কার্তিক পূজা!
আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন।
আজ কার্তিক পূজা। আমাদের বাড়ির পাশেই কার্তিক পূজা হয় বেশ জাঁকজমক করে। আগে থেকেই প্লান করেছিলাম কার্তিক পূজাটা এবার ভালো ভাবে উপভোগ করবো কারন অন্যান্য বছর গুলোতে খুলনাতে থাকার কারন সেভাবে যাওয়া হতো না পূজায়।
তবে আজ সকালেই মুডটা খারাপ হয়ে গেলো।
সকালে ঘুম থেকে ফোনটা চার্জে দিয়েছিলাম তখন সব কিছু ঠিকঠাক ছিলো। খানিক বাদে এসে ফোনটা হাতে নিতেই মন খারাপ হয়ে গেলো কোনো ভাবে ফোন চালু করতে পারছি না, বন্ধ হয়ে গেছে।
অনেক সময় চেষ্টা করার পর ফোন খুলেছে কিন্তু ডিসপ্লে পুরোটা সবুজ রঙের দাগ পড়ে গেছে।
এটা দেখে পুরাই মাথায় হাত আমার! না ডিসপ্লে তে কোনো চাপ লেগেছে আর না অন্য কিছু হয়েছে। কোনো কারন ছাড়াই এমন টা হয়েছে। কি আর করার, তখনই স্নান করে খেয়ে নিলাম খুলনা ফোন ঠিক করতে যাবো বলে।
২০২২ সালের মাঝামাঝিতে এই ফোনটা কিনেছিলাম। ইলেকট্রনিক জিনিসের সমস্যা যেকোনো সময় হতে পারে। যাই হোক, ফোন ঠিক করে বাড়িতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো।
সত্যি বলতে, বাড়িতে এসে আবার কার্তিক পুজায় যেতে একটুও মন চাইছিলো না। তবে বাড়ির পাশে পুজা তাই না গেলেও ভালো লাগছিলো না তাছাড়া বন্ধুরা সবাই ফোন দিচ্ছিলো।
এখন বন্ধুদের সাথে আগের মতো আড্ডা দেওয়া হয় না তবে এই ধরনের অনুষ্ঠানে গেলে বন্ধুদের সাথে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ হয়, সত্যি বলতে এই সুযোগটা মিস করতে মন চায় না।
আসলে পুজাটা হচ্ছে আমার বন্ধু কৌশিকের বাড়ির পাশে। কৌশিক আমার ছোটোবেলার বন্ধু, আপনারা যারা আমার পোস্ট পড়েন তারা হয়ত ওর কথা জানেন। কৌশিক সকাল থেকেই ফোন দিচ্ছে যাওয়ার জন্য।
আমাদের বাড়ির পাশের কয়েকজন একসাথে হয়ে সন্ধ্যার পর রওনা দিলাম, খুব বেশি দুরে নয় তাই হেঁটেই চলে যাই।
প্রথমে মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করলাম। তারপর মন্দিরের সামনে কিছু বসে রইলাম সবাই।
আশেপাশের কয়েক গ্রামের মধ্যে এখানেই সব থেকে বড় আয়োজন করে কার্তিক পুজা করা হয়। তাই অনেক লোকের ভীড় হয় এখানে।
কিছুক্ষণ পর ওখান থেকে বেরিয়ে মেলার দিলে যাই। আসলে আমাদের সাথে কয়েকজন বান্ধবী ছিলো, ওরা ফুসকা খেতে চাচ্ছিলো।
আমার আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে, আমার জন্য কৌশিক আর বান্ধবীরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলো। সবাইকে নিয়ে মেলার ভিতর গিয়ে প্রথম ফুসকা অর্ডার করলাম।
ফুসকা খেতে খেতে আরও কয়েকজন বন্ধুর সাথে দেখা হলো।
অধিকাংশই মন্দিরের সামনে বসে থাকার চেয়েও বেশি পছন্দ করে মেলায় ঘুরতে।
অনেক দিন বাদে সবাই একসাথে অনেকক্ষণ আড্ডা দিতাম।কত শত জমানো কথা আর আড্ডার স্মৃতিগুলো লেখা থাকবে সারা জীবন।
গায়ের পোশাক যতদিন যায় ততই নষ্ট হতে থাকে কিন্তু সম্পর্ক যত পুরানো হয় ততই মধুর হতে থাকে।





