Better Life With Steem || The Diary game || 19 December 2025
আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন। আমিও মোটামুটি ভালো আছি। ভালোবাসা দিবস পার হয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে, আশা করি, সবাই নিজের পরিবারের পাশে থেকে সুন্দর সময় পার করেছেন। সবাইকে ভালোবাসা দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। ভালোবাসার মতো পবিত্র ভাবনা বোধহয় আর হয় না। তবে কতজনই বা ভালোবাসাকে পবিত্র মনে করে সেটা সত্যি ভাববার বিষয়।
ভালোবাসার নামে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে সবাই। যাই হোক, আজ আমি বেশ অনেক দিন আগের একটা দিনের কার্যক্রম তুলে ধরেছি।
আজ অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠলাম। আজ বাড়িতে অনেক লোকজন এসেছে কাজ করতে। তাই তাদের সাথে কাজে হাত লাগাতে হবে।
সকালে উঠে মাঠে যাচ্ছিলাম। এখনও কুয়াশা পুরোপুরি কাটে নি, তবুও শীতকে উপেক্ষা করে যে যার মতো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। পাখিরা যেমন সকাল হতেই খাবার সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাইরে বেরিয়ে পড়ে, মানুষের জীবনটাও ঠিক তেমন।
সুস্থ জীবিকার জন্য ক্লান্ত শরীর নিয়েও পরিশ্রম করতে হয়।
রাস্তার পাশে দেখা মিলল একটা মৃত্যুপ্রায় গাছের। দেখে মনে হচ্ছে, নিজের অস্তিত্বকে ঠিকিয়ে রাখার জন্য নিজের সব টুকু দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের জীবনের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়ে থাকে। মৃত্যুর আগপর্যন্ত প্রতিটা মানুষ নিজের অস্তিত্বকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। নিজের পরিবার পরিজনের খনিকের ভালোবাসা আর মায়া কাটিয়ে একদিন সবার অস্তিত্বের মৃত্যু ঘটে যায়।
আচ্ছা- আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কয়জনের নাম জানি আমরা??
সবাই সবার দাদুর নামটা ভালোভাবে জানে হয়ত কিন্তু দাদুর বাবার নাম?? এটাও হয়ত কিছু সংখ্যক মানুষ জানে। তবে দাদুর বাবার বাবার নাম?
এখান থেকেই হয়ত অস্তিত্বের বিলীন হতে শুরু করেছে। একদিন আমাদেরও ভুলে যাবে প্রতিটা মানুষ!
একাকী, নিঃসঙ্গ আর কারো প্রতি অভিযোগহীন গাছটাকে দেখে এসবই ভাবছিলাম আর নিজের কাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।
বিগত দিন বাবা আর আমি মাঠে এসে ধানের আঁটিগুলো বেঁধে রেখে গিয়েছিলাম যাতে করে আজকের কাজটা সহজ হয়। সকাল সকাল এসে লোকজন ধানের বোঝা মাথায় করে রাস্তায় আনতে আরম্ভ করলো। আমি মাথায় বোঝা বইতে পারি না তাই অন্যান্য কাজগুলো যেমন, ধানের আটি গুলো এগিয়ে দেওয়া ও বোঝা মাথায় তুলে দেওয়া এসব করছিলাম।
একটা মানুষ এত ভারি বোঝার ভারে যতটা না হাঁপিয়ে যায় তার থেকে বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে পরিবারের দায়িত্বের ভারে। যেখান থেকে মুক্তি মেলে না মৃত্যুর আগপর্যন্ত।
আমি দুপুর ২ টার পর বাড়িতে চলে এসেছিলাম। তারপর স্নান করে খেয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নিলাম। বিকালে স্রেষ্টা আমাদের বাড়িতে এসে কামরাঙা খেতে চাইলো। আমাদের বাড়ির কামরাঙ্গা পাখিতেই বেশিরভাগ খেয়ে ফেলে। মা মাঝে মাঝে খেলেও আমি কিংবা বাবা খুব একটা খাইনা।
সন্ধ্যার পর ব্যাটমিন্টন খেলতে গিয়েছিলাম। আজ অন্যান্য দিনের তুলনায় খেলতে যাওয়ার জন্য এক অন্য রকম উৎসাহ কাজ করছিলো কারন বিগত দিন নতুন ব্যাট কিনে এনেছিলাম। তাই তো সারা দিন মাঠে কষ্ট করলেও ঘন্টা খানেকের জন্য ব্যাডনিন্টন খেলতে গিয়েছলাম। এভাবেই আমি আমার দিনের কার্যক্রম শেষ করেছিলাম।




