আমেরিকা ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছে? গেরিলা কৌশলে রাশিয়া-চীন মোকাবেলা!
শিরোনামের পেছনের গল্প: কী ঘটল, কেন ভারতের জন্য সমস্যা?
গত সপ্তাহে (জানুয়ারি ৭, ২০२६), যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অপারেশন চালিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে দুটি তেল ট্যাঙ্কার দখল করেছে। এর মধ্যে একটি রাশিয়ান পতাকাযুক্ত জাহাজ মারিনেরা (আগে বেল্লা ১ নামে পরিচিত) এবং অন্যটি পানামা-পতাকা জাহাজ এম টি সোফিয়া। দেখা যাচ্ছে, এটি শুধুমাত্র একটি তেল ব্যবসার খেলা নয়—এটি বিশ্ব শক্তি রাজনীতির একটি সম্পূর্ণ নতুন যুগ।
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রতিমন্ত্রী রাইটের বিস্ফোরক ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রতিমন্ত্রী এস রাইট সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল "চিরকাল" নিয়ন্ত্রণ করবে। শুধু আজকের জন্য নয়, ভবিষ্যতের সমস্ত উৎপাদনের জন্য। তিনি বলেছেন:
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার জমানো তেল প্রথমে বিক্রয় করবে, তারপর ভবিষ্যতের সমস্ত উৎপাদন চিরকাল বিক্রয় করবে।
সমস্ত অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
ভেনেজুয়েলা শুধুমাত্র "যুক্তরাষ্ট্র-তৈরি" পণ্য কিনতে পারবে এই অর্থ দিয়ে।
এটা প্রায় একটি নতুন উপনিবেশবাদ—২१ শতকের সংস্করণ।
অপারেশনের বিবরণ: কীভাবে সম্পন্ন হল এই "সামুদ্রিক অভিযান"?
ট্রাম্প প্রশাসন সপ্তাহব্যাপী নজরদারি করার পর মারিনেরা জাহাজকে উত্তর আটলান্টিকে ধরেছে। এই জাহাজটি একবার বোর্ডিং এড়িয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এড়াতে রাশিয়ান পতাকা লগ করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এটা ধরে ফেলেছে। যুক্তরাজ্যের বিমান নজরদারি এবং রয়্যাল নেভি সহায়তা জাহাজও এই অপারেশনে যোগ দিয়েছিল।
দ্বিতীয় জাহাজ, এম টি সোফিয়া, দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছে ধরা পড়েছে ২ মিলিয়ন ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল নিয়ে। এই জাহাজের পতাকা ছিল পানামার, কিন্তু মালিকানা ছিল সম্পূর্ণ ভেনেজুয়েলার।
রাশিয়া এবং চীন কী করবে? (এবং এখানে ভারতের সমস্যা শুরু)
এই পদক্ষেপ সরাসরি রাশিয়া-চীন-ভেনেজুয়েলা জোটকে লক্ষ্য করেছে। রাশিয়া মাদুরোর সরকারকে সমর্থন করছিল তেলের বিনিময়ে, এবং চীন বছরের পর বছরের অগ্রিম অর্থ পেয়েছিল ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যত উৎপাদন থেকে।
এখানেই ভারতের সমস্যা আসে:
ভারত দীর্ঘকাল নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে—রাশিয়ার সাথে কৌশলগত বন্ধুত্ব রেখে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এই ঘটনা দেখাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করছে।
ভারতের জন্য প্রভাব:
१. শক্তি সুরক্ষার ঝুঁকি: ভারত বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। যদি যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে তেলের দাম এবং পাওয়া যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির খেলনা হয়ে যাবে। ভারত লাভবান হতে পারে (নিয়ন্ত্রিত সরবরাহ) অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে (নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যদি ভারত রাশিয়া সমর্থন চালিয়ে যায়)।
२. রাশিয়া-ভারত সম্পর্কের উপর চাপ: রাশিয়া এই বিশ্বাসঘাতকতা দেখবে এবং সম্ভবত ভারতকে পরীক্ষা করবে—"তুমি আমাদের পাশে আছো নাকি পশ্চিমের সাথে?" ভারতের কৌশলগত দ্বিধা এখন বিপদে রয়েছে।
३. ডলার আধিপত্য শক্তিশালী হচ্ছে: যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিক শক্তি নয়, এখন সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তি ব্যবহার করছে। যেকোনো দেশ যা ডলারের বাইরে যেতে চায় (ব্রিকস, নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য), তারা এখন বিপদে। ভারত যদি টাকায় তেল কেনা বাড়ায়, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিতে পারে।
४. বিশ্বব্যাপী তেল বাজারের গতিশীলতা: ভেনেজুয়েলার ২.१ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন উৎপাদন এখন (তাত্ত্বিকভাবে) যুক্তরাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত। এটি বৈশ্বিক সরবরাহ কমাতে পারে এবং দাম বাড়াতে পারে—সরাসরি ভারতের জ্বালানী খরচকে প্রভাবিত করে।
সামনে কী আসছে?
রাশিয়া ইতিমধ্যে তার নৌবাহিনী প্রস্তুত করছে এবং এই "সামুদ্রিক ডাকাতি"-র অভিযোগ করছে। চীন এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। এবং ভারতকে পছন্দ করতে হবে: রাশিয়ার সাথে থাকবে (ঝুঁকি), নাকি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন "শক্তি-নিয়ন্ত্রক" ভূমিকা মেনে নেবে?
একটি নতুন যুগ আসছে যেখানে সামরিক শক্তি শুধু সীমানা নয়, সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ করবে। ভারত, যা ঐতিহ্যগতভাবে নমনীয় কূটনীতির উপর নির্ভর করছিল, এখন সত্যিকারের পছন্দের সম্মুখীন।
উৎস (সংবাদ উপাদান):
দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট - "যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল 'চিরকাল' নিয়ন্ত্রণ করবে যেমন যুক্তরাজ্য ট্রাম্পকে দুটি জাহাজ দখল করতে সাহায্য করে" (জানুয়ারি ७, २०२६)
রয়েটার্স সংবাদ - "যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত, রাশিয়ান-পতাকা তেল জাহাজ সপ্তাহব্যাপী শিকারের পর দখল করে" (জানুয়ারি ७, २०२६)
এনবিসি সংবাদ - "যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত রাশিয়ান-পতাকা তেল জাহাজ দখল করে" (জানুয়ারি ७, २०२६)