা দিতে শুরু করি। আলপনাটা আমরা খড়ি মাটি দিয়ে দেই। আলপনাটি দিতে দিতে প্রায় আমাদের রাত দশটা বেজে যায়। সেই সময় ছিল শীতকাল, আর শীতকালে রাত দশটা মানে অনেকটাই রাত। আমরা তাড়াতাড়ি আলপনাটি শেষ করে বাড়ি ফিরে যাই।
এই আলপনা দেওয়া বা নতুন কোন কিছু বানানো এগুলো করতে আমার বেশ ভালো লাগে। আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। সবাই খুব ভালো থাকবেন। পরের পোস্টে আমি পুজোর দিনের গল্প শেয়ার করব। ধন্যবাদ।




Curated by: @pandora2010