ছোটবেলায় আমার সাইকেল চালানো শেখার ঘটনা।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে স্মৃতি কথা শেয়ার করব। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, ছোটবেলায় আমার সাইকেল চালানো শেখার ঘটনা।

ঘটনাটা ২০০৩ সালের। তখন আমি ক্লাস থ্রিতে পড়তাম। আমাদের গ্রামের এক পাশে নতুন পাকা রাস্তা হয়েছিল। আমার সহপাঠী এবং বন্ধুরা ঠিক করল সাইকেল চালানো শিখবে। তখন আমাদের গ্রাম্য বাজারে আব্দুর রহমান নামে একজনের সাইকেলের গ্যারেজ ছিলো। উনি ছোট, বড়, মাঝারি সাইজের সাইকেল ভাড়া দিতেন। ঘন্টা ৫ টাকা। সবাই উনার কাছ থেকে সাইকেল ভাড়া নিয়ে শিখত আর চালাতো।
আমার নানা আর দাদা দুই আপন ভাই ছিলেন। আমাদের বাড়িটাও বড় ছিলো। দাদারা থাকতো পুরাতন বাড়িতে। সেটা বেশ বড় বাড়ি ছিলো। তখনই চল্লিশটা ঘর ছিলো। নানারা থাকতো নয়া বাড়িতে। এখানে ছিলো পনেরাটা ঘর। বাবাও বছর দুয়েক আগে এখানেই আধাপাকা ঘর তুলেছিলেন। যেহেতু বাড়িতে সম্পর্কের দিক থেকে সবাই সমান ছিলো, তাই পুরাতন বাড়ির সবাইকে বাবার সম্পর্কের দিক থেকে ডাকতাম চাচা, জ্যাঠা, দাদা। আর নয়া বাড়ির সবাই ছিলো মামা, নানা।
সোহাগ মামা, শাওন মামা, রাসেল মামা ছিলেন তাই মামা। সম্পর্কে আবার উনারা আমার মায়ের মামাতো ভাই। যাইহোক, উনারা আমাকে বেশ আদর করতেন। শাওন মামা আমাকে সাইকেল চালানো শিখানোর দায়িত্ব নিলেন। খুব কঠিন কিছুনা। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই শিখে গেলাম।
মামাও তেমনটাই ভেবেছিলেন। তাই হুট করেই আমাকে ছেড়ে দিলেন। আমি ভেবেছিলাম মামা ধরে আছে। কিন্তু পিছনে তাকিয়ে মামা দূরে, আমাকে বলছেন সামনের দিকে তাকিয়ে চালানোর জন্য। আমি সামনে তাকিয়ে দেখি সেই নতুন পাকা রাস্তার পাশে একটা নারিকেল গাছ। একদম সই করে সেই গাছের সাথে মেরে দিলাম। পড়ে গিয়ে আমিও হাসছি, মামাও হাসছে।
যাক, মামার অসীম ধৈর্য, কষ্ট আর ত্যাগের বিনিময়ে আমি এক সময় সাইকেল চালানো শিখেছি।