মানুষ কোথায়?
মানুষের ভিড়ে মানুষ খুঁজি, মানুষ কোথায় পাই? অথচ মানুষ হওয়া কোনো কঠিন সাধনা নয়, তবুও সেই সাধনায় যেন মানুষের বড় অভাব। সুশিক্ষা গ্রহণ করা, সৎ পথে চলা, ভালো কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা, সুদ, ঘুষ, মাদক, অন্যায়, দুর্নীতি কিংবা সব ধরনের হারাম কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস রাখা—এসবই তো একজন প্রকৃত মানুষের পরিচয় বহন করে। এতটুকু ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতা যার মধ্যে থাকবে, সমাজ তাকে এমনিতেই ভালো মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করবে।
কথাগুলো শুনতে খুবই সাধারণ মনে হতে পারে, কিন্তু একটু গভীরে গিয়ে ভাবলেই বোঝা যায়, প্রতিটি বিষয়ের কত শাখা-প্রশাখা রয়েছে। সৎ থাকা যেমন সহজ কথা, তেমনি অসৎ পরিবেশের মধ্যে সততা ধরে রাখা অত্যন্ত কঠিন কাজ। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা মুখে সহজ হলেও বাস্তবে তার জন্য সাহস, ধৈর্য এবং আত্মত্যাগের প্রয়োজন হয়। ভালো মানুষ হওয়ার পথ কখনোই শুধু কিছু নীতিকথা মুখস্থ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতিদিন নিজের বিবেকের সঙ্গে লড়াই করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যেই এর প্রকৃত পরীক্ষা।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা এমন এক সমাজে বাস করি যেখানে অনেক সময় সঠিক পথে চলা মানুষকে নিরুৎসাহিত করা হয়, আর অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা মানুষকে নানা সুবিধা ভোগ করতে দেখা যায়। ফলে অনেকেই সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। সমাজ যেন চায় সবাই প্রচলিত স্রোতে গা ভাসিয়ে দিক; কেউ আলাদা হয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়াক, তা অনেকেরই সহ্য হয় না।
তাই আজকাল সঠিক পথে থাকা কিংবা ন্যায়ের কথা বলা অনেক ক্ষেত্রে মুখের বুলিতেই বেশি মানানসই মনে হয়। বাস্তবে চারদিকে যেন মুখোশের সমারোহ। মানুষ আছে, কিন্তু মানবিকতা নেই; পরিচয় আছে, কিন্তু চরিত্র নেই; সম্পর্ক আছে, কিন্তু আন্তরিকতা নেই। তাই মানুষের ভিড়ে প্রকৃত মানুষ খুঁজে পাওয়া দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এই কারণেই মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে—কোথায় মানুষ? কোথায় গেলে মানুষের দেখা মিলবে? এমন প্রশ্নের জন্ম হওয়া অযৌক্তিক নয়। কারণ চারপাশে অকাজের মানুষের অভাব নেই, কিন্তু সত্যিকার অর্থে কাজের মানুষ, বিবেকবান মানুষ, নীতিবান মানুষ যেন ক্রমশ বিরল হয়ে পড়ছে। এটাই আজকের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতা, যা কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না।
