গল্প রাইটিং:-" পড়ন্ত বেলার ভালোবাসা "II written by @maksudakawsarII
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন সৃষ্টিকর্তার রহমতে । আমিও আছি আপনাদের দোয়ার বরকতে জীবন নিয়ে ভালোই। তবে কেন জানি আজকাল ব্যস্ততাগুলো আমায় দারুন প্যারা দিচেছ। প্যারা দিচ্ছে জীবন আর সময় দুটোই। কিন্তু আমি তো ব্যস্ততা চাই না। চাই একটু শান্তি আর প্রশান্তি। চাই একটু স্বাধীনতা। যাই হোক এসব কথা বলে শুধু শুধু সময় নষ্ট করে লাভ নেই। তাই চলে যাই আজ আপনাদের জন্য আমার লেখা সুন্দর গল্পে। যা কিনা বাস্তব জীবেন থেকে সংগ্রহ করা।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আমি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের বাস্তব কিছু ঘটনাকে গল্পে রূপ দিয়ে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করতে। যাতে করে আমার লেখার যাদুতে আপনারা মুগ্ধ হতে পারেন। যদিও সময় করে উঠতে পারি না। যদিও নিজের ক্রেয়েটিভিটি আপনাদের মাঝে তুলে ধরার সময় হয় না। তবুও চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল গল্পটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।

অমি দেখতে শুনতে বেশ সুন্দর একজন রমনী। পড়াশুনা শেষ করে সবে মাত্র নতুন চাকরিতে জয়েন করেছে। বাবা মা আর ছোট ভাই কে নিয়ে তাদের ছোট সংসার।সংসারের সমস্ত দায়িত্ব এখন অমির কাঁধেই। কারন অমির বাবা বেশ কিছুদিন হলো চাকরি হতে অবসর গ্রহণ করেছেন। বাবার ঔষধ থেকে শুরু করে সংসারের সব দায়িত্বই অমি কে পালন করতে হয়। খুব মিষ্টি মেয়ে হিসাবে অমি সবার কাছে বেশ প্রিয়। বন্ধুদের চোখের মনি অমি। কারন অমি সব সময় তার নিজের মধ্যে একটি ব্যক্তিত্ব নিয়েই চলে।সবার সাথেই হাসি মুখে কথা বলার চেষ্টা করে অমি।
কোন বাজে আড্ডা বা অহেতুক ঘুরে বেড়ানোর মেয়ে অমি নয়। সকালে নিজের জীবিকার টানে অফিসে যায়। আর অফিস শেষে সোজা বাসায় আসে অমি।তারপর একটু ফ্রেশ হয়ে মায়ের সাথে সংসারে কাজে একটু সহায়তা করে নিজের রুমে ঢুকে বিশ্রাম করে। আর এমন করেই চলে যাচ্ছে অমির জীবন। অমির বাবা মা বেশ চেষ্টা করে যাচেছ অমিকে বিয়ে দেওয়ার। কিন্তু অমি বার বার একই অজুহাত দেখায় যে আগে ছোট ভাইকে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলুক। তাই বিয়ের কথা শুনলেই রেগে যায় অমি।আর এ কারনেই অমির বাবা মা অমির সামনে বিয়ের কথা বলতেও ভয় পায়।
রাতুল অমির স্কুল জীবনের বন্ধু। দেশের পড়াশুনা শেষ করে বেশ কিছুদিন দেশের বাহিরে ছিল হায়ার এডুকেশনের জন্য। অনেক বছর পর রাতুল দেশে ফিরেছে। তাই রাতুল অমির সাথে দেখা করার জন্য তাদের বাসায় আসে। অমিও রাতুল কে দেখে বেশ খুশি হয়েছে। বহুদিন পর রাতুলের সাথে দেখা। এক সময়ে বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল তারা। কেউ কাউ কে ছাড়া কিছুই বুঝতো না। তাদের এমন বন্ধুত্ব দেখে অন্য বন্ধুবান্ধবরা বেশ হিঃসেই মরে যেত। সেই রাতুল আজ দেশে ফিরেছে। আর দেশে ফিরেই ছুটে এসেছে অমির সাথে দেখা করতে।
রাতুল দেশে আসার পর হতে আজকাল অমি আর রাতুল প্রায় সময় করে দেখা করে। মাঝে মাঝে একটু এদিক সেদিক ঘুরতে যায়। বেশ আনন্দে কাটছে আজকাল অমির দিনগুলো। এরই মধ্যে রাতুল একদিন অমি কে একটি গিফট বক্স দেয়। অমি বুঝতে পারে না সেই বক্সে কি আছে। কিন্তু অমি যখন বাসায় এসে রাতে সেই গিফট বক্সটি খোলে তখন দেখা যায় সেই বক্সে একটি কিছু চকলেট আর একটি চিঠি আছে। অমি বেশ মনযোগ সহকারে সেই চিঠিটি পড়ে। কিন্তু চিঠির ভাষা পড়ে অমি বেশ কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। কারন চিঠির মধ্যে লেখাছিল যে রাতুল অমিকে বেশ ভালোবাসে। সেই কলেজ জীবন থেকে রাতুলের একমাত্র ভালোবাসা ছিল অমি। রাতুল ভেবেছিল দেশে ফিরে অমি কে সে তার মনের কথা খুলে বলবে। কিন্তু তার আগেই সব শেষ।
রাতুল দেশে ফিরার আগেই তার দেহে ধরা পরে মরণ ঘাতি ক্যান্সার। ডাক্তার রাতুলের বাঁচার কোন আশা দেখে না। আর এমন সময়ে রাতুল তার জীবনের বাকী সময়ের জন্য অমির পাশে থেকে একটু আনন্দ নিযে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চায়। রাতুলের এমন কথাগুলো পড়তে পড়তে অমি কান্নায় ভেঙ্গে পরে। কারন রাতুলের মত অমিও মনে মনে রাতুল কে বেশ ভালাবাসে। হয়তো বলার সাহস অমিরও ছিল না। কিন্তু আজ কি হয়ে গেল তাদের জীবনে। সারা রাত অমি ঘুমাতে পারেনি। তাই পরদিন অমি আর অফিসেও যায়নি। সকালে নাস্তার টেবিলে বাবা মায়ের কাছে অনুমতি চায়। অনুমতি চায় জীবনের বাকী দিনগুলো রাতুলের পাশে থাকার। অনুমিতি চায় জীবনের বাকী সময় গুলো রাতুল কে ভালোবেসে তার কষ্ট গুলো কে ভুলিয়ে দেওয়ার। আর তাই অমি সিদ্ধান্ত নেয় যে সে রাতুল কে বিয়ে করবে।
মেয়ের কান্না আর কষ্ট দেখে অমির বাবা মাও যেন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তাই অমির বাবা মা রাতুলের পরিবারের সাথে কথা বলে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে দেয়। রাতুল আর অমি বিয়ের পর বেশ সুন্দর সময় পার করে। তারা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা কিছুদিনের জন্য রাতুলের অসুখের কথা ভুলে যাবে। তারা এখন পৃথিবীতে নতুন স্বপ্ন দেখবে। আর তাদের দিনগুলো কে রাঙিয়ে তুলবে। তাই জীবনের সুন্দর সময়গুলো কে নিজেদের মত করে উপভোগ করতে যা যা করনীয় সব কিছুই অমি এবং রাতুল করে। আর রাতুলও যেন তার দেহের অসুখ ভুলে যায় মনের সুখে।
এমন করে বিয়ের এক বছর পার হয়ে গেল। আজ রাতুল ও অমির প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। আর প্রথম বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বেশ সু্ন্দর করে রাতুল ঘর সাজিয়েছে। অমি অফিস থেকে ফিরে দেখে তার ঘর যেন বেহস্তখানা। আজ আর রাতুল বাহিরে যাবে না। আজ অমি কে নিয়ে ঘরেই সময় কাটাবে। অমিও বেশ সুন্দর করে সেজেছে রাতুলের জন্য। হাসি ভালোবাসা আর সুন্দর অনুভূতিতে কেটে গেল সেদিনের সে রাত। কিন্তু যা ঘটার সবটাই ঘটে গেল পরদিন সকালে। অমি নাস্তার টেবিলে রাতুল কে ডাকলেও রাতুল সারা দেয় নি। রাতুল সারা দেয়নি কারন রাতুল এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে অমির ভালোবাসা নিয়ে এই পৃথিবী থেকে চলে গেছে চিরদিনের জন্য।
যাবার বেলায় রাতুল অমির জন্য রেখে গেল রাতুল সকল সম্পত্তি, টাকা পয়সা। আর সেই সাথে রেখে গেল অমির গর্ভে রাতুলের ছয়মাসের সন্তান। সেই সাথে অমির জন্য রাতুলের একটি ভালোবাসার আর অনুভূতির নীল খাম। অমি আজ নিস্তব্দ। জীবনের বাকীটা সময় রাতুলের স্বপ্ন কে বুকে ধারন করে জীবনের বাকীটা সময় কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আজ অমির চোখে।
জানিনা কেমন লাগলো আমার আজকের গল্পটি। আশা করি আপনাদের সবার কাছেই আমার গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে। ভালো থাকবেন।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
.gif)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



Hello @maksudakawsar, I hope you are well, I am running a witness node (faisalamin) for the past 2 years. And the SteemPro is the leading project of my witness, My contributions also include in
SteemPro is also open-source and I am activily making it more and more useful for the end user. You support for witness @faisalamin will be highly appreciated. Please consider voting witness faisalamin
https://www.steempro.com/witnesses#faisalamin