রেজাল্ট প্রকাশের আগের মুহূর্ত!

in আমার বাংলা ব্লগ3 months ago

success-6756404_1280.webp

copyright free image from pixabay

কেমন আছেন সবাই? আশা করছি আপনারা সবাই ভালো ও সুস্থ্য আছেন। তো সুস্থ্য থাকাটাই গুুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মুহুর্তে অনেকেই ভালো নেই! বিশেষ করে যারা এবার এইস এস সি পরীক্ষা দিয়েছিল। কারণ তাদের আজ মানে সকালে অথবা দুপুরে রেজাল্ট পাবলিশ হবে। তো সেটা নিয়ে তাদের নানা ধরনের চিন্তা মনের ভিতরে কাজ করছে! অনেকেই দুটো বছর গাধার মতো পড়াশোনা করেছে ভালো রেজাল্টের আশায়। আবার অনেকেই পড়াশোনা মোটামোটি করেছিল। তাদেরও মাঝে একটা ভয়ের ব্যাপার থাকে। যদি আশানুরূপ রেজাল্ট না হয় তাহলে কি করবে। এইস এস সি লাইফটা একজন শিক্ষার্থীর জন্য অনেক গুুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটার পরের লাইফটা নির্ভর করে এইস এস সি রেজাল্টের উপর।

এইস সি রেজাল্ট এর পরে এডমিশন জার্নিটা শুরু হয় । তো সে এডমিশন টাইমে ম্যাটার করে রেজাল্ট! কারণ রেজাল্ট খারাপ হলে অনেকগুলো অপশন মিস হয়ে যায়। বিশেষ করে যাদের ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেল এ পড়ার ইচ্ছা থাকে সেখানে রেজাল্ট টা ম্যাটার করে। বাংলাদেশে ভার্সিটি পরীক্ষায় বেশ কিছু সিস্টেম পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে এস এস সি ও এইস এস সি দুইটা মিলায় নয় পয়েন্ট থাকলেই আবেদন করা যেত ইঞ্জনিয়ারিং ভার্সিটিগুলোতে। এবার পরিবর্তন করে এ+ দেয়া হয়েছে এবং ম্যাথ, ফিজিক্স এমন সাবজেক্টগুলতো ৯০ আপ মার্কস থাকতে হবে। তার মানে কোন লেভেলের কম্পিটিশন হয় আপনি এবার বুঝেন! আপনার রেজাল্ট খারাও হলে অনেকগুলো অপশন আগেই মিস! এখনকথা হচ্ছে রেজাল্ট তো আর সবার আশানুরূপ আসবে না। কমবেশি হতে পারে!

তবে রেজাল্ট দিয়ে কাউকে পরিমাপ করা ঠিক না! অনেক এর ভিতরে ভালো ভালো গুণ রয়েছে। আমাদের দেশে হয় কি যে রেজাল্ট খারাপ করলো তাকে নানা ধরনের কটু কথা শোনতে হয়! আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশি সবাই তো নানা ধরনের সমালোচনা করা শুরু করে দেয়! তো এটা একজন শিক্ষার্থীর উপর বাজে মন্তব্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আমার এস এস সি রেজাল্ট এর সময়ের কথা! আমি বলতে গেলে ভালোই পারতাম। বলতে পারেন ভালো স্টুডেন্ট এর যে গুণগুলো থাকা দরকার ছিল আমার মাঝে সেগুলো থাকতোই! ফ্যামিলি থেকে শুরু করে আত্মীয়স্বজন সবার চোখে আমি ভালো স্টুডেন্ট। স্কুল, প্রাইভেট সব জায়গায় ভালো রেজাল্টও করতাম। কিন্তু এসএস সি পরীক্ষার সময়! সবাই আশা করেছিল আমি এ+ পাবো। আসলে পরীক্ষা দেয়ার পরে বুঝায় রেজাল্ট কেমনে আসতে পারে। আমারও মোটামোটি আশা ছিল ভালো রেজাল্টই আসবে।

কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে আমার ঘুম নেই। সকাল হলেই পরীক্ষার রেজাল্ট দিয়ে দিবে। নিজের ভিতরে নানাধরনের প্রশ্ন কাজ করছিল! আমার কি ভালো রেজাল্ট আসবে? তো এটা স্বাভাবিক বিষয়। আগের মুহূর্ত এ ভয় কাজ করবে। কি জানি কি রেজাল্ট হয়! কারণ পরিবারের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভালো জায়গায় পড়াশাোনা করবো, জীবনে ভালো কিছু করবো। তো রেজাল্ট ভালো হলে ভালো কলেজে আবেদন করতে পারবো। যদি খারাপ হয় তাহলে সেটা আর পারবো না। তো এসব ভেবে আরও খারাপ লাগতেছিল। তবে ফ্যামিলি থেকে সাপোর্ট ভালোই পেয়েছিলাম। আমার রেজাল্ট দেয় দুপুরের দিকে। রেজাল্ট এর ভয়ে আমি চলে যায় মেহেদীদের বাসায়। দুপুর একটার পরেই রেজাল্ট পাবলিশ হয়! রেজাল্ট যেমনটা একসেপ্ট করেছিলাম তেমনটা হয়নি! ভীষণ মন খারাপ হয়েছিল তখন।

তবে রেজাল্ট দিয়ে কাউকে পরিমাপ করা যাবে না। আজকে এইস সি রেজাল্ট পাবলিশ হবে। অনেকের সারারাত ঘুম হবে না! রেজাল্ট শুনেই ঘুমাবে কাল। তবে রেজাল্ট যাই আসুক হতাশ হওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে এটা একটা জীবনের পার্ট! জীবনে হয়তো আরও ভালো কিছু রয়েছে। এজন্য রেজাল্ট যা আসবে সেটা নিয়েই শুকরিয়া থাকা। যে যেমন পড়েছে, চেষ্টা করেছে। তার রেজাল্ট তেমনই আসবে।

C3TZR1g81UNaPs7vzNXHueW5ZM76DSHWEY7onmfLxcK2iNzq2MSXKSji21JRspt4nqpkXPR5ea7deLzvmJtuzVBwdLJUpBqtgAZ5gHtHPbayD2jR3CWqjkJ.png

ধন্যবাদ সবাইকে



WhatsApp Image 2021-12-23 at 19.46.54.jpeg

আমি কে?

IMG_4442.JPG

আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।