রেসিপিঃ-||টমেটো দিয়ে ছোট মাছের মজার ঝোল রেসিপি||
কেমন আছেন সবাই?
আমার বাংলা ব্লগের প্রিয় সদস্য-সদস্যাগণ আশা করি আপনারা সকলেই ভাল আছেন। আমিও আলহামদুলিল্লাহ সৃষ্টিকর্তার অসীম রহমতে সুস্থ আছি এবং ভালো আছি।আমি সামশুন নাহার হিরা@samhunnahar।আমি বাংলা ভাষায় ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগে ব্লগিং করি বাংলাদেশ থেকে।বন্ধুরা প্রতিদিনের মত আমি আজও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি। আজ আমি নতুন একটি রেসিপি শেয়ার করব আপনাদেরকে।আমার আজকের রেসিপি হচ্ছে ছোট মাছের রেসিপি।আমি বিভিন্ন ধরনের মিক্স করা ছোট মাছ আজ টমেটো দিয়ে রান্না কিভাবে করেছি দেখাবো।এভাবে মিক্স করা পাঁচমেশালি মাছগুলা খেতে অনেক ভালো লাগে।
অনেকেই ছোট মাছ চচ্চড়ি করে খাই।আবার অনেকেই বিভিন্ন সবজি দিয়ে রান্না করে খেয়ে থাকেন।আমি আজ টমেটো দিয়ে ছোট মাছের ঝোল তৈরি করেছি।আমার কাছে ছোট মাছের চচ্চড়ি যেমন ভালো লাগে তেমনি ভালো লাগে টমেটো দিয়ে একটু একটু ঝোল রেখে খেতে।আমি আজ যে রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো সেই রেসিপিটা আমি কিছুদিন আগে নিয়েছিলাম।কিন্তু আজ যখন মোবাইল দেখছিলাম কি পোস্ট করব তখন এই রেসিপিটি আমার চোখে পড়ে।সেই চিন্তাধারায় আমি আজ এই রেসিপিটি আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য তৈরি করে নিয়েছি।শুরু করা যাক তাহলে আমার আজকের রেসিপি ছোট মাছের ঝোল কিভাবে আমি তৈরি করেছি ধাপে ধাপে দেখাবো।
| উপকরণ | পরিমাণ |
|---|---|
| ছোট মাছ | ২৫০ গ্রাম |
| টমেটো | ২ টি |
| পেঁয়াজ | ২টি |
| রসুন | ৪ কোয়া |
| কাঁচা মরিচ ফালি | ৫/৬ টি |
| ধনে পাতা কুচি | স্বাদমতো |
| লাল মরিচ | ১ চামচ |
| হলুদ গুঁড়া | ১ চামচ |
| ধনিয়া গুঁড়া | ১ চামচ |
| জিরা গুঁড়া | হাফ চামচ |
| লবণ | স্বাদমতো |
| তেল | পরিমাণমতো |
উপকরণ সমূহ
রন্ধন পর্ব-১
প্রথমে আমি মাছ গুলোকে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়েছি।এরপর অন্যান্য উপকরণ গুলো সাজিয়ে নিয়েছি।এখন আমি সরাসরি চলে যাব রান্নার ধাপে।রন্নার জন্য প্রথমে আমি একটি পাত্র চুলায় বাসায় দিয়েছি।রানার পাত্রটি গরম হয়ে আসলে তাতে আমি পরিমাণ মত তেল দিয়ে দিব।তেল গরম হয়ে আসলে সেখানে বেটে রাখা পেঁয়াজ ও রসুন দিয়ে দিছি।রসুন পেঁয়াজ দিয়ে ভালো করে নেড়ে চেড়ে ভেজে নিতে হবে।
রন্ধন পর্ব-২
এখন পেঁয়াজ ও রসুন প্রায় ভেজে নেওয়া শেষ হয়ে গেছে।পেঁয়াজ ও রসুন ভেজে নেওয়া হয়ে যাওয়ায় অন্যান্য মসলা যেমনঃ লাল মরিচের গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, জিরে গুঁড়া এবং ধনিয়ার গুঁড়া ও সাথে পরিমাণমতো লবণ নিয়ে আগে থেকে পানি দিয়ে পেস্ট করে রেখে দিয়েছিলাম।সেই মেখে রাখা পেস্ট গুলোকে এখন আমি পেঁয়াজ রসুনের সাথে দিয়ে দিচ্ছি।এখন সব উপকরণ গুলোকে ভালোমতো মিক্স করে প্রয়োজন মত পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে।
রন্ধন পর্ব-৩
সব উপকরণ সমূহকে এক সাথে পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নেওয়া হয়ে গেলে আগে থেকে ধুয়ে রাখা মাছ গুলো দিয়ে দিব।সাথে দিয়ে দিছি কেটে রাখা টমেটো এবং কাঁচা মরিচ ফালি।
রন্ধন পর্ব-৪
এখন সব উপকরণ গুলোকে মিশিয়ে নেওয়া হলে আরো কিছুক্ষন সিদ্ধ করে নিয়েছি।কিছুক্ষণ সিদ্ধ করে নেওয়ার পর প্রয়োজনমতো ঝোল করার জন্য পানি দিয়েছি।এখন প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে থাকবো।যতক্ষণ না মাছ এবং তরকারি গুলো ভালোমতো সিদ্ধ হয়ে না আসে।
রন্ধন পর্ব-৫
এ পর্যায়ে এসে আমার আজকের তৈরি করা রেসিপি টমেটো দিয়ে ছোট মাছের ঝোল সিদ্ধ করা শেষ। এখন আমি চুলা বন্ধ করে দিয়ে পাত্রটি নামায় ফেলব।তরকারি গুলো ঠান্ডা হওয়ার জন্য কিছুক্ষণ রেখে দেবো।যখন ঠান্ডা হয়ে আসে তখন আমি একটা বাটিতে করে পরিবেশনের জন্য নিয়ে নিছি।তৈরি করা ছোট মাছের ঝোল খেতে অসাধারণ লাগে আমার কাছে।আশা করি আপনাদের কাছে আমার আজকে রেসিপিটি ভালো লেগেছে।
| ডিভাইসের নাম | Wiko,T3 |
|---|---|
| মডেল | W-V770 |
| ফটোগ্রাফার | @samhunnahar |
| ক্যাটাগরি | রেসিপি |
প্রিয় বন্ধুরা আমার আজকের রেসিপিটি আশা করি আপনাদের সকলের ভাল লাগবে।আপনাদের ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই মতামত দিয়ে জানালে খুশি হব।এছাড়াও কোন ধরনের ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে মন্তব্য করে সহযোগিতা করবেন।আজ আমি এখানে আমার লেখা শেষ করতেছি।আবার উপস্থিত হব নতুন কোন পোস্ট নিয়ে।সবাই সুস্থ থাকবেন।
@samhunnahar

আমি সামশুন নাহার হিরা।আমার ইউজার আইডি@samhunnahar।আমি আমার বাংলা ব্লগে কাজ করছি বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে।
আমি বাংলা ভাষায় লিখতে-পড়তে ভালবাসি। আমি রান্না করতে পছন্দ করি।ভ্রমণ আমার প্রিয় একটি নেশা।
আমি বিভিন্ন ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করি। আমি আমার মনের ভাব বাংলায় প্রাকাশ করতে পেরে অনেক আনন্দিত।তার জন্য আমার প্রাণের কমিউনিটি "আমার বাংলা ব্লগ"কে অনেক ভালবাসি।













আসলে আপু বড় মাছ থেকে ছোট মাছ আমার খুব পছন্দের। ছোট মাছের চচ্চড়ি খেতে আমার খুবই ভালো লাগে। আপনি খুব সুন্দর করে অত্যন্ত দক্ষতার সহকারে টমেটো দিয়ে ছোট মাছের ঝোল রেসিপি তৈরি করেছেন। এবং চমৎকারভাবে পর্যায় ক্রমে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। সত্যিই দেখে খুব ভালো লাগলো। আপনার রান্না করার দক্ষতা অনেক বেশি। এত সুন্দর পোস্ট শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
ধন্যবাদ ভাইয়া এত সুন্দর মতামত পেয়ে আমার খুব ভালো লাগলো।
আপু, ছোট মাছ নাম শুনলেই খুবই খাওয়ার ইচ্ছে হয়। কিন্তু ছোট মাছের নাম শুনলে বউ আমার দাঁত খিচিয়ে আসে। তার চেঁচামেচিতে কান দুটো আমার ঝালাপালা হয়ে যায়। তবুও আমি মাঝে মাঝেই ছোট মাছ নিয়ে আসি তাকে মজা দেখানোর জন্য। দাঁত খেচাখেচি করলেও খাবার সময় ঠিকই প্রশংসা করে ছোট মাছের। অনেক বলে ফেললাম আপু, এবার আসি আপনার রেসিপির কথায়, টমেটো দিয়ে ছোট মাছের মজার ঝোল রেসিপি দেখতে খুবই লোভনীয় হয়েছে। ছোট মাছে টমেটো দেয়ার কারণে স্বাদের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গেছে। দুর্দান্ত রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ছোট মাছ খাওয়া স্বাস্থের জন্য অনেক ভালো হয়।ভাবির কথা বলছেন ভাই আমিও করি এরকম কিন্তু তারপরও ছোট মাছ ভালো লাগে খেতে।ধন্যবাদ ভাইয়া।
টমেটো আর ছোট মাছের খুব চমৎকার একটি রেসিপি তৈরি করলেন। ছোট মাছের ঝোল খেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে। বিশেষ করে শীতকালের সময় টমেটো দিয়ে রান্না করলে খেতে আরো ভালো লাগে। আপনার রেসিপিটি দেখে মনে হচ্ছে খুবই সুস্বাদু হয়েছে। এরকম রেসিপি গুলো আসলেই খেতে এবং দেখতে খুব ভালো লাগে। ধাপে ধাপে অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করলেন। আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল।
আপু আমার ছোট মাছের ঝোলটা কেন জানি অনেক ভালো লাগে খেতে।খেতে সুস্বাদু হয়েছিল। ধন্যবাদ আপনাকে।
আমি তো বেশিরভাগ ছোট মাছ চচ্চড়ি ও সবজির সাথে খেয়েছি। আজকেও আমি ছোট মাছ খেয়েছি। তবে আপনার মতো ঝোল করে ছোট মাছ রান্না খুব কমই খেয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে ছোট মাছ ও টমেটো ঝোল রান্নার রেসিপিটা আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।
ছোট মাছের ঝোলটা ভীষণ ভালো লাগে ভাইয়া টমেটো দিয়ে খেলে।
মাছের তরকারি আমার কাছে বরাবরই ফেভারিট।আর শীতের ভেতর শীতকালীন সবজি দিয়ে রান্না আসলেই অমাইক হয়।আজও খেয়েছি।
খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।শুভ কামনা রইলো।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া আমার পোস্টটি পড়ার জন্য।
ছোট মাছ আর টমেটো দিয়ে করা এই রেসিপিটি আমার অত্যন্ত প্রিয় একটি রেসিপি ছিল। আপু আপনি খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন এটি। এই রেসিপিটি আমরা বাড়িতে তৈরি করার সময় ধনিয়া পাতা রান্না শেষ করার দুই মিনিট পূর্বে তরকারির মধ্যে দিয়ে থাকি, আপনি দেখলাম পরিবেশন করার সময় ধনিয়া পাতা দিয়েছেন । শুধুমাত্র এই ভিন্নতা ছাড়া আমরাও এইভাবে রেসিপিটি বাড়িতে করে থাকি।
ভাইয়া আমিও রান্নার সময় নামানোর একটু আগে দিই কিন্তু আমি এখানে সুন্দরের জন্য উপরে ছিটিয়ে দিছি।🤗🤗🤗 মিল আছে ভাইয়া।
আপনার টমেটো দিয়ে ছোট মাছের ঝোল রেসিপি করেছেন,দেখে মনে হচ্ছে অনেক সুস্বাদু হয়েছে। আসলে ছোট মাছের চচ্চড়ি অনেক করেছি। তবে আপনার মতো কখনো টমেটো দিয়ে এভাবে রান্না করি নি। একদিন অবশ্যই রান্না করবো। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটি রেসিপি শেয়ার করার জন্য।
হ্যাঁ আপু ছোট মাছের চচ্চড়ি অনেক খেয়েছি কিন্তু আমি এভাবে ঝোল করে ও খাই ধন্যবাদ।
টমেটো দিয়ে মজাদার ছোট মাছের ঝোল রেসিপি শেয়ার করেছেন আর রেসিপির ঝোলের কালার দেখে বোঝা যাচ্ছে খেতে অনেক মজা হবে। সত্যিই আপু দেখে জিহ্বায় জল চলে আসছে 😋
আমি সাধারণত ছোট মাছের চচ্চড়ি করে খাই। আবার অনেকে ছোট মাছ ভাজি করে খেতে পছন্দ করে। তবে এভাবে কখনো টমেটো দিয়ে ঝোল করে খাওয়া হয়নি। বেশিরভাগ সময় ছোট মাছের চচ্চড়ি করে খাওয়া হয়। আজকে আপনার কাছে নতুন একটি রেসিপি শিখে ভালো লাগল। মনে হচ্ছে এভাবে খেতে ভালো লাগবে।
আপু আমরা ছোট মাছের ঝোলটা এভাবে টমেটো দিয়ে রান্না করে প্রায় সময় খেয়ে থাকি।তবে চচ্চড়ি ও খাওয়া হয় কিন্তু ছোট মাছের ঝোলের মধ্যে প্রচুর পুষ্টি আছে।
আপনার মত আমারও ছোট মাছের তরকারি খেতে ভীষণ ভালো লাগে। ছোট মাছে অসম্পৃক্ত চর্বি আছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এমন ছোট মাছের চচ্চরি খেতে খুবই ভালো লাগে। আপনার রেসিপিটি দেখতে সুস্বাদু ও মজাদার মনে হচ্ছে। কালারটাও চমৎকার লাগছে।আর আপনি প্রতিটা ধাপ খুব সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন। এত সুন্দর একটি ছোট মাছের রেসিপি আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
বেশি বেশি ছোট মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো ধন্যবাদ আপনাকে।