আত্মীয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে টাকা কালেকশন
হ্যালো বন্ধুরা,
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে অনেক অনেক ভালো রয়েছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় অনেক ভালো রয়েছি। 'আমার বাংলা ব্লগ'এর সকল ভাইবোন বন্ধুদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম এবং অভিনন্দন জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আজকের নতুন একটি পোস্ট। বেশ প্রচন্ড গরমের একটা দিনে আত্মীয়ের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজনে টাকা কালেকশনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছিলাম আমি। আর তারই বিস্তারিত বিষয় নিয়ে উপস্থিত হয়েছি আজকের এই পোষ্টের মাঝে। আশা করব আমার এই পোস্ট আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আর দেরি না করে এখনই শুরু করি।
আমরা অনেকেই রয়েছি বিয়ের অনুষ্ঠান অথবা বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে খুবই পছন্দ করি। কারণ সেখানে নিজেকে প্রদর্শন করা অথবা আনন্দ উপভোগ করা নতুন কাপড়ের সাজা গুজা খাওয়া-দাওয়া বিশেষ বিশেষ ভালোলাগা থেকে থাকে। তবে এই ক্ষেত্রে মেয়েদের ভালো লাগাটা একটু বেশি লক্ষ্য করা যায়। কারণ তারা সেজেগুজে বেড়াতে এবং নতুন আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক করতে ভালোবাসে। তবে যাই হোক তেমন একটা পর্যায়ে না থাকলেও মোটামুটি কিছুটা হলেও ভালোলাগার মুহূর্ত ছিল এই অনুষ্ঠানে। আমি আমার এক আত্মীয়র বাসাতে বৌভাতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলাম। আমার ভাইরা ভাইয়ের বড় ছেলের বৌভাতের অনুষ্ঠানের দৃশ্য এটা। যেখানে টাকা কালেকশনের দায়িত্বটা আমি গ্রহন করেছিলাম। তবে আত্মীয়-স্বজন খাওয়ানোর পূর্বে মুহূর্তে বাড়ির ছোট্ট ছোট্ট কিছু সোনামণি আমার পাশে উপস্থিত হল। তবে তার মধ্যে ছিল আমার প্রিয় স্নেহের বোনের সন্তান শিফা। সে এবং তার চাচাতো ভাই বোন আমার কাছে এসে উপস্থিত হল। তাদের ছোট ছোট মুখের সুন্দর সুন্দর কথা শুনতে মনটা ভরে গেছিল। বেশ কিছুক্ষণ তাদের সাথে গল্প করেছিলাম। যেন তাদের সাথে গল্প করতে গিয়ে আমিও ছোটবেলা খুজে পেয়েছিলাম।
এরপর দুপুরে যোহরের নামাজ পড় শুরু হয়ে গেল আত্মীয়-স্বজনের আসা এবং খাওয়ানোর কার্যক্রম। ততক্ষণে তাদের খাওয়ানোর কাজ চলছিল এদিকে আমিও খাওয়া-দাওয়া সেরে উপস্থিত হলাম আমার কাঙ্খিত সেই চেয়ার টেবিলে, যেখানে চাদা কালেকশন করতে হবে। যেহেতু কাগজ-কলম আমার নিজের হাতেই তাই বিসমিল্লাহতেই আমি নিজেই ৫০০ টাকা জমা করে শুরু করলাম কালেকশনের কাজ। আর টাকা রাখার জন্য আমাদের বড় আপুর কাছ থেকে একটি পাত্র নিয়ে সামনে রেখেছিলাম।
এদিকে আত্মীয়-স্বজন আসতে থাকলো। তাদেরকে সসম্মানের সাথে খাওয়ানোর চেষ্টা করলেন। যে যত খেতে পারেন তাকে সেভাবেই খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলো। শুধু তাদের কাছ থেকে এটাই প্রার্থনা যেন আমাদের সেই ছেলে বউ এর জন্য দোয়া কামনা করেন। এখানে ছেলেপক্ষ মেয়ে পক্ষ সহ আত্মীয়-স্বজনের পরিবার থেকে বেশ অনেকজনকে দাওয়াত করা হয়েছিল তারা ক্রমাগত আসতে থাকলেন। আর এভাবেই বেশ এক ঘন্টা যাবত খাওয়ানো হলো আত্মীয়-স্বজনদের। তবে রান্না বেশ দারুণ ছিল। মাংস রান্না ভাল হয় কেউ কোন সমালোচনা করেন নাই।
তবে এই অনুষ্ঠানে আমার অপরিচিত আত্মীয়স্বজনের সংখ্যা বেশি ছিল। মোটামুটি তাদের সাথে কিছুটা কথা এবং পরিচয় লাভ করেছিলাম। আর এই আত্মীয়র বাসা আমাদের বাসা থেকে বেশ অনেক দূরে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলো দূর হতে পারে। যেহেতু নতুন আত্মীয় তাই তাদের সাথে তেমন একটা পরিচয় না থাকায় সেদিন বেশ পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছিলাম। যেন আনন্দমুখর একটা পরিবেশ বিরাজ করছিল চারিপাশে। তবে একটা বিষয় খারাপ লেগেছিল যে, বাড়ির ছোট ছেলেটা একটু মন খারাপ রেখেছিল তাদের বিয়েতে এই আয়োজন না করায়। তবুও এই অনুষ্ঠানের শেষে আমি তাদেরকে কিছুটা হলে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম এবং ভবিষ্যতে ভালো পর্যায়ে যেন যেতে পারে ঠিক তেমনি কিছু বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম।
এরপর চাদা কালেকশন করতে করতে প্রায় শেষের দিকে চলে আসা হলো। লোকজন আত্মীয়-স্বজন এর খাওয়া-দাওয়া প্রায় শেষ হয়ে আসলো। তারপর সিদ্ধান্ত হলো ছেলে বেটার বউকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। ঠিক সে মুহূর্তের দিকে যখন আর লোকজন ছিল না তখন টাকা গণনা করা হলো। তখন হিসাব করে দেখা গেল ৫০০-১ হাজার ৫০০- ১০০০ করে মোট ১১,৭০০ টাকা কালেকশন হয়েছে। তবে আমি জানতে চেয়েছিলাম আজকের এই অনুষ্ঠানে কত খরচ হয়েছে। সেখানে জানতে পেরেছিলাম প্রায় 40000 মতো খরচ হয়েছিল। তবে যাই হোক এভাবেই সুন্দর আয়োজন করা হয়েছিল বৌভাতের আয়োজনে। আর দিনের কার্যক্রম এভাবেই আনন্দঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছিল।
বিষয় | বৌভাত অনুষ্ঠান |
---|---|
ফটোগ্রাফি ডিভাইস | Infinix Hot 11s |
লোকেশন | গাংনী-মেহেরপুর |
ব্লগার | @sumon09 |
দেশ | বাংলাদেশ |
পোস্টটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
পুনরায় কথা হবে পরবর্তী কোন পোস্টে, ততক্ষণ ভালো থাকুন সবাই। আল্লাহ হাফেজ। |
---|
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
আমিও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই দায়িত্বটা পালন করেছি। আসলে এই সব কাজ করতে হলে বিশ্বাসযোগ্য লোক লাগে। যায়হোক আপনার অনুভূতি পড়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।
হ্যাঁ ঠিক বলেছেন আপনি।