সৃষ্টিকর্তার সিদ্ধান্ত সবাই মানতে বাধ্য।

in Incredible India4 months ago

IMG_20251019_180157.jpg

Hello Everyone,,,

আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। সকাল থেকে তেজ হীন রোদ হওয়ার পর দুপুরের দিকে বৃষ্টি আরম্ভ হলো। বাইরে যাওয়ার উপায় ছিলো না তাই ঘুমিয়েছিলাম। বৃষ্টির সময় কারেন্ট থাকে না তাই বেশ বিরক্ত লাগে।

যাই হোক, একটা প্রবাদ আছে,
সবাই তেলো মাথায় তেল দেয়।

কথাটা কিন্তু বাস্তব । যার যত আছে মানুষ তাকে তত বেশি দেয় সেটা সম্মান হোক বা অর্থ।
বিপরীতে অবহেলিত মানুষগুলো চারপাশের লোকজনের থেকে শুধু অপমান আর তাচ্ছিল্য পেয়ে থাকে।

সমাজের বিত্তবান মানুষগুলো অপরাধ করলেও সেটা সঠিক হয়ে যায় এটাই আধুনিক সমাজ।
নিজের অপরাধ লুকাতে নিম্নশ্রেণীর মানুষের উপর দোষ চাপানোর প্রবণতায় লিপ্ত শিক্ষিত সমাজ।

আচ্ছা, অন্যের কাছ থেকে নিজের অপরাধ লুকালে কি নিজের মন থেকে নিজের কুকর্মের অপরাধ বোধ মুছে যায়?
আমি মনে করি, ঈশ্বর আর নিজের কাছে কখনও মিথ্যা বলা যায় না!
নিজের খারাপ কাজের অপরাধবোধের বোঝা নিজেকে সারাজীবন বয়ে নিতে হবে। তবে সত্যি বলতে, আমাদের কয়জনই বা এটা ভাবি?

যদি সবাই এভাবে ভাবতাম তাহলে হয়ত সবার জীবনেট সৌন্দর্য খানিক ভিন্ন হতো।

তবে ঈশ্বরও হয় কখনও কখনও মুখ ফিরিয়ে নেন।
ঈশ্বর হয়ত আমাদের কর্ম অনুযায়ী ফল দেন তবে তার বিচার কখনও কখনও অনেক নিষ্ঠুর হয়ে থাকে।

IMG_20251002_100835.jpg

আজ আপনাদের মাঝে একটা গল্প শেয়ার করবো। এটা ঠিক গল্প নয়, এটা একটা ঘটনা!

ইতো মধ্যে আমি বহুবার শেয়ার করেছি, আমার মামা বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নদী।
নদীটা অনেক বড়। সত্যি বলতে, এপার থেকে ওপার পার হওয়ার সময় আমার ভীষণ বয় লাগে।

দিদিমা র কাছে ঘটনাটা শুনেছিলাম কয়েক বছর আগে। যেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

নদী দিয়ে প্রতিনিয়ত বড় বড় জাহাজ, লঞ্চ চলে আর এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া আমার মামা বাড়ি মংলা বন্দরের কাছে। আর যেকোনো বন্দরে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

আগে আমার মাাম বাড়ি ছিলো একদম নদীর পাশে। বাড়ির উঠানের সামনেই নদী।
কোনো এক বছরের শীতের সময় রাতে বাড়ির সবাই খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়েছে।

মাঝ রাতে হঠাৎ চিৎকার শোনা যায়, সবাই তাড়াতাড়ি উঠে নদীর পাড়ে গিয়ে দেখে নদীতে একটা লঞ্চ ডুবে যাচ্ছে।

মূলত একটা দূর্ঘটনার কারনো এমন হয়েছিলো।
সময়টা যেহেতু শীতকাল তাই চারপাশ কুয়াশার জন্য ভালো দেখা যাচ্ছিলো না তাই সেই মুহুর্তে জাহাজ চালানো মুশকিল।

IMG_20250930_202355.jpg

কুয়াশার কারনে অন্যান্য জাহাজের সিগনাল ভালো ভাবে দেখা যাচ্ছিলো না। যার ফলস্বরূপ একটা কার্গো জাহাজের সাথে লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। যেকারণে লঞ্চ টা ডুবে যায় আর কার্গোর ড্রাইভার জোরে জাহাজ চালিয়ে পালিয়ে যায়।

এই দূর্ঘটনায় অনেক মানুষ মারা যায় কারন রাত ছিলো এজন্য অধিকাংশই লঞ্চের মধ্যে ঘুমাচ্ছিলো।
তবে সেই লঞ্চে একজন মা তার সন্তানকে নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছিলো।

দূর্ঘটনা ঘটেছে এবং লঞ্চ ডুবে যাচ্ছে এই মুহুর্তে সে কোনো মতে লঞ্চ থেকে বেরিয়ে এসেছে। যেহেতু লঞ্চ কুলের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলো তাই সাঁতরে সবাই পাড়ে উঠেছে কিন্তু মহিলাটা পাড়ে এসে দেখে তার কোলে তার সন্তান নেই বরং হাতে সন্তানের জুতা খুলে চলে এসেছে। এই ঘটনাটা শুনে আমার টাইটানিক জাহাজের কথা মনে পড়ে।

দাদু দিদিমার কাছে শুনেছি এই মহিলার আগেও বেশ কয়েকটা সন্তান কোনো না কোনো ভাবে মারা গিয়েছিলো।
মহিলার হাসবেন্ড সেনাবাহিনীতে কাজ করতো। রাতে সবাই মামা বাড়ির ওখানে থাকে।

সন্তান হারানোর পর সে কাঁদতে কাঁদতে পাগল হয়ে যাওয়ার অবস্থা। খবর শুনে পরদিন তার হাসবেন্ড চলে আসো আর তার কাছ থেকেই এসব ঘটনা শুনেছিলো সবাই।

তাই মাঝে মাঝে ভাবি,
যার জীবনে খারাপ সময় আসে সেটা যেন শেষ হতেই থাকে না। ঈশ্বরের উপর কারো হাত নেই। তাই তার সিদ্ধান্তকে সবাই মেনে নিতে বাধ্য যত কষ্টই হোক না কেন!

Sort:  
Loading...

1000068411.png

Curated by : @lirvic

Coin Marketplace

STEEM 0.06
TRX 0.29
JST 0.050
BTC 70699.72
ETH 2057.98
USDT 1.00
SBD 0.46