স্মৃতি কথা - ছোটবেলার বন্যা এবং স্কুল বন্ধের খুশি
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসী, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি স্মৃতি কথা শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, ছোটবেলার বন্যা এবং স্কুল বন্ধের খুশি।

আমি পঞ্চম শ্রেণীতে উঠার আগ পর্যন্ত খুব একটা স্কুলে যাওয়ার পক্ষপাতী ছিলাম না। আমি প্রচুর পরিমাণে স্কুল কামাই দিতাম। এমন না যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর যেতাম না। মোদা কথা আমি বাড়ি থেকে স্কুলের দিকে যেতাম না। সারাদিন খেলাধুলা করতাম। তবুও কোন এক অলৌকিক কারণে স্কুলের স্যাররা আমাকে ভালো ছাত্র হিসেবে আখ্যায়িত করত।
কারন আমার বাসায় আমরা একজন প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়তাম। আমি আর আমার কাজিন এবং বন্ধু রাকিব একসাথে পড়তাম। রাকিব অবশ্য নিয়মিত স্কুলে যেত। আমি যেতাম না।
যাইহোক ২০০৪ সালে তখন আমি চতুর্থ শ্রেণীতে ছিলাম। সে বছর বাংলাদেশে অনেক বন্যা হয়। সচরাচর আমাদের চাঁদপুর বন্যার কবলে পড়ে না। চাঁদপুর পুরো জেলাটাই অনেকগুলো নদী দ্বারা বেষ্টিত। যার কারনে সহজে পানি জমে না।
কিন্তু সে বছর অনেক পানি উঠেছিল এবং বন্যা হয়েছিল। আমাদের স্কুলের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে যায়। সেই কারণে প্রথমে আমরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেই। আমরা বলতে আমি এবং আমার অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে সরকারি তরফ থেকেই ছুটি ঘোষণা করা হয়। কি যে এক আনন্দ লাগছিল!
তখন ছোট ছিলাম বিধায় মানুষের কষ্টটা বুঝতে পারিনি৷ আমাদের ছোট মনে বন্যার অর্থাৎ চারিদিকে পানির থৈথৈ অবস্থা থেকে আনন্দ খেলা করছিল। তার উপরে
স্কুল বন্ধ। অবশ্য একবার এমন শংকা মনে এসেছিল যেভাবে দীর্ঘদিন পানি ছিল, ভাবছিলাম আর কখনো হয়তো বসন্তকালের দেখা পাবো না। সারা জীবন এমন পানি বন্দী থাকবে।
কারণ বসন্তকাল ছিল খেলাধুলার জন্য স্পেশাল। অনেক ফুল ফুটতো। আমরা সেগুলো দিয়ে খেলতাম। যাইহোক একটা সময় বন্যার পানি নেমে যায় এবং স্কুল খুলে। বসন্ত কালও আসে। শুধু সময়টা স্মৃতিতে গেঁথে যায়।
There's nothing left to say except, "This is very important."