গল্প- শাহ আলম ভাই এবং ঘুড়ি।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশাকরি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি গল্প শেয়ার করব। যার মূল কেন্দ্রে রয়েছে শাহ আলম নামের এক ছেলে।

শাহ আলম ভাই সম্পর্কে আমার ফুফাতো ভাই। উনি যথেষ্ট কালো চামড়ার অধিকারী একজন লোক। একই সাথে তিনি ছিলেন খুবই লম্বা এবং উনার উচ্চতা হারে কিছুটা চিকন। যেহেতু উনি উনার সমবয়সীদের চেয়ে লম্বা ছিলেন এবং ছোট বেলা থেকেই বাবার সাথে কৃষিকাজে অভ্যস্ত ছিলেন, তাই অনেক শক্তিশালীও ছিলেন। এহেন কারনে আমাদের মধ্যে কেউই কখনও শাহ আলম ভাইকে তার গায়ের চামড়া নিয়ে বুলিং করার সাহস পায়নি।
শাহ আলম অনেক কাজ জানত। এরমধ্যে একটি ছিলো ঘুড়ি বানানো এবং ওড়ানো। আরেকটি ছিলো ইলেকট্রনিকস এর টুকটাক কাজও তিনি পারতেন। ওই সময় আমরা কেবল পলিথিন কাগজ দিয়ে চতুর্ভুজ ঘুড়ি বানিয়ে ওড়াতাম। কিন্তু শাহ আলম ভাই ছিলেন সৌখিন মানুষ। তিনি বানাতেন "বোঁরা ঘুড়ি"। বড় আকারের ঘুড়ি, যা ওড়ানোর জন্য নাইলনের সুতা লাগতো, আকাশে বোঁ বোঁ করত, তাই এমন নাম। অবশ্য এর মূল নাম এখনও আমার অজনা।
এখানেই উনার সৌখিনতা শেষ হতো না। আমরা কেবল দিনে ঘুড়ি ওড়াতাম। শাহ আলম ভাই রাতেও ঘুড়ি ওড়াতেন। এর সাথে আবার সন্ধ্যা হলেই উনার নিজস্ব মেকানিজমে তৈরি সিডি ক্যাসেটের উপর পেন্সিল ব্যাটারি দিয়ে জ্বলে এমন বাত্তি লাগিয়ে দিতেন। সাথে ব্যাটারিও থাকতে, তা আবার জ্বলত। সেটা আবার তিনি ঘুড়ির কাছে পৌছাতেও পারতেন।
রাতের আকাশে বোঁ বোঁ শব্দ, একটি সাদা আলোর দোল খাওয়া দেখেই আমরা বুঝে যেতাম শাহ আলম ভাইয়ের বিখ্যাত বোঁরা ঘুড়িটা তখন কই আছে।