সড়ক দূর্ঘটনা
06-09-2022
২২ ভাদ্র ,১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আসসালামুআলাইকুম সবাইকে
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি ভালো আছেন। আসলে দূর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে আমাদের চারপাশে। আজই আমার সামনে ঘটে গেল একটি দূর্ঘটনা। আর তা শেয়ার করতে আপনাদের মাঝে চলে আসা।
সড়ক দূর্ঘটনা এর সাথে যেন আমরা সবাই পরিচিত হয়ে পরেছি। পত্রিকার হেডলাইন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চোখ রাখলেই দেশে কি পরিমান সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। এতে একদিকে যেমন প্রাণ চলে যাচ্ছে ঠিক তেমন করে আহত হয়ে আজীবন পঙ্গু হয়ে জীবন যাপন করছে। এতে কত কর্মক্ষম মানুষের পরিবার দূর্বিষহ জীবন নিপতিত করে তার কোনো হিসেব নেই। কারো আপনজন সড়ক দূর্ঘটনায় আহত বা নিহত হয়ে যাচ্ছে সে পরিবারের অবস্থাটা আমরা আসলে কখনো ভাবিনা, ভাবার প্রয়োজনবোধও করিনা। সড়ক দূর্ঘটনায় প্রতিদিনই জীবন যাচ্ছে। এর দোষ কার আসলে? গোড়া থেকে বললে মন্ত্রণালয় থেকে শুরু মালিক শ্রমিক পর্যন্ত। বেপরোয়া গাড়ি চালানো,অবৈধ লাইসেন্স, মেরামতবিহীন গাড়ি, অদক্ষ গাড়ি চালক ইত্যাদি কারণ রয়েছে সড়ক দূর্ঘটনার পিছনে। তবে আজকাল এসব ঘটনাকেও সাধারণ মনে করা হয়। নিমিষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে একটি পরিবার। নিউজ দেখলেই চোখে পড়ে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারানো নিউজ। এভাবে কতদিন চলবে। যায়হোক, আজকে চোখের সামনে সড়ক দূর্ঘটনা হলো। সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলে আসলাম।
আমি যেখানে থাকি রাস্তাটা সব সময় বিজি থাকে। বলতে গেলে রাতদিন চব্বিশঘণ্টা গাড়ি চলাচল করে থাকে। রাস্তাটি কাজীরবাগ হয়ে পরশুরাম বন্দরে মিলিত হয়েছে। রাস্তা দিয়ে চলাচল করলেও ভয় করে। আজ সকালে দোকানে গিয়েছিলাম ডিম কিনতে যাওয়ার জন্য। ডিম নিয়ে আসছি। বাসার প্রায় কাছাকাছি চলে আসতেই দেখি বিপরীত দিক থেকে একটি প্রাইভেট কার একটি ছেলেকে বাচানোর জন্য দেয়ালে নিয়ে লাগিয়ে দেয়। মুহুর্তেই গাড়ির সামনের অংশ ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। ভিতরে ছিল তিন বাচ্চা এক মহিলা। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বাচ্চা তিনটির তেমন কিছু হয়নি। গাড়ির ড্রাইভার তাড়াতাড়ি গাড়ি থেকে বের হয়ে মহিলাসহ তিন বাচ্চাকে হসপিটালে পাঠায়। এদিকে কিছুলোক ফোন দিয়ে ভিডিও শুরু করে দিছে। অথচ একটা ঘটনা ঘটছে সেখানে সাহায্য করবে তা না করে ভিডিও শুরু করে দিছে। আমরা কি আদৌ মানবিক হতে পেরেছি। এখন এমন অবস্থা হয়েছে রাস্তার পাশে এক্সিডেন্ট হয়ে পড়ে থাকলেও ফোনে আগে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাবে তারপর হসপিটালে নিয়ে যাবে। হসপিটালে নেয়ার আগে অনেক মানুষই মারা যায়।
সরাসরি এমন দূর্ঘটনা দেখে আমিই খুব ভয় পেয়ে যায়। চোখের সামনে এতো বড় দূর্ঘটনা দেখিনি। তবে এই সড়ক দূর্ঘটনার পিছনে অনেকগুলো কারণ দেখতে পেলাম। প্রথম কথা হলো গাড়ি সামনে দিয়ে বাচ্চা দৌড় দেয় আর বাচ্চাটাকে বাঁচাতেই গাড়ির চালক ব্রেক চাপার আগেই দেয়ালে লেগে যায়। যদি বাচ্চাটা সামনে দিয়ে দৌড় না দিতো তাহলে দৃশ্যপট অন্যরকম হয়ে যেত। আসলে শিশুদের পরিবার থেকেও কিছু শেখানোর থাকে। আমাদের দেশে যেখানে ক্লাস ওয়ান থেকে অক্ষর বা কবিতা শেখায় আর অন্য দেশে সেখানে ব্যাবহার বা মেনার শেখানো উচিত। ছোটবেলায় শিখে রাস্তা পারাপারের সময় সামনে পিছনে তাকিয়ে তারপর পার হতে হয়। কখনো চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে দৌড় দেয়াও যাবে না। পরিবার থেকেই শিশুদের বিষয়গুলো শেখানো উচিত। হতে পারতো শিশুটি আজকে গাড়ি নিচেই চাপা পড়ে যেত। গাড়ির ভিতরে থাকা বাচ্চা তিনটি সিটবেল্ট পরে বসেছিল এজন্য সমস্যা হয়নি।
আমরা বেশ কয়েকবছর ধরে নিরাপদ সড়ক চাই দাবি পালন করে আসছি। কিন্তু তা কার্যকর হলো কই? এখনো দেশের প্রায় হাই লেনের রাস্তাগুলো সরু। একাধিক গাড়ি চলাচলের জন্য যতটুকু স্পেস দরকার সেটাও নেই। সাধারণত এমন রাস্তায় দূর্ঘটনা হওয়াও স্বাভাবিক। আমি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও বেশ ভয় পায়। বড় বড় ট্রাক হাই স্পিডে চালিয়ে আসে। আবার সিএনজি তো আছেই। সিনএনজি গাড়ি চালকদের দেখলে মনে হয় তারা রাস্তায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
সড়ক দূর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। সড়ক দূর্ঘটনায় যেন কারো জীবন চলে না যায় বা আহত হয় এমনটাই প্রত্যাশা করি। যে যেখানে থাকেন সাবধানে থাকবেন। সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।
10% beneficary for @shyfox ❤️
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,ব্লগিং,কুকিং,রিভিউ,ডাই ইত্যাদি করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।




Link
আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থা দিন দিন আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে কেননা সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ আমরা যতটাই চাচ্ছি কমে যাক কিন্তু সেটা বেড়েই যাচ্ছে। আসলে এই ঘটনাটিতে তাদের ভাগ্য ভালো যে তেমন কোনো ক্ষতির সম্মুখীন তারা হয়নি। আর মানুষের কথা কি বলবো সব জায়গাতেই দেখা যায় এমনটি তারা সাহায্য করা বাদ দিয়ে ভিডিও ধারণ করা অথবা সেলফি ধারণ করাই ব্যস্ত হয়ে যায় সত্য কথা বলতে তাদের মানসিকতার সমস্যা রয়েছে আমার কাছে মনে হয়।
আপনি একদম যথার্থ বলেছেন ভাইয়া। তবে বাংলাদেশের রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। আরও প্রশস্ত রাস্তা দরকার। দূর্ঘটনার জন্য অনেক কিছুই দায়ী থাকে।
আসলে আমাদের দেশে এরকম ঘটনা প্রায় হামেশাই ঘটছে। বিশেষ করে দুর্ঘটনাগুলো যত কমানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে কিন্তু দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। আর দেখুন না আপনার চোখের সামনে এরকম একটা ঘটনা ঘটলো বলতে গেলে তিনটা বাচ্চা এবং মা এত বিপদের মুখে পড়ল। কিন্তু সবাই ভিডিও করতে ব্যস্ত। এখন যে সবাই ভিডিওতে কি পেয়েছে এটাই বুঝতে পারিনা। খারাপ ভালো কোন দিকে যেন কারো নজর নেই। আপনি চোখের সামনে দেখতে পেয়েছেন আমার কাছে বেশ খারাপ লাগতেছে। তবুও সবাই যে ভালো আছে এটাই অনেক।
জি আমি রীতিমত ভয় পেয়ে গেছিলাম। বাচ্চাসহ মা কান্না করতেছে কিন্তু কিছু পাবলিক এসেই ভিডিও ধারণ করা শুরু করে দেয়। এটা আমার কাছেও খারাপ লেগেছিল। অটো দিয়ে তাড়াতাড়ি হসপিটালে পাঠানো হয় পরে।
প্রতিবছর যে কত হাজার মানুষের প্রাণ এই সড়কে যায় তার হিসাব নেই। এর পেছনে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন বৃদ্ধি। বেআইনিভাবে লাইসেন্স দেওয়া এইসব। সড়কে বের হলে যেন জীবন হাতে নিয়ে বের হতে হয়। দারুণ একটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ভাই।।
আমারা যতই বলি আমারা নিরাপদ সড়ক চাই দিন দিন এর মাত্রা বেড়েই চলেছে । এখন বাইরে বার হলে মনে হয় বাসায় নিরাপদে আস্তে পাড়ব তো। সবসময় মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত ভীতি নিয়ে রাস্তায় বের হতে হয় । আর আমারা জাতি হিসেবে আমাদের নৈতিক অবক্ষয় এত বাজে ভাবে হয়েছে যে আমরা এখন আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত আমাদের মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছি। আমরা যতই শিক্ষিত হই আমারা রাস্তা পারাপার এর সঠিক নিয়মটা পর্যন্ত জানি না । আমাদের সকলেরই উচিত সকল নিয়ম কানন সঠিক ভাবে মেনে চলা ।
আপনি একদম যর্থাথ বলেছেন আসলে কিছু শিক্ষা বাচ্চাদের ছোট বেলা থেকেই পরিবার থেকে শিখাতে হয়। এক্ষেত্রে পরিবার গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে। আপনাকে ধন্যবাদ চমৎকার একটি মন্তব্য করার জন্য।