স্কিল বনাম সার্টিফিকেট!
আজকের দুনিয়ায় এসে আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি সার্টিফিকেট নাকি স্কিল? কোনটাকে আপনি এগিয়ে রাখবেন! বেশিরভাগ মানুষ বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যে উত্তরটা দিবে সেটা হলো স্কিল বা দক্ষতা আগে। কারণ দুনিয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। আর পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের কাজের ধরনও। আপনি যদি সেই কাজের ধরনের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে না পারেন তাহলে সেটা আপনার জন্য কষ্টই হবে টিকে থাকা। এখন কথা হলো তাহলে কি সার্টিফিকেট এর কোনো ভেল্যু নেই! অবশ্যই সার্টিফিকেট এর ভেল্যু রয়েছে। আজকের সমাজে মানুষকে সম্মান দেয়া হয় সে কতটা শিক্ষিত বা মার্জিত!
শিক্ষিত হতে হলে আপনাকে কিছু সার্টিফিকেট জীবনে অর্জন করতে হবে। আর এ সার্টিফিকেট গুলো কিন্তু আমরা পরীক্ষা দিয়েই অর্জন করি। এক্ষেত্রে কথা হলো পরীক্ষার সময় মুখস্ত বিদ্যায় বেশি কাজে লাগে। তো মুকস্ত বিদ্যা কি চাকরির ক্ষেত্রে কাজে লাগে! সেটা কখনোই না। তবে চাকরির ক্ষেত্রে প্রথম রিকুয়ারমেন্ট হলো আপনার সার্টিফিকেট বা দলিলপত্র! প্রত্যেকটা কর্পোরেট জব বলে বা প্রাইভেট জব বলেন সেখানে প্রথম যেটা দরকার কোনো একটা পোস্টে আবেদন করতে সেটা হলো সার্টিফিকেট। যেটাকে প্রমাণপত্র বলতে পারি। আর সেটা যদি থাকে তবেই আমরা এপ্লাই করতে পারি। তবে আপনার সার্টিফিকেট আছে কিন্তু আপনার স্কিল নেই! তাহলে আপনি অনেকটা পিছিয়ে থাকবেন!
ধরেন, আপনি একটা পাবলিক ভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছেন। আপনার কোনো স্কিল নেই। অন্যদিকে আপনার বন্ধু প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছে। পাশাপাশি সে ভালো স্কিল অর্জন করেছে। আপনি এবং আপনার বন্ধু দুই জন একটা কোম্পানিতে এপ্লাই করেছেন। এখন ঐ কোম্পানি কাকে নিতে চাইবে বলেন তো? নিশ্চয় আপনার বন্ধুকে! কিন্তু কেন? কারণ আপনার বন্ধুর দক্ষতা রয়েছে। হতে পারে সে মাইক্রোসফট অফিসে এক্সপার্ট কিন্তু আপনি সেটা পারেন না! আসলে স্কিল ছাড়া আপনি ভালো জায়গায় জব কখনো পাবেন না! আজকের দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে আপনাকে স্কিল অর্জন করতেই হবে। সেই স্কিল আপনাকে একজনের থেকে এগিয়ে রাখবে।
বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেনস এর ব্যবহার দিনকে দিন বাড়ছে। অদূর ভবিষ্যৎ এ সবকিছু যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেনস দিয়েই করা হবে সেটা বুঝা যাচ্ছে। এখন আপনি যদি এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেনস সম্পর্কে না জানেন তাহলে তো আপনি অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকবে। আর যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেনস সম্পর্কে জানে সে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। বর্তমানে একটা ছোট বিজনেস দাড় করানো থেকে শুরু করে সবকিছুই আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেনস দিয়ে করানো হচ্ছে। তবে যে জানে কিভাবে একটা নিজ ব্যবসা দাড় করাতে হয়, যে জানে না তার থেকে সে অনেক এগিয়ে। যেহেতু সার্টিফিকেট হলো একটা দরজা। আর সে দরজার ভিতরের আসবাবপত্র হলো স্কিল। যে ঘর যত সুন্দর করে ঘুছানো সে ঘর তত বেশি সুন্দর! জীবনে সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি স্কিলেরও প্রয়োজন আছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের উচিত স্কিল অর্জন করা যেন চাকরির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারি। এবং স্কিলটাকে আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমি কে?
আমার নাম হায়দার ইমতিয়াজ উদ্দিন রাকিব। সবাই আমাকে ইমতিয়াজ নামেই চিনে। পেশায় আমি একজন ছাত্র। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর বিএসসি করছি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যলয় (ডুয়েট) থেকে । পাশাপাশি লেখালেখি করে আসছি গত চার বছর ধরে। ভালো লাগার জায়গা হলো নিজের অনুভূতি শেয়ার করা, আর সেটা আমার বাংলা ব্লগের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। নিজেকে সবসময় সাধারণ মনে করি। অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেয় এবং তা মেনে চলার চেষ্টা করি। বাংলা ভাষায় নিজের অভিমত প্রকাশ করতে ভালো লাগে। তাছাড়া ফটোগ্রাফি,কবিতা লেখা,গল্প লেখা ,রিভিউ,ডাই এবং আর্ট করতে ভালো লাগে। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালো লাগে। বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি। ভবিষ্যতে প্রিয় মাতৃভূমির জন্য কিছু করতে চাই।



