জেনারেল রাইটিং - ভেজাল ও নকল তৈরিতে সিদ্ধহস্ত।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আপনাদের সাথে আজ একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, ভেজাল এবং নকল তৈরিতে আমাদের কর্মতৎপরতা এবং পারদর্শিতা।

আমি ব্যক্তিগত জীবনে একজন ফার্মাসিস্ট। ওষুধ নিয়েই আমার জীবন। বর্তমানে আমরা নিজেরাও একটি বিষয় নিয়ে বেশ আতঙ্কিত থাকি। তা হচ্ছে ভেজাল এবং নকল ঔষধ। শুধু ঔষধের ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশের এমন কোন ক্ষেত্র বর্তমানে বাকি নেই যেখানে ভেজাল এবং নকলের থাবা পড়েনি।
খবর দেখতে বসলেই এ ধরনের খবর ভরপুর। কোথাও পাওয়া গিয়েছে ভেজাল চাল, কোথাও পাওয়া গিয়েছে ভেজাল ডাল, কোথাও পাওয়া যায় ভেজাল চকলেট, জুসসহ অন্যান্য অনেক কিছু। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হচ্ছে, ওষুধের মধ্যেই ভেজাল। অর্থাৎ, যে জিনিসটা আমাদের জীবন বাঁচাবে, তাই হয়ে উঠবে আমাদের মৃত্যুর কারণ।
একশ্রেণীর মানুষ রয়েছে, যাদের মানসিকতা, যাদের লোভ এতটাই প্রকট যে বনের হিংস্র পশুও তাদের মত নিচে নেমে যায়নি। এ ধরনের মানুষরাই আমাদেরকে ভেজাল ওষুধ, ভেজাল খাবার, ভেজাল পণ্য তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করে। তারা একটি বারের জন্য চিন্তা করে না, যারা এসব সেবন করবে, যারা এসব ব্যবহার করবে, যারা এসব খাবে তাদের কি হবে? মেহনতী মানুষের মেহনত করা কষ্টের উপার্জন তারা ছিনিয়ে নেয় ভেজাল জিনিসপত্র বাজারজাত করে।
জাতি হিসেবে আমরা এমনই যারা নিজেরা জেনে বুঝে নিজেদেরই ক্ষতি করি। এমনও তো হতে পারে, আমি আরেকজনের ক্ষতি করছি। অন্য একজন আমার ক্ষতি করছে। এই বিষয়টা তারা ভাবে না। তারা কেবল বোঝে নিজেদের লাভ। তারা বুঝে নিজেদের উন্নতি। অথচ এই তাদের ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য তারা জাতিগতভাবে আমাদের ক্ষতি করছে।
পণ্য নকল করা হয় এমন ভাবে, বোঝার উপায় নেই কোনটা নকল কোনটা আসল। প্রস্তুতকারক কোম্পানিরাও এজন্য বিপদে থাকে। তারা নিজেরাই বাধ্য হয় নকল ঠেকাতে নিজেদের মধ্যে পরিবর্তন আনার জন্য।
এমনই এক অদ্ভুত দুর্দশা আমাদের। ভেজাল এবং নকল তৈরিতে পারদর্শী এক জাতি আমরা। কখনো কখনো মনে হয়, আমাদের মনুষ্যত্ব এবং বিবেকটাও হয়তো নকল। যার কারণে আমরা এই ধরনের কাজগুলো করতে পারছি। সামাজিক প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক কঠোর দমন ব্যবস্থাই পারে আমাদেরকে এ থেকে মুক্তি দিতে।