জীবনের গল্প || মানসিকতার পরিবর্তন জরুরী

in আমার বাংলা ব্লগ26 days ago

হ্যালো বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন । আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। তবে শীতের শীতলতা বাড়ার সাথে সাথে ঠান্ডার সমস্যাটাও বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমান দূষণযুক্ত পরিবেশে এটা এখন বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে, পরিচিত প্রায় মানুষের এই ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা যাচ্ছে আর ঔষধেও তেমন একটা কাজ হচ্ছে না। আসলে প্রকৃতির দূষণ এতো বেশী মাত্রায় হয়েছে যে, একটা সময় পর এমন অবস্থা হবে আমাদের ঔষধগুলো আর কাজ করবে না। এখনই কিছুটা তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আমাকে ডাক্তার বলছে মাস্ক ছাড়া বাহিরে যাওয়া যাবে না।

আমাদের দেশে এটা সত্যি খুবই কঠিন এক সমস্যা, না সমাধান পাওয়া যাবে না সারাক্ষণ মাস্ক পড়ে থাকা যাবে, তবুও কি আর করার উপায় নেই। অবশ্য পরিস্থিতির দোষ দিয়েও কোন লাভ নেই, কারণ আমরা নিজেরাও কম দায়ী নই এর জন্য। আমাদের এলাকার কথাই বলি না কেন? পৌরসভা কর্তৃক নির্দিষ্ট লোক দেয়া আছে দৈনন্দিন বাড়ির ময়লাগুলো ফেলার জন্য, অবশ্য এরজন তারা নির্দিষ্ট পরিমাণে একটা চার্জও নিয়ে থাকেন। কিন্তু সত্যিটা হলো অধিকাংশ মানুষই টাকার বিনিময়ে সেই সার্ভিসটা নিতে রাজী নয়। মানে হলো তারা ময়লা এখানে সেখানে ফেলবে কিন্তু টাকা দিবে না।

caricature-5123404_1280.jpg

এই হলো আমাদের মানসিকতা, না আমি এখানে খারাপ কিছু বলছি না। একটু সুন্দর বা ভালো থাকতে গেছে পয়সা খরচা করা লাগবে সেটা যেমন অস্বীকার করার সুযোগ নেই, ঠিক তেমনি পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে হলেও একটু কষ্ট করতে হবে। বিনা পরিশ্রমে তো আর কিছু হয় না। যদি এই বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি তাহলে টাকায় দেয়ার ভয়ে এখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করার মানসিকতা হতে বের হয়ে আসতাম। হ্যা, একটা সময় ছিলো যখন প্রতিটি বাড়িতে একটা করে গর্ত থাকতো, সেখানে বাড়ির পচঁনশীল ময়লাগুলো ফেলা হতো।

তারপর আর পরবর্তীতে সেগুলোর উপর মাটি ফেলে ঢেকে দেয়া হতো, এটা পরিবেশের ক্ষতি করতো না বরং আরো উপকার করতো। পঁচনশীল আবর্জনাগুলো সার হয়ে যেতো, যা মাটির গুনাগুন আরো বৃদ্ধি করে দিতো। কিন্তু এখন যেহেতু সেই সুযোগটা নেই, বাড়ির জায়গাই কমে গেছে, সুযোগ পেলে আরো একটা বাড়তি রুম তোলার চেষ্টা করা হতো সেখানে গর্ত করার চান্স কই? তাই চারপাশের পরিবেশটাকে ঠিক রাখা এবং নোংরা পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয় সেই বিষয়ে সচেতন হওয়া আব্যশক আমাদের সকলের জন্য। না হলে আজকে হয়তো ঠান্ডায় ভোগছি।

তারপর আস্তে আস্তে সেটা আরো মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। হ্যা, এখানে পরিবেশ নষ্ট হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে সেটা আমি অস্বীকার করছি না। বরং একটা সাধারণ সমস্যাকে আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। যেটা আমরা সবাই খুব সহজেই পালন করতে পারি। আর বড় বড় সমস্যাগুলো হয়তো হুট করে সমাধান করা যাবে না কিন্তু ধীরে ধীরে সবাইকে সচেতন করতে পারলে তখন অবশ্যই সেগুলোরও সমাধান আসবে। সমস্যা মানেই সমস্যা চাই সেটা ছোট হোক বা বড় হোক, ছোট বলে যেমন এগিয়ে যাওয়া যাবে না ঠিক তেমনি বড় বলে সেটাকে ভয় পাওয়া ঠিক হবে না।

Image Taken From Pixabay

ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah

break .png
Leader Banner-Final.pngbreak .png

আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।

break .png

Banner.png

Sort:  

Congratulations @hafizullah! Your post was upvoted by @supportive. Accounts that delegate enjoy 10x votes and 10–11% APR.

Loading...