শেষ চিঠিটা
কখনো কখনো আমাদের জীবনে এমন একজন মানুষ আসে…
যে মানুষটা খুব অল্প সময়েই আমাদের পুরো পৃথিবী হয়ে যায়।
আরিয়ান ছিল খুবই শান্ত স্বভাবের একটি ছেলে।
কলেজ, বন্ধু আর নিজের ছোট ছোট স্বপ্ন নিয়েই তার জীবন চলছিল।
কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই তার জীবনে এলো একটি মেয়ে… নাম তার নীলা।
সেদিন ছিল নতুন সেমিস্টারের প্রথম দিন।
কলেজ ক্যাম্পাসে সবাই খুব ব্যস্ত।
আরিয়ান লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। ঠিক তখনই একটি মেয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে এসে তার সাথে ধাক্কা খেল।
মেয়েটার হাত থেকে বইগুলো মাটিতে পড়ে গেল।
আরিয়ান দ্রুত নিচু হয়ে বইগুলো তুলে দিল।
মেয়েটি একটু লজ্জা পেয়ে বললো,
“সরি… আমি একটু লেট হয়ে গিয়েছিলাম।”
আরিয়ান হালকা হেসে বললো,
“সমস্যা নেই। তবে মনে হচ্ছে প্রথম দিনেই বেশ অ্যাডভেঞ্চার হয়ে গেল।”
মেয়েটি হেসে বললো,
“আমি নীলা। আজ আমার প্রথম দিন এখানে।”
সেদিনের সেই ছোট্ট পরিচয়টাই ধীরে ধীরে একটা সুন্দর বন্ধুত্বে পরিণত হলো।
ক্যান্টিনে আড্ডা, লাইব্রেরিতে একসাথে পড়া, ক্লাস শেষে ক্যাম্পাসে হাঁটা…
কখন যে তারা একে অপরের সবচেয়ে কাছের মানুষ হয়ে উঠেছিল, তারা নিজেরাও বুঝতে পারেনি।
কিন্তু আরিয়ান একটা বিষয় বুঝতে পেরেছিল…
সে নীলাকে শুধু বন্ধু হিসেবে দেখে না।
সে নীলাকে ভালোবেসে ফেলেছে।
কিন্তু সে কখনো সাহস করে সেটা বলতে পারেনি।
কারণ সে ভয় পেত…
যদি এই বন্ধুত্বটাই হারিয়ে যায়।
এভাবেই সময় যেতে লাগলো।
কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই নীলা বদলে যেতে শুরু করলো।
আগের মতো ফোন করতো না।
মেসেজের উত্তরও দিতো দেরিতে।
আরিয়ান বুঝতে পারছিল কিছু একটা ঠিক নেই।
একদিন সে সাহস করে নীলাকে জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি কি আমাকে এড়িয়ে চলছ?”
নীলা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
তারপর ধীরে ধীরে বললো,
“আমাদের হয়তো একটু দূরে থাকা উচিত…”
এই কথাটা শুনে আরিয়ানের বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
সে বুঝতে পারছিল না…
হঠাৎ করে সবকিছু কেন বদলে গেল।
কয়েকদিন পর সে জানতে পারলো…
নীলা তার পরিবারের সাথে অন্য শহরে চলে যাচ্ছে।
সেদিন ছিল নীলার যাওয়ার দিন।
বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিল তারা দুজন।
চারপাশে অনেক মানুষ… কিন্তু তাদের দুজনের জন্য যেন পুরো পৃথিবীটাই থেমে গিয়েছিল।
আরিয়ান অবশেষে সাহস করে বললো,
“আমি জানি হয়তো এখন বলার সময়টা ঠিক না…
কিন্তু যদি আজ না বলি, তাহলে হয়তো কোনোদিনই বলা হবে না।”
নীলা চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।
আরিয়ান ধীরে ধীরে বললো,
“আমি তোমাকে ভালোবাসি, নীলা।”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর নীলার চোখে পানি চলে এলো।
সে হালকা হেসে বললো,
“আমি তো অনেক আগেই তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম…”
আরিয়ান অবাক হয়ে বললো,
“তাহলে দূরে সরে যাচ্ছিলে কেন?”
নীলা বললো,
“কারণ আমি জানতাম… আমি চলে গেলে তুমি খুব কষ্ট পাবে।
তাই নিজেকে একটু একটু করে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিলাম।”
সেদিন বাসটা ধীরে ধীরে ছেড়ে দিল।
নীলা জানালার পাশে বসে ছিল… আর আরিয়ান দাঁড়িয়ে ছিল রাস্তার পাশে।
কিন্তু তাদের দুজনের মনেই একটা কথা পরিষ্কার ছিল—
কিছু ভালোবাসা দূরত্বেও শেষ হয় না।
বরং দূরত্বই মাঝে মাঝে ভালোবাসাকে আরও সত্যি করে তোলে।
আর হয়তো কোনো একদিন…
আবার কোনো এক বিকেলে…
তারা ঠিকই আবার দেখা করবে।
