বাথরুমে বন্ধী ভয়ংকর কিছু মুহূর্ত,10% beneficiary to @shy-fox
আসসালামুআলাইকুম আমার বাংলা ব্লগের প্রিয় বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন ?নিশ্চয়ই সবাই অনেক ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি ।
আজ আমি আপনাদের সামনে কোন রেসিপি কিংবা কোন ডাই অথবা কোন আর্ট নিয়ে হাজির হয়নি আজ আমি এসেছি আমার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে ।আশা করছি আপনারা সবাই কষ্ট করে পড়বেন তাহলে আরম্ভ করছি।
দিনটা ছিল 20 তারিখ বিকেল বেলা আমি বাথরুমে গিয়েছি ।বাথরুম থেকে যখন বের হব ঠিক সেই মুহূর্তে ঘটনাটা ঘটলো। দরজা খুলতে গিয়েছি দেখছি ভেতর থেকে দরজা খুলতে পারছিনা ,কিছু সময় আমি দরজা ধরে টানাটানি করলাম কিছুতেই দরজাটা আমি খুলতে পারলাম না। তারপর আমি দরজায় জোরে জোরে আওয়াজ করতে লাগলাম তারপরও বাইরে থেকে কোনো সাড়া পাচ্ছিলাম না ,তারপর যখন আমি আমার হাজব্যান্ড কে ডাকছি আর আওয়াজ করছি তখন আমার হাজব্যান্ড ও আমার বাসার কাজের মেয়েটা দৌড়ে আসে কি হয়েছে জানতে চায় তখন ভেতর থেকে বলি আমি আটকে গিয়েছি। হঠাৎ করে দরজার লক হয়ে গিয়েছে ।তখন আমার হাজব্যান্ড বাইরে থেকে আমাকে খুলে উদ্ধার করে ।তারপর বাইরে আসার পর আমার কাজের মেয়ে অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিল দৌড়ে এসে বলেছে আপা আমি তো ভয় পেয়ে গেছি। আমার হাজবেন্ডও বলে অল্পতেই এভাবে চিৎকার শুরু করেছ আমিও ভয় পেয়েছি আমি তখন কি বলবো কিছুই বুঝতে পারলাম না এটা গেল বিকেলের ঘটনা ।
তারপর ঘটলো আসল ঘটনা সন্ধ্যা সাতটার দিকে। আমার বাচ্চাটা বাথরুমে গিয়েছে আমি ওকে নিয়ে গিয়েছি সাথে করে।ও বাথরুমে ঢুকে দরজাটা বন্ধ করে দেয় তখন আমি ওকে বলছি বাবা তুমি ভিতর থেকে দরজা লক করে দিও না ও কিছুতেই শুনেনা দরজা লক করে দেয়।তখন আমি বললাম যে আমি আজ দুপুরবেলা ভেতরে আটকে গিয়েছিলাম বের হতে পারিনি তখন ও বলল যে এ দেখো মা খোলা যায়। তখন আমি দরজাটা আটকে দিয়ে ওকে দেখাই যে দেখো আর আমরা খুলতে পারছিনা। তখন আমরা ভেতর থেকে অনেক টানাটানি করি কিন্তু খুলতে পারি না তখন আমি বলি তুমি তোমার বাবাকে ডাকো ওর বাবা ড্রইং রুমে বসে টিভি দেখছিল তখন বাচ্চা জোরে জোরে ডাক দেওয়ার কারণে ও দৌড়ে আসে ।কারণ আজ সকাল থেকে আমার বাচ্চাটার শরীরটা একটু খারাপ ছিল তাই ও ভয় পেয়েই দৌড়ে আসে এসে বলে কি হয়েছে দরজাটা খুলে দেয়। তখন আমরা বলি আমরা আটকে গিয়েছি ,তখন ও শুনে বলে বারবার তোমরা কেন আটকে যাও দেখি তো কি হয়েছে ভেতরে। তখন ওর বাবা ভেতরে ঢুকে আর আমি ভেতর থেকে দরজাটা আটকে দিয়ে বলি দেখ এইভাবে দরজাটা আটকে যায়। তখন আমার মাথায় ছিলনা যে ভেতর থেকে যদি দরজাটা বন্ধ করে দেই তাহলে আমরা বের হব কিভাবে ,আমি আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করে দিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটনাটা ঘটে গেল আর আমরা ৩ জনই আটকে গেলাম ভেতর থেকে দরজা খুলতে পারছিলাম না। তখন আমরা দুজন মিলে অনেক টানাটানি করলাম কিন্তু দরজাটা খুলল না আমার বাচ্চাটা অনেক ভয় পেয়ে গেল প্রায় কান্না শুরু করে দিয়েছিল। ওকে অনেক বোঝালাম।
কিন্তু আমরা ভেতরে বসে চিন্তা করছি এখন আমরা বের হব কিভাবে। আমরা এখান থেকে ডাকাডাকি করলেও কেউ শুনবে না এদিকে ড্রইংরুমে টিভি চলছে বাইরে থেকে শোনার কোন উপায় নেই ।আর আমরা আমাদের প্রতিবেশী যাদের সাথে অনেক ভালো একটা রিলেশন তারা আজ বাসার বাইরে যাচ্ছে আমরা দেখে এসেছি তারা রেডি হচ্ছে, তাই চিন্তা করছি তারা যদি বাইরে যাওয়ার সময় আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যায় হয়তোবা আমরা বের হতে পারব। মেইনগেটটা খোলাই ছিল ।
অনেক সময় পার হয়ে গেল আমরা ভেতর থেকে চেষ্টা করেই যাচ্ছি কেউ আর আসছে না ভিতরে এমন কোন জিনিস নাই যে সেটা দিয়ে আমরা দরজায় আঘাত করতে পারি ।শুধু ছিল ছোট্ট একটা কাঁচি যেটা ওর বাবা শেভ করার সময় ব্যবহার করে ।তখন আমরা একটু টেনশনে পড়ে গেলাম ভিতরে এডজাস্ট ফ্যান টাও বন্ধ ছিল বাইরে বাতাস পাস হচ্ছিল না আমরা একটু ঘামতে শুরু করেছিলাম ।বাচ্চাটাও কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে তখন একটু টেনশনে পড়ে গেলাম। তখন ওর বাবা কি করবে কি করবে তখন সে কমোডের উপরের যে ঢাকনাটা থাকে সেটা খুলে সেটা দিয়ে জোরে জোরে দরজায় আঘাত করতে থাকে এতে কোনো কাজ হয় না বরং বাচ্চাটা আরো ভয় পেয়ে যাচ্ছে। তখন আমরা শুধু চিন্তা করছি এখন কি করি এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছুই পাচ্ছিনা ।বিভিন্নভাবে লকটাকে টেনে খোলার চেষ্টা করছি কিন্তু কোনোভাবেই খুলছে না । তখন আবার ওটা লাগিয়ে রাখলেও আবার হাত দিয়ে টানাটানি শুরু করলাম কিন্তু কিছুই হচ্ছে না ।তখন ওর বাবা বলল ঐটা দিয়ে কি আবার একটু ট্রাই করে দেখব আমি তখন বললাম এটা ছাড়া উপায় নেই তুমি আরো জোরে জোরে বাড়ি দাও। অনেক চেষ্টা করলাম কিন্তু পারছিলাম না তখন ওর বাবা কমোডের ঢাকনা দিয়ে লকের সাইডে বাড়ি দিতে লকটা ভেঙে গেল। কিন্তু লকটা ভেঙে গেলে কি হবে দরজা খুলছে না। ভেতরের অংশটা ভিতরেই রয়ে গেছে। তখন আরো কিছুক্ষণ টানাটানির পর লকটা খুলে গেল আমরা বাইরে বের হয়ে আসলাম। আমরা বাইরে বের হওয়ার ঠিক পাঁচ মিনিট পরেই পাশের বাসায় ভাই আসলো আমাদের কাছে বিদায় নেওয়ার জন্য। আমরা তখন বললাম আপনি আরেকটু আগে আসলে কি হতো তখন উনি বলল কেন কি হয়েছে তখন আমরা বললাম আমরা তো আটকে গিয়েছিলাম। আমি তখন বললাম যা যা ঘটেছে ভাই শুনেতো অবাক। এ যাত্রায় আল্লাহর রহমতে হয়তো বেঁচে গেলাম । আরো একবার এমন ঘটনা ঘটেছিল সেটা নয় অন্য কোনদিন বলব ।
এটাই ছিল আমার আজকের আয়োজন পরবর্তীতে আবার হাজির হয়ে যাব অন্য কোন কিছু নিয়ে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি।
Thankyou
@tauhida




প্রথমেই আপনার কথা গুলো পড়ে অনেক খারাপ লাগতেছিলো। জানিনা কি থেকে কি হতে চলেছে। পরে যখন বুঝতে পারলাম যে বাথরুমের দরজা শেষ মেষ খুলেছে যেনে অনেক ভালো লাগলো। আপু এখন থেকে সাবধান হয়ে যান। ধন্যবাদ আপনাকে আপনার জন্য শুভ কামনা রইলো ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময় এই কামনাই করি।
অনেক ধন্যবাদ ভাই আপনাকে আমার পোষ্টটি পড়ে সুন্দর একটি মতামত দেওয়ার জন্য।
আমার সাথেও লাইফে এমন একবার হইছিল, তখন আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল মনে হচ্ছিল এখানেই শেষ। জানি আপনার মনে ও এমন চিন্তা আসছিল হতাশায় মানুষ অনেক কিছুই ভাবে। এই সময় গুলোতে আমাদের যে সমস্যাটা হয় উপস্থিত বুদ্ধি হারিয়ে ফেলি। হয়ত একটা বিপদ থেকে মুক্তি পাইছেন এরপর থেকে সাবধানে থাকবেন। শুভ কামনা রইল আপনার জন্য
আমাদের শ্বাস বন্ধ হচ্ছিল না কিন্তু একটু ভয় ভয় করছিল ধন্যবাদ ভাই আপনাকে সুন্দর মতামত দেয়ার জন্য।
আপনার পোস্ট টা অনেক আগ্রহ নিয়ে পরলাৃ শেষটা জানার জন্য।আমি চিন্তা করতেছি ঐ সময় বাচ্চা ও আপনার মনে কি কাজ করছিলো।কি ভয়ংকর একটা পরিস্থিতি। তবে ভালো লাগছে,অবশেষে বের হতে পরেছেন।আপু সাবধানে থাকবেন।ধন্যবাদ আপনাকে।
একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম সপু এই আরকি কিন্তু ওর বাবা ছিল তো এই জন্য অতটা ভয় লাগে নাই। ধন্যবাদ আপু কষ্ট করে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য।
আপু খুবই ভয়ঙ্কর একটি সময় পার করেছেন আমি বুঝতে পারছি। কারণ এমন একটি কাজ আমার সাথে হয়েছিল। আমার দুই বছরের বাচ্চা বাথরুমে দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়েছিল। বাসায় কেউ ছিল না মেইন গেটও বন্ধ ছিল। ৩/৪ মিনিটে আমার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। সেখানে তো আপনার এত সময় বন্ধ ছিলেন। যাই হোক আলহামদুলিল্লাহ আপনারা সহিসালামতে বের হতে পেরেছেন এটাই অনেক।
ঠিকই বলেছেন আপু সময়টা আসলেই অনেক ভয়ঙ্কর ছিল ।তার পর আল্লাহর রহমতে বেঁচে গিয়েছি এটাই বড় কথা ।
আপু এটা সত্যিই একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ছিল। এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা আগে কখনো শুনিনি। আপনাদের ঘটনাটা পড়ে ছুটিরঘণ্টা ছবিটির কাহিনী মনে পড়ে যাচ্ছিল। আল্লাহ না করুক কেউ যদি একা ভিতরে আটকা পড়ে যেত আর বাসায় কেউ না থাকতো তাহলে কি অবস্থা হতো। চিন্তা করতেই ভয় লাগছে। যাই হোক পরবর্তীতে অন্য কি ঘটনা ঘটেছিল জানার অপেক্ষায় রইলাম।
আমারও ভাইয়া ছুটির ঘন্টার কথা মনে পড়েছিল তবে একটু ভয়ও করেছিল ।ধন্যবাদ ভাইয়া কষ্ট করে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।
আমার সাথে এরকম ঘটনা অনেক বেশ কয়েকবার ঘটেছে। আমিও বেশ ভয় পেয়েছিলাম। পরে দেখলাম যে আমি ঠিক আছে ওটা শুধু আমার কল্পনা ছিল আর মনে একটু ভয় ছিল এইজন্য। আপনার সাথে কিছু ঘটে যাওয়া কিছু মুহূর্ত আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ ভাইয়া কষ্ট করে আমার লিখাটি পড়ার জন্য।
আসলে এটি অনেক বিব্রতকর এবং ভয়ঙ্কর একটি ব্যাপার। এটা একটি ভয় পাওয়ার মতোই ঘটনা তবুও আপনার ভাগ্য ভালো যে আপনার হাসবেন্ড এবং কাজের মেয়ে আপনার রুমে ছিল। এবং তারা আপনার চিৎকার শুনতে পেয়েছিল। এজন্য এবারের মত আপনার কোনো বিপদ হয়নি। তবে এমন ঘটনা আসলেই খুবই বিব্রত দায়ক।
ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে কষ্ট করে আমার লিখাটি পড়ে মন্তব্য করার জন্য।
আপনার পুরো গল্পটাই পড়লাম, যদিও আমি গল্প বলছি তবে সেটা ছিল একটা ভয়ঙ্কর সময়। আমরা প্রতিনিয়ত এই জেনে শুনে অনেক ভুল করি যার খেসারত আমাদেরকে গুনে গুনে দিতে হয়। আপনার এই গল্পটি শুনে আমার ছোটবেলার একটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। তিনটে ছেলে একসাথে বাথরুমে গেল এবং কি দুজনেই বাথরুম সেরে ওরা ওদের মত চলে আসছে। স্কুল ছুটি হয়ে গেল, কিন্তু সাথে অন্যজন বের হয়েছে কিনা সেটা দেখার প্রয়োজন মনে করেনি। একটানা প্রায় ১৫ দিন স্কুল বন্ধ, যে যার মত চলে গেছে। আর ওই ছেলেটা বাথরুমে থেকে অনেক সাড়াশব্দ করার পরেও কারো কোন সাড়াশব্দ পায় নি। এভাবে করতে করতে একসময় সে বাথরুমের পানি পর্যন্ত খেয়েছে বাঁচার জন্য। অবশেষে স্কুল যখন খুললো তার মৃত লাশকে বের করলো। অথচ ছেলেটি বাথরুমে যাওয়ার আগে জানতো যে ঐ বাথরুমের দরজা লকটা ভাল না। তদ্রুপ আপনারাও একই রকম কাজ করেছেন। জানেন লকটা ভাল না তবু একসাথে সবাই ভিতরে ঢুকে পড়েছিলেন। যাই হোক আমাদের ভুলগুলো আমাদেরকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। আর আশাকরি সাবধানতা অবলম্বন করে চলার চেষ্টা করবেন। আর আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য আপনার প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন।
গল্পটি আমি অনেকবার দেখেছি ছুটির ঘন্টা ।আমারও ছুটির ঘন্টার কথা মনে পড়েছিল ধন্যবাদ আপনাকে।
আপু প্রথমে একজন একজন করে আটকে যাওয়ার কাহিনী টা বেশ হাস্যরসাত্মক ছিল ।কিন্তু যখন সপরিবার একসঙ্গে বাথরুমে আটকে গিয়েছেন তখন আসলে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। আপনার বাচ্চাটা বেশি ভয় পেয়েছে বুঝতে পেরেছি। আসলে এরকম ঘটনা আমার সাথে ঘটেছিল কক্সবাজার ট্যুরে গিয়ে লিফটে তিন তলা থেকে নিচে নামার সময় মাঝ পথে আটকে গিয়ে আর খুলতে চায় না ।আমিও তো এরকম বিপদে গেছিলাম প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে ছিলাম লিফটের ভিতরে। আমার টেনসনে শরীর ঘেমে গিয়েছিল আপনার গল্পটি পড়ে সেই কথা মনে পড়ে গেল।
প্রথম দিকের ঘটনা হাস্যকর ছিল কিন্তু পরেরটা একটু কঠিন করে ছিল ।ধন্যবাদ ভাইয়া কষ্ট করে আমার পোস্টটি পড়ার জন্য।
খুবই ভয়ঙ্কর একটি ঘটনা। এই মুহূর্তে বাথরুমে থাকাকালীন আপনাদের কেমন অবস্থা হয়েছে তা আমি বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছি। অবশেষে আপনারা বাইরে বেরোতে পড়েছেন এটাই অনেক।
ঠিকই বলেছেন ভাইয়া একটু ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তো হয়েছেই। ধন্যবাদ ভাইয়া কষ্ট করে পোস্ট টি পড়ার জন্য এবং পরে আমাকে সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।