জেনারেল রাইটিং- অনিশ্চিত জীবনে টাকার চেয়ে মনুষত্বটাই বেশী প্রয়োজন
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমিও আছি ভালোই। তবে ব্যস্ত এ নগরে কতটুকু সময় ভালো থাকতে পারবো সেটা বলা মুশকিল। শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় যান্ত্রিক জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুকে বন্ধ করে দিয়ে দূরে কোথাও সবুজ গাছের ছায়ায় নিজেকে একটু স্বস্থির ছায়া দিতে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবতা, সেটা তো বড়ই নিষ্ঠুর আর নির্মম। কোন কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। সে যাই হোক বাবা । চলুন মূল পোস্টে ফিরে যাওয়া যাক।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কে আমার লেখার যাদুতে আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের মাঝে নিজের মনের কথা গুলো কে শেয়ার করতে পারি। আজ চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল রাইটিংটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।

দিনের পর দিন চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর কখনও যে দিনের আলো শেষে রাত নেমে আসে সেটাই তো বুঝার উপায় নেই। থাকবে কি করে? আমরা তো আবার ভোগ বিলাসিতা আর টাকার পাহাড় গড়তে বেশামাল। অথচ একদিন যখন সকাল আর হবে না তখন এসব কিছুর প্রয়োজনীয়তাই থাকবে না। ভেবে দেখুন আপনি আমি নেই, কিন্তু আমাদের আয় করা সম্পত্তি আর টাকার পাহাড় এই পৃথিবীতে রয়েগেল তখন কেমন হবে? আমরা কি আর সেই টাকায় দিতে ওপারে সুখ কিনতে পারবো? নাকি বেহস্ত কিনতে পারবো?
এইতো গতকাল হয়েগেল স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প। সেই থেকেই ভাবছি যদি গতকালই সব শেষ হয়ে যেত তাহলে আজ কোথায় থাকতাম আমরা। রেক্টার স্কেলে মাত্র ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে যে পরিমান যতটুকু জানান দিয়ে গেছে, তা যদি ৭-৮ মাত্রার হয় তাহলে আমাদের কি হবে? কি হবে আমাদের গড়ে তোলা বিশাল বিশাল বাড়ী আর ফ্লাটের? আমরা তো তখন এগুলো কোন কাজে লাগাতে পারবো না। কিন্তু একটু যদি আমরা ভেবে দেখি যে এই পৃথিবীর বুকে বিশাল সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলতে আমরা কত মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে টাকা ইনকাম করেছি, কত অসৎ কাজে লিপ্ত করেছি তাহলে কিন্তু সেই হিসাব আর মিলাতে পারবো না।
আসলে আমরা যে যাই বলি না কেন আমাদের জীবনের কোন নিশ্চয়তা নেই। আর ছোট্র এই জীবনে বেচেঁ থাকতে হলে কতটুকু সম্পত্তি লাগে? কত টাকার প্রয়োজন। আমাদের দৈন্দিন জীবন যাপন খাওয়া দাওয়া আর কিছুটা সখ। এইটুকু আয় করার জন্য কি আমাদের খুব বেশী অসৎ হওয়া দরকার? এইটুকু ইনকাম করার জন্য কি অন্যের হক নষ্ট করে নিজেই সব কিছু ভোগ দখল করা দরকার? নাকি নিজের মনুষত্বকে বিলিয়ে দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করে নিজেরটা বুঝে নেওয়া দারকা? এমন প্রশ্ন গুলোই গত কয়েকদিন যাবৎ নিজের মনের মাঝে বার বার হানা দিচ্ছে। কিন্তু আমি কোন হিসাব মিলিয়ে পাচ্ছি না।
আমাদের চারপাশে এমন অনেক পরিবার আমরা দেখি যে, যেখানে বাবার ওরসজাত সন্তান হয়েও বাবার সম্পত্তি হতে বঞ্চিত। পরিবারের অন্যরা নিজেদের ভাগ বুঝে নিলেও পরিবারের বোকা মানুষটি তার ন্যায অধিকার থেকে বঞ্চিত। আর এমন মানুষগুলোকে কেউ সাহায্য করতেও এগিয়ে আসে না। আবার এমন মানুষগুলো পরিবারের সম্মনের কথা চিন্তা করে কখনও কোন পদক্ষেপও গ্রহন করে না। অথচ যে মানুষ গুলো বোকা মানুষটিকে ঠকিয়ে নিজেরা সুখের প্রাসাদ গড়ে থাকছে তাদের কি একবারও আখেরাতের কথা মনে হয় না? সত্যি বলতে এখানেই মনুষত্বের অভাব।
আবার আমাদের জীবনে এমন কিছু মানুষ আসে যাদের সাথে আমাদের বেশ ভালো জানাশোনা। যাদের সাথে প্রতিদিন না হোক মাসে হলেও একবার দেখাশুনা বা হায় হ্যালো তো হয়ই। এক কথায় আমরা যাদের কে নিজেদের বন্ধু মনে করি। অথবা একজন শুভাকাক্ষী মনে করি। অথচ লক্ষ্য করে দেখবেন জীবন চলার পথে যদি কোন ভালো সুযোগ আসে তাহলে সেই মানুষগুলোই আপনাকে আমাকে পিছনে ফেলে দিয়ে নিজেদের কথাই সবার আগে চিন্তা করে। তাহলে এদের মধ্যে মনুষত্বটা কোথায়? তাই তো আমার মনে হয় দুষ্টু গোয়ালের চেয়ে শূণ্য গোয়াল অনেক ভালো।
সত্যি বলতে ইদানিং সময়ে চারদিকে চোখ দিলেই দেখি সবাই শুধু নিজের কথাই ভাবে। সবাই কেবল নতুন নতুন চাহিদার তৈরি করে। আর যে কোন উপায়ে টাকা ইনকামের জন্য মরিয়া হয়ে পড়ে। হোক সেটা অসৎ পথ, বা কারও হক নষ্ট করা। এসব কথা ভাবার যেন কোন সময় এখন মানুষের হাতে নেই। শুধু চাই আর চাই। সত্যি বলতে পৃথিবীর মানুষগুলো জীবনযাপন দিনের পর দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে মানুষ হয়ে পড়ছে একা। মানুষ এখন বন্ধু বা পরিবারের চেয়ে নিজেকে নিয়ে একা বাচঁতেই বেশী পছন্দ করে।
সবশেষে আমি একটি কথাই বলবো আমাদের জীবন যেহেতু অনিশ্চিত সেখানে জীবনকে বেশী করে ভালোবাসা উচিত। সেই সাথে সেই সাথে সরে আসা উচিত সকল অসৎ এবং নৈতিক কাজ থেকে। চারপাশের, পরিবারের, আত্মীয়স্বজন বন্ধু বান্ধবের সাথে গড়ে তোলা উচিত সুন্দর এবং ভালো সক্খতা। নিজের মাঝে যদি কিছুটা হলেও মনুষত্ব থাকে তাহলেই সমাজ এবং পরিবার আপনার আমার থেকে ভালো কিছু পাবে। গড়ে উঠবে একটি সুন্দর সমাজ। আর আমরা পাবো কিছু মনুষত্বে গড়া মানুষ। তাই আসুন আমাদের এই অনিশ্চিহত জীবনে টাকার চেয়ে মনুষত্বটাকেই বেশী প্রাধান্য দেই।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।


