খলিফা উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ)
প্রথম অধ্যায়
দ্বিতীয় খলিফা
উমর ইবনুল খাত্তাব রা.
এক. জাহিলি যুগের উমর
তিনি বনু কা'আব ইবনু লুওয়াই গোত্রের সন্তান উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনু আবদিল উজ্জা। বংশীয়ভাবে কুরাইশি। হস্তিবর্ষের ১৩ বছর পর তাঁর জন্ম হয়। তাঁকে কুরাইশের প্রথমসারির একজন নেতা মনে করা হয়। কুরাইশরা কখনো যুদ্ধে জড়ালে বা অন্যদের সঙ্গে তাদের লড়াই হলে তিনিই তাদের দূত ও মধ্যস্থতাকারী ছিলেন। কুরাইশদের নিয়ে কেউ গর্ব করলে কিংবা তাদের প্রতি বিরাগ দেখালে তিনিই হতেন তাদের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দু।
কা'আব ইবনু লুওয়াই তথা সপ্তম পুরুষে গিয়ে রাসূল (স.)-এর বংশপরিক্রমার সঙ্গে তাঁর বংশধারা মিলিত হয়। মায়ের দিক থেকে এ ধারার সম্মিলন ঘটি ষষ্ঠ পুরুষ তথা মুররা ইবনু কা'আব পর্যন্ত পৌঁছে।
বাল্যকালে তিনি পিতার সঙ্গে মেষ চরাতেন। তারপর ব্যবসার কাজে নিযুক্ত হয়ে সুদূর শামে যাওয়া-আসা করতেন। পরিবারে যেমন তার প্রভাব ও মর্যাদা বজায় ছিল, তেমনই গোত্রেও তাঁকে ব্যক্তিত্ববান পুরুষ জ্ঞান করা হতো। ব্যক্তি হিসেবে তিনি প্রচণ্ড দাপুটে, প্রতাপ ও প্রতিপত্তিশালী মানুষ ছিলেন।
ইসলামগ্রহণের আগে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তিনি অত্যধিক কঠোর ছিলেন। তাদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে তাঁকে বুকস্বভাবী পাওয়া যেত। কখনো তাদের অনেককে তিনি এমন শাস্তি দিতেন, যাতে পাহাড়ও কেঁপে উঠত। এর বিভিন্ন কল্পনা করলে পাথরও গলে পড়ত। একবার এক দাসীকে শায়েস্তা করলেন। তাঁকে মারতে মারতে যখন নিজেই বিরক্ত হয়ে গেলেন, তখন বললেন, 'আমি তোর কাছে ক্ষমা চাই, বিরক্ত না হলে কিছুুতেই তোকে ছাড়তাম না।’ জবাবে নির্যাতিত দাসী বলেছিল, ‘আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে অনুরূপ আচরণ করুন।’ অবশ্য পরবর্তীকালে আবু বকর রা. দাসীটি ক্রয় করে মুক্ত করে দিয়েছিলেন।
দুই, উমরের ইসলামগ্রহণ
লাগাতার দুটি বছর উমর দুবল মুসলমানদের সঙ্গে এেমন রূখ, রুক্ষ ও কঠোর আচরণ করেছিলেন। তার মধ্যে প্রথম পরিবর্তন দেখা দেয় মুসলমানদের হিজরতের সূচনায়, যখন তিনি দেখলেন একদল মানুষ বিশ্বাসের প্রশ্নে বাড়িঘর, পরিবার, মাতৃভূমি ও স্বজনদের ছেড়ে ভিনদেশে চলে যেতে প্রস্তুত, তখন মনস্তাত্ত্বিকভাবে তিনি মারাত্মক আঘাত পান। দুদিন আগেই তারা যে বিশ্বাস গ্রহণ করেছে, যে বিশ্বাসের কারণে পুরো মক্কা ফেটে পড়ছে তদের ওপর। ফলে তারা যখন বাড়ি ছেড়ে সুদূরের দিকে চলে যাচ্ছিল, তখন উমর ভাবসাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে ওদের প্রতি তাকিয়ে বললেন, ‘যাও, শান্তিতে থেকো!’
তবে যা মনে হয়, মুসলিমদের প্রতি উমরের মন রহম ও দরদে গলে আসেনি; বরং তিনি ভাবছিলেন, এই মানুষগুলো মক্কা ছেড়ে চলে যাচ্ছে, যে মক্কার জিয়ারতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লোকেরা জীবনের সবচেয়ে অমূল্য সম্পদও ব্যয় করে ফেলে। তখন তার বিশ্বাস হয়, এমন কাজ একমাত্র তারাই করতে পারে, যাদের হৃদয়ে মক্কা ও মক্কার সম্প্রদায় সম্পদের চেয়েও মূল্যবান কিছু আছে। এ জন্য তারা নিজেদের ভূমি ছেড়ে দূরপরবাসে পাড়ি জমানোর সাহস করছে। একমাত্র সেই আকিদাকে সম্বল করে সবকিছুর মায়া ছেড়ে দিচ্ছে, যার উপস্থিতি তাদের সম্পূর্ণ জীবনজুড়ে; যা একদিন মানবজীবনের সবচেয়ে আরাধ্য অর্জনের চেয়েও তাদের অধিক কল্যাণের অধিকারী করবে।
রাসূল প্রত্যাশা করতেন, আল্লাহ যেন দুই উমরের কারও দ্বারাই ইসলামকে সম্মানিত করেন—হয় খাত্তাবের ছেলে উমর কিংবা হিশামের ছেলে আবু জাহল। এ দুজনের কেউ ইসলামে আসুক, সে জন্য রাসূল দুআ করে বলতেন, ‘আল্লাহ, আপনি উমর ইবনুল খাত্তাব ও আবু জাহল ইবনু হিশামের মধ্যে যে আপনার কাছে অধিক প্রিয়, তার মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন!’
আল্লাহ তার নবীর আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। যেহেতু উমর ইবনুল খাত্তাব তার কাছে অধিক প্রিয় ছিলেন, তাই তিনি তার কাছে রাসুলের দাওয়াত পৌঁছিয়েই তাকে ইসলামের ছায়াতলে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তারিখুত তারাবা : ৫/১৭
ইবনু হিশাম : ১/২৭৮।
তারিখুল খুলাফা, সূতি : ১০৯।
ইতিহাসবিদরা উমরের ইসলামগ্রহণ-প্রসঙ্গেঙ্গ অনেক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। প্রতিটি ঘটনাকে সত্য ও প্রমাণিত জ্ঞান করলেও এগুলোর মধ্যে শুভসমন্বয় ঘটানোর তাগিদে বলা যায়, এর কিছু ঘটনা আদতে উমরের হৃদয়ে ইসলামের বীজ বপনের সূচনা ঘটিয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সংক্ষিপ্ত ও বাস্তবতার নিকটবর্তী ঘটনা মনে হয় সেই বর্ণনা, যেটি ইবনু হিশাম রাহ, বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একবার উমর রা. রাসুল -কে হত্যার উদ্দেশ্যে বের হলে পথিমধ্যে একজনের সঙ্গেঙ্গ তাঁর দেখা হয়, যিনি তাঁকে তাঁর বোন ফাতিমা ও বোনজামাই সায়িদ ইবনু জায়েদের ইসলামগ্রহণের ব্যাপারে সংবাদ দেন। তখনই উমর সিদ্ধান্ত বদলে বোনের বাড়ির দিকে এগিয়ে যান। বিবাদ ও বিতর্ক শেষে তাঁদের কাছে একটি ক্ষুদ্র বই দেখেন। সেটি হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলে বুঝতে পারেন, তাতে কুরআনেরই কিছু আয়াত লিপিবদ্ধ রয়েছে। আয়াতগুলো পড়ে ইসলামের জন্য তাঁর বক্ষ প্রসারিত হয়। উমর তখন বলে ওঠেন, 'আমাকে মুহাম্মাদের কাছে নিয়ে চলো।' তাঁরা তাঁকে মুহাম্মাদের ঠিকানা জানালে তিনি তাঁর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।
আমি বলব, এ ঘটনাটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবানুগ। এটিই উমরের স্বভাব-অনুকূল ও চরিত্রের সঙ্গে মানানসই। তা ছাড়া অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও জীবনীকারদের মুখেও এ ঘটনার ছড়াছড়ি অধিক। বাকি বর্ণনাগুলোর ব্যাপারে আমরা যেমন বলেছি যে, সেগুলো হতে পারে এ ঘটনার ভূমিকা এবং উমরের ইসলামগ্রহণের সূচনাকার, তবে মূল ঘটনা কিছুতেই নয়।
তিনি ইসলামগ্রহণ করলে রাসুল তাঁকে 'ফারুক' উপাধি দেন। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি ইসলামগ্রহণের পর আল্লাহর রাসুলকে বলি, 'আমরা কি সত্যের ওপর নেই?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ; অবশ্যই।' আমি বলি, 'তাহলে এত লুকোচুরি কীসের?' এই বলে আমি ও হামজা ক্ষুদ্র দুটি দল নিয়ে মসজিদে যাই। কুরাইশের লোকেরা তখন আমাদের দিকে তাকালে আমরা প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দিই। এতে তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তখনই রাসুল তাঁকে 'ফারুক' উপাধি দেন। কেননা, তিনিই যেহেতু ইসলামকে প্রকাশ্যে এনেছেন এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
আসমানবাসীরাও উমরের ইসলামগ্রহণে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। জিবরিল আ. রাসুলের কাছে এসে এ ঘটনাকে সুসংবাদ বলে অভিহিত করেন।" আল্লাহ তাআলাও পবিত্র কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করে বলেন, 'হে নবি, আপনার জন্য আল্লাহ ও আপনার অনুসারী মুমিনরাই যথেষ্ট।' [সুরা আনফাল: ৬৪]
- সুনানু ইবনি মাজাহ: ১০৩।
উমর রা. ইসলামগ্রহণ করেন হাবাশায় হিজরতের পর, নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছর। ইমাম সুয়তি বলেন, 'নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ২৭ বছর।' তবে ইবনু সাআদ বলেন, 'উমর রা. নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছর ইসলাম গ্রহণ করেছেন ঠিক, তবে তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬ বছর।'
কিন্তু এ দুটি মত এ কথার সঙ্গে পুরোপুরি বৈপরীত্য রাখে যে, হস্তিবর্ষের ১৩ বছর পর উমরের জন্ম হয়েছিল। যদি এ তথ্য সঠিক হয়, তাহলে ইসলামগ্রহণের সময় উমরের বয়স হওয়ার কথা ৩৩ বছর। কেননা, রাসুল ও উমরের জন্মসময়ের মধ্যে ১৩ বছরের পার্থক্য ছিল। সে হিসেবে নবুওয়াতের ষষ্ঠ বছর ইসলাম গ্রহণ করলে উমরের বয়স তখন ৩৩ বছরই হওয়ার কথা।
এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয় হলো, উমরের জন্ম ও ইসলামগ্রহণের তারিখ নিয়ে ইতিহাসবিদদের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত আছে। তাই দুটি মত বা কোনো একটাকে অবমূল্যায়ন করা শোভনীয় নয়। তবে আমার যা মনে হয়, দুটি তারিখই সঠিক এবং যৌক্তিক। মতবিরোধ তো এখানে যে, ইসলামগ্রহণের সময় তাঁর বয়স কত ছিল। এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, সুয়ুতি ও ইবনু সাআদ উমরের যে বয়স উল্লেখ করেছেন, তা তাঁর ইসলামগ্রহণের সময়কার বয়স নয়; বরং রাসুলের নবুওয়াতলাভের বছর তাঁর বয়স কত ছিল, তাঁরা সেটাই বলতে চেয়েছেন। এভাবে চিন্তা করলে দুই ঘটনার দুটি তারিখই সঠিক মনে হয়। তখন ইসলামগ্রহণের সময় তাঁর বয়সও ৩৩ বছরে দাঁড়ায়। তেমনি মৃত্যুকালেও তাঁর বয়স ৬৩ বছর দেখা যায়।
উমর রা.-কে শুরুর দিকে ইসলামগ্রহণকারী সাহাবিদের মধ্যে গণ্য করা হয়। বিশুদ্ধ বর্ণনামতে, তাঁর আগে কেবল ৪৫ জন পুরুষ আর ১১ জন মহিলা ইসলামগ্রহণ করেছিলেন। আল্লাহ তাআলাই উত্তম জানেন।
তিন. উমরের দৈহিক বিবরণ
উমর রা. দীর্ঘ শারীরিক গড়নের অধিকারী লম্বা পুরুষ ছিলেন। মাথার সামনের দিকের কিছু চুল ঝরে গিয়েছিল। ছিলেন দাপুটে স্বভাবধারী, গোত্রের সচ্ছল মানুষ। চোখ ছিল সুনিবিড় সুন্দর। গায়ের রং ছিল কিছুটা মেটে। অবশ্য অনেকের মতে, তাঁর গায়ের রং লাল-সাদা মিশ্রণের লালচেপ্রবণ। দাঁত ছিল উজ্জ্বল, সাদা ও সুন্দর। তিনি দাড়িতে খেজাব আর মাথায় মেহেদি ব্যবহার করতেন। তবে এ ব্যাপারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য হলো, তাঁর দেহের রং তামাটে ছিল।
১৪২৩ বিদায়
ইবনু কাসির: ৬/১৩৮।
চার, উমর কেন 'উমর'
ইমাম বুখারি রাহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন; রাসুল বলেছেন, 'তোমাদের আগের উম্মতদের মধ্যে ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ হতেন। যদি আমার উম্মতে এমন কেউ থাকে, তো সে নিশ্চয় উমর।"
উকবা ইবনু আমির রা. থেকে ইমাম তিরমিজি ও হাকিম রাহ, বর্ণনা করেন; রাসুল বলেছেন, 'আমার পরে যদি কেউ নবি হতো, তবে উমর হতো।"
উমর বলতেন, 'আল্লাহর জন্য সত্যপ্রকাশে কখনো সমালোচনার ভয় করতে নেই।' এ জন্য নবিজি বলতেন, 'আল্লাহ তাআলা সত্য রেখেছেন উমরের জবানে। সে তা বলে বেড়ায়।"
ইবনু উমর রা. থেকে ইমাম বাজ্জার রাহ, বর্ণনা করেন; রাসুলী বলেছেন, 'উমর জান্নাতিদের চেরাগ।"
উমর রা. ছিলেন মুসলিমদের জন্য ফিতনার বিপরীতে দুর্লঙ্ঘ দেয়াল। রাসুল ইঙ্গিত করেই বলেছিলেন, 'এই ব্যক্তিই ফিতনার কপাট। যতদিন সে তোমাদের মধ্যে জীবিত থাকবে, ততদিন তোমাদের ও ফিতনার মধ্যে শক্ত কপাট হয়েই বেঁচে থাকবে।"" এদিকে
ইবনু আসাকির রাহ, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণনা করেন; রাসুল বলেছেন, 'আসমানের ফেরেশতারা উমরকে সম্মান করেন; আর জমিনের শয়তানরা তাঁকে দেখলে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে পালায়।
উমরের সঙ্গে কুরআনও চার জায়গায় একমত প্রকাশ করেছে। যেমন:
১. বদরের বন্দিদের ব্যাপারে তিনি রাসুল -কে ইঙ্গিত করেছিলেন, যেন তাদের হত্যা করে ফেলা হয়। কিন্তু রাসুল আবু বকরের পরামর্শ গ্রহণ করে মুক্তিপণ নিয়ে তাদের মুক্ত করে দিয়েছিলেন। তবে পরে কুরআন উমরের মতামতকে সমর্থন করে জানায়,
নবির পক্ষে বন্দিদের নিজের কাছে রাখা উচিত নয়; পাছে না দেশময় প্রচুর রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। [সুরা আনফাল: ৬৭)
মনের দিকের । চোখ ছিল তাঁর গায়ের শুনি দাড়িতে নির্ভরযোগ্য
সহিহ বুখারি: ৩৪৫৯।
সুনানুত তিরমিজি: ৩৬৮৬; মুসতাদরাকু হাকিম: ৪৪৯৫।
সুনানু ইবনি মাজাহ। ১০৮।
মাজমাউজ জাওয়ায়দ: ১৪৪৬১।
আল-মুজামুল কবির: ৮৩২১।
কানজুল উম্মাল: ৩২/৭২৩।
২. পর্দার বিষয়ে উমর ইঙ্গিত করেছিলেন, যেন রাসুল নারীদের হিজাব পরার নির্দেশ দেন। কেননা, নবিপত্নীদের ঘরে তখন নেককার ও বদকার সবরকম লোকেরা আসা-যাওয়া করত। পরে উমরের মতামতের সঙ্গে একমত হয়ে কুরআন জানায়,
হে মুমিনরা, নবির ঘরে (অনুমতি ছাড়া) প্রবেশ করো না। অবশ্য তোমাদের আহার্যের জন্য আসার অনুমতি দেওয়া হলে ভিন্ন কথা। তা-ও এভাবে আসবে যে, তোমরা তা প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষায় বসে থাকবে না, বরং যখন দাওয়াত করা হয়, তখন যাবে। তারপর যখন তোমাদের খাওয়া হয়ে যাবে, তখন নিজ নিজ পথ ধরবে, কথাবার্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে না। বস্তুত তোমাদের এ আচরণ নবিকে কষ্ট দেয়; কিন্তু তিনি (তোমাদের তা বলতে) সংকোচবোধ করেন। তবে আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না। (তেমনিভাবে) নবির স্ত্রীদের কাছে তোমাদের কিছু চাওয়ার থাকলে পর্দার
আড়াল থেকে চাইবে। (সুরা আহজাব। ৫৩)
হিসেে
ইসলায় সাইয়ি প্রথম বেশি আরও আন্তর্য ঘটনা ভারস অনা ছায়াপ এক
৩. মদ হারামের বিষয়ে উমর রা. দুআ করে বলেছিলেন, 'আল্লাহ, আপনি মদের বিষয়ে পরিষ্কার বিধান আমাদের জানিয়ে দিন।' তখন পবিত্র কুরআনের এ আয়াত নাজিল হয়,
হে মুমিনরা, মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও জুয়ার তির এ সবই অপবিত্র, শয়তানি কাজ। সুতরাং এসব পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পারো। (সূরা মায়িদা: ৯০)
অতিধি
৪. মাকামে ইবরাহিমের ব্যাপারে তিনি একবার বলেছিলেন, 'আল্লাহর রাসুল, আপনি যদি মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের জায়গা বানিয়ে নিতেন, উত্তম হতো।' তখন পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জানান,
অতীয়
১৪২৫
(সেই সময়কে স্মরণ করো) যখন আমি বায়তুল্লাহকে মানুষের জন্য এমন স্থানে পরিণত করি, যার দিকে তারা বার বার ফিরে আসবে এবং যা হবে পরিপূর্ণ নিরাপত্তার স্থান। তোমরা 'মাকামে ইবরাহিম'-কে সালাতের স্থান বানিয়ে নাও। এবং ইবরাহিম ও ইসমাইলকে গুরুত্ব দিয়ে বলি যে, তোমরা উভয়ে আমার ঘরকে সে-সকল লোকের জন্য পবিত্র করো, যারা (এখানে) তাওয়াফ করবে, ইতিকাফে বসবে এবং বুকু ও সিজদা আদায় করবে। (সুরা বাকারা: ১২৫)
৫. ইমাম বুখারি রাহ, আরেকটি ঘটনাকে এ অধ্যায়ে সংযুক্ত করেছেন। ঘটনাটি হলো, রাসুল-এর স্ত্রীরা যখন আত্মমর্যাদার প্রশ্নে তাঁর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হন, তখন উমর তাঁদের বলেছিলেন, '(এমন হলে) অচিরেই হয়তো আল্লাহ তোমাদের বিদায় করে তোমাদের চেয়ে উত্তম নারী তাঁকে দান করবেন।' পরে আল্লাহও এ প্রসঙ্গে আয়াত নাজিল করেন।
আল-মুজামুল আওসাতে ইমাম তাবরানি রাহ. আবু সায়িদ খুদরি রা. থেকে বর্ণনা করেন; রাসুল বলেছেন, 'যে উমরের সঙ্গে শত্রুতা করে, সে যেন আমার সঙ্গেই শত্রুতা করে। যে তাঁকে ভালোবাসে, সে যেন আমাকেই ভালোবাসে। আল্লাহ তাআলা মানবকুলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ে ব্যাপকতার সঙ্গে গৌরব করলেও উমরকে নিয়ে তিনি বিশেষ গৌরব করেন। দুনিয়াতে আল্লাহ যত নবি পাঠিয়েছেন, ইলহামপ্রাপ্ত কেউ না কেউ তাঁদের সহযোগী হতো। আমার উম্মতে যদি এমন কেউ থাকে, তাহলে সে উমর।' উপস্থিত সাহাবিরা বললেন, 'এই ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যাপারটা কেমন?' রাসুল বললেন, 'তাঁর জবানে ফেরেশতারা কথা বলেন। '১২
১২ আল-মুজামুল আওসাত: ৬/৭২৬।
চলমান----!!