একটি ক্লান্তিকর দিন ও বাবা হিসেবে আমার অসহায়ের মুহূর্তগুলো।।
বাংলা ভাষার কমিউনিটি
হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই অনেক ভালো এবং সুস্থ আছেন
আজকের দিনটি আমার জন্য সত্যিই ভীষণ কঠিন কেটেছে। ঢাকায় আমার স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে নুসাইবাকে নিয়ে আমরা ছোট্ট একটি পরিবার। নুসাইবার বয়স এখন ১ বছর ১০ মাস রানিং। এই বয়সে সাধারণত বাচ্চারা নতুন নতুন খাবারের স্বাদ নিতে শিখে, ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে ওঠে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত।
নুসাইবা এখনো মায়ের দুধ ছাড়া প্রায় কিছুই খেতে চায় না। ভাত, খিচুড়ি, নুডলস, ফল যা-ই দেওয়া হোক না কেন, এক-দুই চামচের বেশি মুখে তোলেই না। যতটুকু খায়, সেটাও আবার কষ্ট করে। যার ফলে দিনে ঠিকমতো পেট ভরে না, আর রাতে কয়েকবার ঘুম ভেঙে কান্না করে। একজন বাবা হিসেবে এটা দেখা সত্যিই কষ্টের কিন্তু কিছু করার থাকলেও যেন করতে পারছি না।
গতকাল নুসাইবার হঠাৎ জ্বর আসে। মুখে ঘাঁ হয়ে গেছে, হাত-পায়ে এলার্জির মতো খুচখুচে রেশ বের হয়েছে। বাচ্চা যখন অসুস্থ হয়, তখন তার প্রতিটি ছোট অভিযোগই যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো লাগে। তার উপর আরও এক ধাপ দুঃসংবাদ নুসাইবার আম্মুও জ্বরে শয্যাশায়ী। তরকারি কাটতে গিয়ে তার হাতেও গভীর কেটে গেছে। ফলে সংসারের দুইজনই অসুস্থ, আর আমি একাই পুরো পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি।
আজ সকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে গেল। নুসাইবা সকাল আটটা থেকেই কান্না থামতেই চাইছে না। কিছু খেতে দিচ্ছি খাচ্ছে না। ওষুধ দিতে গেলে যেন যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ছোট্ট একটি শিশুকে ওষুধ খাওয়ানো এ যেন বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর ও যখন কাঁদতে কাঁদতে হাত-পা ছুড়াছুড়ি করছে, তখন নিজের মনও ভেঙে যাচ্ছে।
দুপুর একটা পর্যন্ত আমি চেষ্টা করেই যাচ্ছিলাম তাকে শান্ত করার। কিন্তু সারাদিনের ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, দুইজন অসুস্থ মানুষকে নিয়ে একা সব সামলানোর চাপ সব মিলিয়ে এক পর্যায়ে নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। অসুস্থ, কান্নাবর্তী মেয়েকে একটি চড় মেরে ফেলি।
এই মুহূর্তটি সারাদিন আমাকে তাড়া করে ফিরেছে। চড় দেওয়ার পর পরই মনে হলো আমি কি করলাম? আমি তো তাকে ভালোবাসি পৃথিবীর যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি। তার কষ্ট দেখে আমারই বুক ফেটে যায়। কিন্তু রাগ ও চাপের কাছে আজ আমি হেরে গেলাম। একজন বাবা হিসেবে এটা ছিল আমার সবচেয়ে খারাপ মুহূর্তগুলোর একটি।
আজ অফিসেও যেতে পারিনি। মাথা ব্যথা, শরীর দুর্বল, ঘুমহীন ক্লান্তি সব মিলে মাথা ঘুরছিল। তবুও মন বলছিল, অফিসে গেলে মনটা কিছুটা শান্ত হবে, অন্যদিকে নুসাইবাকে রেখে যাওয়ার চিন্তা টানছিল বিপরীত দিকে। শেষমেশ অফিস না যাওয়ার সিদ্ধান্তই নিতে হলো।
দিনের শেষে যখন একটু শান্ত হওয়ার চেষ্টা করছি, তখন মনে হচ্ছে আমরা বাবা-মা হলেও মাঝে মাঝে ভেঙে পড়ি, কষ্ট হয়, ভুল করি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা আমাদের সন্তানকে কম ভালোবাসি। বরং ভালোবাসার কারণেই তার প্রতিটি কষ্ট আমাদের ভিতরটা নাড়িয়ে দেয়।
আমি এখনো আশা রাখছি এই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাবে। নুসাইবা সুস্থ হবে, খাবার খেতে আর ভয় পাবে না, রাতে ঘুম ভাঙবে না। স্ত্রীও ভালো হয়ে উঠবে। আর আমিও নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখবো,এটা আমার জন্যই নয়, আমার মেয়ের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
আজকের দিন আমাকে একটা বড় শিক্ষা দিয়েছে চাপ যতই আসুক, রাগের কাছে হার মানা যাবে না। বাচ্চারা বোঝে না আমরা কতটা কষ্টে আছি, কিন্তু আমরা তো তাদের বোঝার ক্ষমতা রাখি। তাই আমার মতো ভুল যেন অন্য কেউ না করে এই কামনাই করি।
জীবন কখনো কখনো কঠিন হয়, তবে আশা রাখি আগামী দিনগুলো আজকের দিনের মতো হবে না। অন্ধকার রাতের পর যেমন সূর্য ওঠে, তেমনই একদিন নিশ্চয়ই সব ঠিক হয়ে যাবে।
সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ হাফেজ।।
আমি একজন বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতে আমার বসবাস। সিম্পল আমার স্বপ্ন সিম্পল আমার জীবন। স্টিমিট আমার জীবনের একটি অংশ, আমার বাংলা ব্লগ আমার পরিবার। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমি স্টিমিটকেই চিনি। ভ্রমন করা, ফটেগ্রাফি করা আর বই পড়া আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি মানুষের জীবনে উত্তান পতন আছেই। সর্বপরি কাজ করতে হবে লেগে থাকতে হবে, তাহলেই একদিন সফলতা আসবে,এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে ধন্যবাদ।।
Bangla Witness কে সাপোর্ট করতে এখানে ক্লিক করুন
এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য
Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
250 SP 500 SP 1000 SP 2000 SP 5000 SP
Click Here For Join Heroism Discord Server


















আপনার পুশ ব্যালেন্স এদকমই নেই, দ্রুত রিচার্জ করার অনুরোধ করা হলো। ধন্যবাদ
পুশ রিচার্জ করেছি। ধন্যবাদ ভাইয়া।