শুকনো মাঠে তিন ভাইয়ের জলযুদ্ধ
আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আল্লাহর অসীম রহমতে আমিও ভালো আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব আমাদের মরিচের জমিতেই সেচ দেওয়া,
ফটোগ্রাফি মানে শুধু একটি দৃশ্যকে ক্যামেরাবন্দি করা নয়, এটি আসলে অনুভূতিগুলোকে জমিয়ে রাখা। প্রতিটি ছবি এক একটি গল্প, এক একটি হাসি, এক একটি বিষণ্ণতা। ক্যামেরার শাটার ক্লিক করার মাধ্যমে আমি সময়ের চাকা থামিয়ে দিই। আমার ছবিতে আমার আবেগ আর অনুভূতিরা কথা বলে, যা শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায় না।কারণ প্রতিটি ফ্রেমের পেছনে লুকিয়ে থাকে এক একটি মুহূর্ত, এক একটি ভাবনা। ক্যামেরা আমার তৃতীয় চোখ, যা দিয়ে আমি পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখতে শিখি, এবং সাধারণ জিনিসগুলোকে অসাধারণ করে তুলি।
রাত এখন অনেক হয়েছে, বিছানায় শুয়ে আছি। দিনের বেলার সেই পরিশ্রমের ক্লান্তি এখনও শরীর থেকে যায়নি, কিন্তু মনটা খুব শান্ত লাগছে। আজ সকালে যখন মরিচের খেতে এসেছিলাম, তখন মাটির চেহারা দেখে খুব চিন্তা হচ্ছিল। ক'দিন ধরে বৃষ্টি নেই, মাটি একদম শুকনো, ফেটে চৌচির। মরিচের ছোট্ট চারাগুলো রোদের তাপে যেন নেতিয়ে পড়েছে। এমন দেখলে তো কৃষকের মন কাঁদে।
আর দেরি না করে আমার দুই চাচাতো ভাই—ওরা দুজনও চাষবাসের কাজ দেখাশোনা করে—ওদের ডাক দিলাম। বললাম, তোরা চল, আজ যেভাবেই হোক পাম্প লাগিয়ে খেতে জল দিতেই হবে।" আমাদের তিনজনার এই কাজটা করা খুব দরকার ছিল।
![]() |
|---|
প্রথমে সেই পুরনো শ্যালো পাম্পের লোহার অংশটা মাঠে এনে একটা শক্ত জায়গায় বসানো হলো। তারপর তার সাথে ডিজেল ইঞ্জিনটা জোড়া লাগানোর পালা। এই কাজটাই সবচেয়ে কঠিন। কারণ, ইঞ্জিনের সঙ্গে পাম্পের মুখে যে পাইপটা যুক্ত হয়, সেই জোড়াটা যদি একটুও ফাঁকা থাকে, তবে জল টানার সময় বাতাস ঢুকে যাবে আর পাম্প চলবে না।
![]() |
|---|
আমার এক চাচাতো ভাই তখন নিচু হয়ে খুব সাবধানে সেই জোড়ার মুখে ভালো করে মোটা কাগজ পেঁচিয়ে দিল। তারপর আমার আরেক ভাই শক্ত করে দড়ি দিয়ে বাঁধন দিল। এটা এমনভাবে বাঁধতে হয় যেন একটুও ফাঁক না থাকে। আমরা তিনজন মিলে দেখছিলাম, কাজটা ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা।
কড়া রোদ, আর খালি পায়ে কাদামাটিতে দাঁড়িয়ে আমাদের তিনজনের শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। কিন্তু খেতের চারাগুলোর দিকে তাকালে আর ক্লান্তি মনে হচ্ছিল না।
![]() |
|---|
সব জোড়া লাগানো শেষ হলে, শুরু হলো আসল কসরত। প্রথমে পাম্পের ওপরের দিকে যে হাতলটা আছে, সেটা টেনে টেনে আমরা কিছুটা জল পাম্পের ভেতরে ভরে দিলাম। এটাকে বলে 'প্রাইম' করা।
![]() |
|---|
এরপর এলো ইঞ্জিন চালু করার পালা। পুরোনো মেশিন, এক টানে স্টার্ট হতে চায় না। আমার এক চাচাতো ভাই ইঞ্জিনের পাশে গিয়ে তার সমস্ত শক্তি দিয়ে হ্যান্ডেলটা ধরে মারতে শুরু করল। বার বার জোরে জোরে হ্যান্ডেল ঘোরানো হচ্ছিল, কিন্তু শুধু খুক খুক শব্দ করে ইঞ্জিন থেমে যাচ্ছিল। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর, যখন বিকট একটা শব্দ করে ইঞ্জিনটা জোরে গর্জন করে উঠল, তখন আমরা তিনজন যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। মনে হলো যেন একটা বড় বিপদ কেটে গেল।
ইঞ্জিন চালু হওয়ার পর প্রথমে ঘোলা জল বেরোতে শুরু করল, তারপর যখন পরিষ্কার ঠান্ডা জল বেরিয়ে এলো, তখন বুকটা জুড়িয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সেই জলের পাইপটা মরিচের সারির মাঝখানে নামিয়ে দিলাম। জলের ধারা যখন শুকনো মাটির ওপর দিয়ে এঁকেবেঁকে যেতে শুরু করল, আর চারাগুলোর গোড়ায় পৌঁছাল, তখন মনে হলো গাছগুলো যেন হেসে উঠল। আমরা তিনজন খেয়াল রাখছিলাম, কোন দিকে জল কম যাচ্ছে, আর কোথায় বেশি দিতে হবে।
আজকের এই কাজটা শুধু একটা যন্ত্র চালানো নয়। এটা আমাদের তিন ভাই এর মেহনত। নিজের হাতে, নিজের ফসল বাঁচানোর চেষ্টা। এই পরিশ্রমের শেষে জলের দিকে তাকিয়ে যে শান্তিটা পেলাম, সেটা অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না। এখন নিশ্চিন্তে ঘুম আসবে। কাল সকালে খেতে গেলে দেখতে পাব, আমাদের মরিচের চারাগুলো সতেজ হয়ে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে—এইটুকুই একজন কৃষকের সবচেয়ে বড় আশা।
বন্ধুরা, আজকের পোস্টটি এখানেই শেষ করছি এবং আপনাদের কাছ থেকে ভালো মন্তব্য আশা করছি। পরবর্তী ব্লগে নতুন বিষয় নিয়ে দেখা হবে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের সকলকে সুস্থ রাখুক।
আমি আব্দুল আলীম, Steemit-এ আমার ব্যবহারকারীর নাম @alimtutorial । আমি একজন বাঙালি হিসেবে গর্বিত। Steemit কেবল আমার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি আমার ভালোবাসার জায়গা। এখানে মানুষ তাদের সৃজনশীলতা এবং পছন্দ-অপছন্দ একে অপরের সাথে ভাগ করে নেয়। এই প্ল্যাটফর্মটি আমাদের মতো কন্টেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি দুর্দান্ত সুযোগ তৈরি করেছে, যেখানে আমরা নিজেদের প্রকাশ করতে পারি এবং অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারি। পড়া, লেখা, ব্লগিং, ফটোগ্রাফি, গান গাওয়া এবং ভ্রমণ আমার প্রিয় জিনিস। প্রতিটি কাজ আমাকে নতুন জীবনযাপন করতে শেখায়, এবং Steemit আমার এই সমস্ত শখ সকলের সামনে তুলে ধরার একটি দুর্দান্ত মাধ্যম।
ফটোগ্রাফির বিবরণ
| 📱 ডিভাইসের নাম | 📍অবস্থান | ক্যাপচার📸 দ্বারা |
|---|---|---|
| Redmi note 10 pro max | Jamalpur/BD | @alimtutorial |
| - | - | - |
ধন্যবাদ
@photoman
@blacks
@royalmacro
@beautycreativity
@curators
@hungry-griffin
আমার পোস্টটি দেখার জন্য










https://x.com/alimtutorial8/status/1992660524937740558?t=sO43sl_rWHU-1DhRm9Jn3w&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.