আমার বাংলা ব্লগ কবিতা:- বাবা মায়ের ভালোবাসা
আমার বাংলা ব্লগের সকল বন্ধুরা? কেমন আছেন আপনারা সবাই। আপনাদের সবার শরীর-মন কেমন আছে জানি না, তবে মন থেকে দোয়া করি, আপনারা সবাই ভালো থাকুন। প্রতিদিনের এই দৌড়ঝাঁপে, কাজের চাপ আর দুশ্চিন্তার ভিড়ে অনেক সময় আমরা নিজের খেয়ালই ঠিকমতো রাখতে পারি না। তবু আশা করি আজকের এই লেখা ও ছোট্ট কবিতাটি পড়তে পড়তে আপনারা একটু থামবেন, একটু গভীর নিশ্বাস নেবেন, আর নিজের ভেতরের মানুষটার দিকে তাকাবেন।
আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি অনুভূতির কথা ভাগ করে নিতে চাই, যেটা আমরা সবাই জানি, যেটা আমাদের সকলের জীবনে রয়েছে। কিন্তু ঠিকভাবে কখনো সবার সামনে বলি না। সেটা হলো বাবা-মায়ের অসীম ভালোবাসা। গ্রামের উঠোনে বড় হওয়া আমরা অনেকেই দেখেছি। বাবা সকালে কাজে বেরিয়ে যাওয়ার আগে মায়ের হাতে তুলে দেয় সংসারের দায়, আর মা সারা দিন নিঃশব্দে সেই দায় আগলে রাখে। এই ভালোবাসা কোনো বড় কথা নয়, কোনো নাটক নয়, এটা নীরব, গভীর, আর আজীবনের প্রতিশ্রুতি। যেটা আমাদের ওই বাবা-মা আজীবন বয়ে আসছে।
আমি নিজে যখন জীবন নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ি, তখন বারবার বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে। তারা কখনো বলেননি, আমাদের জন্য কিছু করো। তবু তাদের চোখের ভাষায় সব বলা থাকে। এই অনুভূতিগুলো মাথায় রেখে কয়েকটা লাইন কবিতা লিখে ফেললাম। কবিতাটা নিখুঁত না, ভাষাও খুব সাজানো না, যেমনটা মনের ভেতর এসেছে, ঠিক তেমনটাই শেয়ার করছি।

কবিতা: বাবা-মায়ের ভালোবাসা
তবু ঘামের গন্ধে ভেজা তার শার্টেই ছিল নিরাপত্তা।
মা চুল বেঁধে ভোরে উঠত,
আমাদের জন্য এক বাটি ভাত জোগাড় করতে।
বাবার চোখে ক্লান্তি ছিল,
কিন্তু আমাদের হাসি দেখলে সে ক্লান্তি লুকিয়ে যেত।
মা নিজের স্বপ্নগুলো ভাঁজ করে রাখত,
আমাদের ভবিষ্যতের বাক্সে।
ঝড় এলে বাবা হতো ছাউনি,
রোদ এলে মা হতো ছায়া।
আমরা বুঝিনি তখন,
ভালোবাসা এত নিঃশব্দ হয় কীভাবে।
আজ দূরে দাঁড়িয়ে বুঝি,
এই পৃথিবীতে সবচেয়ে দামী জিনিস
বাবা-মায়ের দোয়া আর
তাদের নীরব ভালোবাসা।

এই কবিতার পর আর বড় কিছু বলার নেই। শুধু এটুকু মনে করিয়ে দিতে চাই, যদি বাবা-মা বেঁচে থাকেন, আজই একবার খোঁজ নিন। একটা ফোন, দুটো কথা, কিংবা শুধু “ভালো আছি” বলা—এই ছোট জিনিসগুলোই তাদের কাছে অমূল্য। আর যারা বাবা-মাকে হারিয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া রইল। এই লেখাটা যদি কারো মনে একটু নরম অনুভূতি জাগায়, তাহলেই আমার লেখা সার্থক হবে।