জেনারেল রাইটিং : গুজব।১

সবাইকে শুভেচ্ছা।

আজ বিশ্ব কন্যা শিশু দিবস। আমাদের জাতীয় জীবনে কন্যা শিশু দিবস গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো কন্যা শিশু সহায়ক নয়। আর্থ সামাজিক পেক্ষাপট,গোঁড়ামি -কুসংস্কার এর কারণে আমাদের সমাজ এখনো কন্যা শিশু সহায়ক হয়ে উঠেনি। যেখানে শিশু নির্যাতনের ঘটনার খবর আমরা পাই প্রতি নিয়ত, সেখানে কন্যা শিশুর অবস্থা আরো ভয়াবহ। কন্যা শিশু ধর্ষণ ও খুনের ঘটোনা অহরহ ঘটে। কন্যা শিশুর বেড়ে উঠা অনেক কষ্টের। কন্যা শিশুর আনন্দময় শৈশব নেই বললেই চলে। অথচ হওয়ার কথা শিশুদের আনন্দময় শৈশব। নির্ভয়ে বেড়ে উঠা। তবে আশার কথা, সরকার,সরকারি, বেসরকারি ও অভিভাবকদের সচেতনতায় আগের তুলনায় এখন অনেক সহায়ক পরিবেশ কন্যা শিশুর জন্য। আমাদের দায়িত্ব কন্যা শিশুর জন্য আরো নির্ভয় পরিবেশ সৃষ্টি করা। যেখানে বৈষম্য ভেদাভেদ ভুলে কন্যা শিশু বেড়ে উঠবে আগামীর যোগ্য নাগরিক হিসেবে। সবাইকে কন্যা শিশু দিবসের শুভেচ্ছা। আসুন কন্যা শিশুর পাশে দাঁড়াই। বন্ধুরা আমার বাংলা ব্লগে ' গুজব' নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।

20250708_123018.jpg

গুজব ক্ষতিকর। গুজব যারা ছড়ায় তারা আরো ক্ষতিকর। কথায় আছে গুজবের গতি বাতাসের গতির চেয়ে বেশি। গুজব ইতিবাচক নয় নেতিবাচক। ভালো খবর কখনো গুজব হয়না। গুজব এত ক্ষতিকর যে, সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে, মানুষের ক্ষতি করে। মানুষকে সামাজিক ভাবে বিপর্যস্ত করে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে গুজবের ডালপালা এত বিস্তৃত লাভ করেছে, এর রোধ কষ্ট সাধ্য হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গুজবের কারণে অনেক বড় বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। মবের সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের প্রাণ সংশয় হয়েছে। কিন্তু গুজব রোধ কোন ভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা। গুজব সৃষ্টিকারীরা সামান্য ভিউ কামানোর জন্য, নীতিনৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তির বিকাশের ফলে কোনটি সত্য কোনটি গুজব বুঝা দায় হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া এখন গুজবের উর্বর ভূমি।

সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজফিডে সয়লাব, বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন মারা গিয়েছে এই সংবাদে। মেইনস্ট্রিম নিউজ পোর্টাল গুলো ঘেটে ঘুটে এই সংক্রান্ত কোন খবর চোখে পড়লো না। গুজবের দাপট এত বেশি যে, শেষ পর্যন্ত নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের পরিবারের পক্ষ্য থেকে বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে- তিনি ভালো আছেন। তার চিকিৎসা চলছে। কি অবস্থা দেখুন! ভিঊ শিকারীরা একজন জীবন্ত মানুষকে পর্যন্ত মেরে ফেলার গুজব সৃষ্টি করছে। বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনৈতিক গুজবের পরিমাণ এত বেশি যে কোনটি সত্য কোনটি মিথ্যা বুঝা কঠিন। এমন এমন মানুষ এসব গুজবের প্রচারণা করছেন, এগুলো গুজব বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয়। রাজনীতিতে পাশাপাশি ধর্মীয় ও নারীদের নিয়ে গুজবের সং্খ্যাও কম নয়। এই সব গুজব সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তাই সময় এসেছে অনলাইন -অফলাইনের গুজব এড়িয়ে চলায়। কোন কিছু শুনলে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলেই বিশ্বাস করবেন না। সত্য জানার চেষ্টা করুন। সেই চির সত্য বাণীর উপর আস্থা রাখুন -
গুজবে কান দেবেন না।

ধন্যবাদ।

ঢাকা -বাংলাদেশ।