কালীঘাট মায়ের মন্দিরে
নমস্কার বন্ধুরা,
যখনই আমি কলকাতা আসি তখনই আমার ইচ্ছে হয় কাছে পিঠের কোনো মন্দির থেকে ঘুরে আসার। বিশেষ করে কলকাতাতেই যখন দক্ষিণেশ্বর এবং কালীঘাট মন্দির রয়েছে। তবুও যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেই যে ঘুরে আসি তা কিন্তু নয়। অনেক সময় কাজের জন্য যেতে পারিনা আর কিছু সময় আমার আলসেমির জন্য। তাই এইবার আমি কলকাতায় এসে সেই টাই আগে পরিবর্তন করলাম। কালীঘাট মন্দিরে বিশেষ যাইনি তাই সেখানে যাওয়া ঠিক করলাম।
সকাল সকাল স্নান করে পরিষ্কার জামা কাপড় পড়ে বেরিয়ে পড়লাম মন্দিরের উদ্দেশ্যে। কালীঘাট প্রায় বাইশ কিলোমিটারের রাস্তা। শনিবার তাই সকালের রাস্তা ফাঁকা ছিল, আর ফাঁকা রাস্তা পেয়ে ঘন্টাখানেকের মধ্যে মন্দিরে পৌঁছে গেলাম। মন্দিরের প্রধান দ্বারের দিকে নানান ডেভলপমেন্টের কাজকর্ম চলায় সেদিকের রাস্তাটা বন্ধ ছিল তাই ঘুরে ঘুরে ২ নাম্বার গেটের দিক থেকে মন্দিরের চত্বরে প্রবেশ করলাম। মন্দিরের কাছে পৌঁছে প্যারা প্রসাদ ও কালী মায়ের পছন্দের জবা ফুল কিনে ২ নম্বর গেটের দিকে এগিয়ে গেলাম। দূর থেকে যদিও কিছু বুঝতে পারছিলাম না, ভেতরে গিয়ে আসলে টের পেলাম। গেট নাম্বার ২ এর কাছে যেতেই ভক্তের লাইনটা চোখে পড়ল।
লাইন ধরে পিছোতে শুরু করলাম। কিছুক্ষন চলার পরেও লাইন যখন শেষ হলো না তখন বিরক্ত হয়ে গেট নাম্বার ১ এর দিকে এগিয়ে গেলাম। সেখানে লাইনটা অনেক তবু গেট নম্বর ২ এর তুলনায় অনেকটাই কম তাই সেখানেই দাড়িয়ে পড়লাম। সামনে কমপক্ষে ৫০০ জন আছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে শুরু হলো অপেক্ষার পালা, মন্দিরে প্রবেশ করার অপেক্ষা। সকাল দশটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে মন্দিরে প্রবেশ করার সুযোগ পেলাম তখন ঘড়িতে ১১ টা পেরিয়েছে। অবহাওয়া ঠান্ডা ছিল তাই বাঁচোয়া। মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে আবার লাইন, এইবার মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য। সেখানেও বহু ভক্ত দাঁড়িয়ে। তাদের পিছনে আমিও দাঁড়িয়ে পড়লাম মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য।
আরো বেশ খানিকটা সময় দাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত পৌছালাম মাতৃগর্ভের কাছে। যদিও সেখানে বেশিক্ষণ থাকা গেল না। মন্দির কমিটির লোকজন খুব তাড়াতাড়ি ভক্তদের কে সামনে থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলেন তাই এতোটা সময় অপেক্ষার পরেও মা কে দেখার সুযোগ পেলাম না। উপায় না পেয়ে কিছুটা দূরে চলে গিয়ে ফের আরেকবার ফিরে এসে উঁচু হয়ে দাড়িয়ে মায়ের দিকে তাকালাম। যদি উনি দেখা দেন। মা দেখা দিলেন অল্প সময়ের জন্য হলেও। মায়ের কাছে আসা সার্থক হলো।

| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |






যাক শেষ মুহূর্তে এসে একটু হলেও যে মায়ের দর্শন করতে পেরেছেন এটাই বা কম কিসের! 🙏। আমারও অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল দক্ষিণেশ্বরে মায়ের দর্শন করা । অনেকবার ইন্ডিয়া গিয়ে ও ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছিল না। অবশেষে এইবার দাদার সাথে গিয়ে মায়ের সেই অপরূপ মুখটা দর্শন করে আসতে পেরেছি। এত মানুষের ভিড় উপেক্ষা করেও যে লাইনে দাঁড়িয়ে ধৈর্য সহকারে মায়ের কাছে গিয়েছেন দাদা, মা কিন্তু অনেক খুশি হয়েছে, এটা আমার বিশ্বাস। মা আমাদের সকলের মঙ্গল করুক।
জয় মা 🙏
শেষে অল্প সময়ের দেখা পেলাম। তাই বা কম কিসে। আহা। জয় মা কালী
আসলে আমাদের জীবনটা আলসেমির কারণেই অর্ধেকটা পিছিয়ে যায়। আপনি কলকাতায় এসে ককয়েকবার মন্দিরে যেতে চেয়েছেন কিন্তু অলসতার কারণে যাওয়া হয়নি। শেষ অবধি ঘন্টা খানেক লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় মায়ের দেখা পেয়েছেন।
সত্য কথা বলতে দ্বিধা নেই। আলসেমির জন্যই আগে যাইনি।
কলকাতার পোস্ট গুলো পরলেই ভাল লাগে আর ইচ্ছা জাগে সেখানে যাবার প্রতিবার মইস করেন এবার তাই প্রথমেই গিয়েছেন ভাল করেছেন দাদা।সুন্দর ছিল ব্লগ টা।
কোলকাতা তে আসতে হবে তাহলে। মানুষ দৌড়ে বেড়াচ্ছে।
প্রতিবার সময় সুযোগের অভাব এবং আলসেমির জন্য মন্দিরের না গেলেও এবার ঠিকই চলে গিয়েছেন দেখছি। রাস্তায় জ্যাম না থাকায় তাড়াতাড়ি পৌঁছে গিয়ে লাভ হলো না। এত লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হল। ৫০০ জনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চারটে খানি কথা নয়। তারপরও তো ধৈর্য সহকারে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত মন্দিরের ভিতরে পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। ভিতরেও আবার কত বড় লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কে জানে। যাক অবশেষে সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন তাই অনেক।
আসলে দিদি আরো সকালে বেরোতে হতো। বেলার দিকে ভিড় বেশি হয়েই যায়।
ভেতরে রীতিমতো যুদ্ধ করেছি। সেখানে ছবি তোলা নিষেধ ছিল বলে দেখাতে পারলাম না।
আহা মন জোড়ানো একটা পোস্ট। কালীঘাটে আজ পর্যন্ত যাওয়া হয় নি।আমার জন্মের আগে মা বাবা বোধকরি গিয়েছিলেন। আপনি সুযোগ পেলে মন্দির দর্শন করেন এটা খুবই ভালো ব্যাপার। ইচ্ছে আছে আমারও একবার যাওয়ার, আসলে ডিস্টেন্সটার জন্যই হয় না।
মন্দিরে ঘুরতে আমার খুব ভালো লাগে। সুযোগ পেলেই চলে যাই। খুব শান্তি।
দাদা , শেষ পর্যন্ত মায়ের দর্শন তাহলে করতে পারলে! পুজো দিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছো তাতেই মা সন্তুষ্ট হয়ে যাবে।
মা পরীক্ষা নেবেন এটাই তো হয়ে এসেছে। জয় মা।