অযুহাত নয়, উদ্যোগী হতে হবে!

in আমার বাংলা ব্লগ2 months ago

man-7803658_1280.jpg

copyright free image from pixabay

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। তো সুস্থ্য থাকাটাই সবচেয়ে গুুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি সুস্থ্য না থাকলে কোনো কিছুই আপনার কাছে ভালো লাগবে না। তো আমরা এখন কোনে কাজে যথাযথ ফোকাস দিতে পারি না। আমাদের মেমরি এখন শর্টটার্ম জিনিস মনে রাখতে পছন্দ করে। কঠিন কোনো জিনিস মেমরিতে থাকে না। এটার কারণ আসলে কি? আমাদের জীবনযাত্রা যত উন্নত হচ্ছে ততই যেন আমরা স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে যাচ্ছি। স্মার্টফোন ছাড়া আমাদের একমুহূর্ত যেন চলে না। এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেনস আমাদের সবকিছুই সহজ করে দিয়েছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে যত ধরনের আইডিয়া আমাদের দরকার হয় সবই আমরা চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছি সহজেই!

এটার ব্যবহার যে ভালো করছে আমাদের বিষয়টা এমনও নয়। ভালো করছে ঠিক আছে তবে এটার উপরে অধিকমাত্রায় নির্ভরশীলতা আমাদের থিংকিং ক্যাপাবিলিটি কমিয়ে দিচ্ছে। আমরা আগে কোনো একটা আইডিয়া খুজঁতে হলে নিজে চিন্তা করে খুজেঁ নিয়ে আসতাম। কিন্তু এখন আইডিয়া খোজাঁর জন্য আমরা চ্যাটজিপিটি ইউজ করি। এতে করে আমাদের ক্যাপাসিটি কমে যাচ্ছে, সৃজনশীলতা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। তো সবকিছুরই একটা লিমিটেশন থাকে। এ বিষয়গুলো র ও রয়েছে, সে বিষয়গুলো বিবেচনা করে তবেই করা দরকার। আসলে তথ্য প্রযুক্তির এ দুনিয়ায় আমাদের কাজের প্রতি অনিহা এখন বেশি কাজ করে।

আমাদের মাইন্ড আমাদের আগেই সিগনাল মেরে দেয় কাজটা না করার জন্য! আমরা যখন কাজটা করি না তখন নিজের উপর দোষ দেয় না বরং করি কি এটাকে চাপা দেয়ার জন্য অযুহাত দেয়! আপনি কাজটি পারতেন কিন্তু সময়ের কারণে করতে পারেননি! সময় কিন্তু সবার জন্যই একই! একজন ব্যক্তি যদি কাজটি করতে পারে তাহলে আপনি কেন পারবেন না। আসলে আমরা নিজেকে বড় ভাবী অযুহাত দেয়ার মাধ্যমে। মনে করি কাজটি তো করতেই পারতাম কিন্ত করেনি! বিশেষ করে স্টুডেন্টদের মাঝে অযুহাতের বিষয়টা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায়। ধরেন, আপনি একজন টিচার। আপনি একটা স্টুডেন্টকে পড়ান। তাকে কিছু বাড়ির কাজ দিয়েছেন।

পরদিন সে নিয়ে আসার কথা। কিন্তু আপনি যে বাড়ির কাজগুলো দিলেন সেগুলো কিন্তু সে নিয়ে আসেনি। কারণ কি? সে অসুস্থ ছিল, বাড়ির কাজ করতে পারেনি। অথবা এমন হয় সময় পায়নি সে। কিন্তু কথা হলো সে কি আদৌ সময় পায়নি বলে করেনি নাকি ইচ্ছে করেই করেনি! এই যে অযুহাত দিল! এতে কার ক্ষতি হলো। সেটা কিন্তু তারই ক্ষতি হলো। কারণ সময়ের কাজ সময়ে না করলে একদিন না একদিন ঠিকই পস্থাতে হবে। তবে অনেকেই এটা বুঝতেই অনেক দেরি করে ফেলে! আবার অনেকেই পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করলে সেটা নিয়েও অযুহাত দেয়। পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন এসেছিল তাই আনসার করতে পারেনি!

এজন্য পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে! আসলে পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হোক বা সহজ! কেউ যদি ভালো করে প্রিপারেশন নেয় সে অবশ্যই ভালো রেজাল্ট করবে। আমরা অযুহাত দিয়ে জীবনের অর্ধেক সময় নষ্ট করে ফেলি। ছোটবেলায় স্কুলে না যাওয়া নিয়ে কতো ধরনের অযুহাত দেওয়া হতো। আর এখন পড়া নিয়ে অযুহাত, ভালো থাকা নিয়ে অযুহাত! অযুহাত দিয়ে কোনো কিছু প্রাপ্তি হয় না। বরং নিজেকেই ঠকানো হয়। এজন্য অযুহাত না দিয়ে উদ্যোগী হওয়া। সময়ের যথাযথ কাজ করা। তাহলে জীবনে সফলতা আসবে।

C3TZR1g81UNaPs7vzNXHueW5ZM76DSHWEY7onmfLxcK2iNzq2MSXKSji21JRspt4nqpkXPR5ea7deLzvmJtuzVBwdLJUpBqtgAZ5gHtHPbayD2jR3CWqjkJ.png

ধন্যবাদ সবাইকে



WhatsApp Image 2021-12-23 at 19.46.54.jpeg

আমি কে?

IMG_4442.JPG

আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।