সংবাদ বিশ্লেষণ: ১ বাণিজ্য; আমেরিকা-রাশিয়া-চীন চুক্তি
"ট্রাম্পের তেল যুদ্ধ: ভেনেজুয়েলার কাঁচা তেল কি এখন আমেরিকার হাতের মুঠো?"
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী উত্তর আটলান্টিকে রাশিয়ান পতাকাযুক্ত তেল জাহাজ মারিনেরা দখল করেছে। একই সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে আরেকটি জাহাজ এম টি সোফিয়া ধরা পড়ে যা দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে যাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রতিমন্ত্রী এস রাইট এর পর একটি চমকপ্রদ ঘোষণা দিয়েছেন যা বিশ্ব রাজনীতির সম্পূর্ণ চিত্র বদলে দিতে চলেছে। তিনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেল চিরকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ করবে। শুধুমাত্র আজকের জন্য নয়, আগামী দশকের জন্য। এর অর্থ হলো ভেনেজুয়েলার সমস্ত তেল উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্র বিক্রয় করবে, আয় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাকাউন্টে যাবে এবং ভেনেজুয়েলা শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রীয় পণ্য কিনতে পারবে এই অর্থ দিয়ে। এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ দখল নয়। এটি বিশ্ব তেল বাজার নিয়ন্ত্রণের নতুন যুগের সূচনা।
আমেরিকা কীভাবে বিশ্ব তেল বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে?
ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ অসাধারণ। এই দেশের বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত আছে, তিনশ বিলিয়ন ব্যারেল। বর্তমানে এটি প্রতিদিন আড়াই মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে কিন্তু যখন সম্পূর্ণ অবকাঠামো মেরামত হবে তখন দৈনিক চার থেকে পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন করতে পারবে। এখন যুক্তরাষ্ট্র এই উৎপাদনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। এর মানে হলো যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বিশ্ব তেলের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। যখন বাজারে বেশি তেল ছাড়বে তখন দাম পড়ে যাবে, আর যখন সরবরাহ কমাবে তখন দাম উপরে উঠবে। এটি একটি ভৌগোলিক অস্ত্র হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের কম দামে তেল দিতে পারে, আর শত্রুদের অনেক বেশি দামে বা একেবারে বন্ধ করে দিতে পারে। এটি রাজনৈতিক লেনদেনের একটি নতুন ভাষা। চীনকে তেল না দিয়ে চাপ দেওয়া যাবে, ইউরোপকে দেওয়া যাবে সুবিধার দামে, এবং যারা অনুগত নয় তাদের শাস্তি দেওয়া যাবে সরবরাহ বন্ধ করে।
আগের যুগে ওপেক নামের একটি সংস্থা ছিল যা তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো একসাথে মিলে তৈরি করেছিল। সৌদি আরব, ইরান, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভেনেজুয়েলা একসাথে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক তেল নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু এখন ভেনেজুয়েলা আর তাদের সাথে নেই। এই শক্তি এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। নিজেই যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন তেরো মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন করে, এখন ভেনেজুয়েলার আরও পাঁচ মিলিয়ন যুক্ত হবে। মোট হিসেব করলে যুক্তরাষ্ট্র এখন পৃথিবীর পনের থেকে আঠারো মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের পনের থেকে সতের শতাংশ। এক দেশ একা এত বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এটি অভূতপূর্ব। ওপেক প্লাস এখন আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে না। রাশিয়ার প্রভাব শেষ হয়েছে, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে, এবং চীনের শক্তি নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর হয়ে গেছে।
যদি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সমস্ত তেল বৈশ্বিক বাজারে ছাড়িয়ে দেয় তাহলে কী হবে? বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন এখন একশ পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল তেল খরচ হয়। যদি এর সাথে আরও পাঁচ মিলিয়ন যোগ হয় তাহলে একশ দশ মিলিয়ন হয়ে যায়। এত বেশি তেল বাজারে আসলে দাম তিরিশ থেকে পঁচাশি শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যেতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা করবে না। তারা খুব কৌশলী হবে। মিত্রদের জন্য ভালো দাম রাখবে, শত্রুদের জন্য উচ্চ দাম রাখবে অথবা একেবারে দিবে না। ভারতের জন্য এর মানে খুবই সিরিয়াস। যদি ভারত রাশিয়ার সাথে থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে উচ্চ দামে তেল দিতে বাধ্য করতে পারে। কিংবা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। ভারতের শক্তি নিরাপত্তা এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।
============================================================================
"সোনার বাজারে বড় লাভের সুযোগ: আজ ৯ জানুয়ারি ২०२६"
আজ শুক্রবার এবং শুক্রবারের বাজার সবসময় অস্থির থাকে। কিন্তু আজ শুধু সাপ্তাহিক শেষ নয়, আমেরিকার তিনটি খুবই শক্তিশালী অর্থনৈতিক খবর প্রকাশিত হতে চলেছে যা ডলার বাজারকে ৩০০ পিপ পর্যন্ত নড়াতে পারে। এই তিনটি খবর হলো অ-কৃষি কর্মসংস্থান পরিবর্তন, গড় প্রতিঘণ্টা আয়ের পরিবর্তন এবং বেকারত্বের হার। এই খবরগুলো ডলার সংযুক্ত সকল বাজারকে প্রভাবিত করবে যেমন পাউন্ড-ডলার, ইয়েন-ডলার এবং সোনা-ডলার বাজার।
খবরের আগে কৌশল
খবর প্রকাশের আগে বাজার স্বাভাবিক থাকবে। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সোনার বাজারে চারটি গুরুত্বপূর্ণ জোন রয়েছে যা ছবিতে দেখানো হয়েছে। এই জোনগুলো থেকে আমরা বুঝতে পারি সোনার দাম কোথায় আছে এবং কোথায় যেতে পারে। প্রতিটি জোন একটি সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে।
খবর প্রকাশের পরে কৌশল
খবর প্রকাশের পর বাজার খুবই দ্রুত গতিতে নড়াবে। এই সময়ে আমাদের কৌশল নির্ভর করে পনেরো মিনিটের মোমবাতি কোথায় বন্ধ হয় তার উপর।
যদি পনেরো মিনিটের মোমবাতি খবরের সর্বোচ্চ মূল্যের নিচে বন্ধ হয় তাহলে বাজার নিচে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ক্ষেত্রে আমরা বিক্রয় করব এবং ছবিতে দেখানো লক্ষ্য মূল্য পর্যন্ত লাভ করব। যদি পনেরো মিনিটের মোমবাতি খবরের সর্বোচ্চ মূল্যের উপরে বন্ধ হয় তাহলে বাজার উপরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই ক্ষেত্রে আমরা ক্রয় করব এবং ছবিতে দেখানো লক্ষ্য মূল্য পর্যন্ত লাভ করব। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সঠিক পরিমাণে ঝুঁকি নিলে এই তিনটি খবর থেকে অনেক বড় লাভ করা সম্ভব। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে যে বাজার যদি আপনার প্রত্যাশার বিপরীতে যায় তাহলে দ্রুত বের হতে হবে।

============================================================================
তিন শক্তির গোপন ডিল: রাশিয়া ইউক্রেইন, আমেরিকা ভেনেজুয়েলা, চীন তাইওয়ান
এখন আসি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিকল্পিত তত্ত্বে। এটি এখনো গোপন কিন্তু ২০২৬-এর ঘটনাগুলো এমন একটি প্যাটার্ন তৈরি করছে যা অনেক বিশ্লেষক খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। তত্ত্বটি হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীনের মধ্যে একটি অলিখিত চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তিতে প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব "প্রভাব অঞ্চল" পাবে এবং অন্যেরা সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না। রাশিয়া সম্পূর্ণভাবে ইউক্রেইন দখল করতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্র পুরো পশ্চিম গোলার্ধ এবং বিশেষভাবে ভেনেজুয়েলা নিয়ন্ত্রণ করবে, এবং চীন তাইওয়ান অধিগ্রহণ করতে পারবে। বদলে কেউ একে অপরের সাথে সরাসরি সংঘর্ষ করবে না এবং একে অপরের "গৃহ পরিক্ষেত্র"-কে সম্মান করবে।
কেন এই তত্ত্য এখন বিশ্বাসযোগ্য দেখাচ্ছে? সবচেয়ে প্রথম কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলায়। তিন জানুয়ারি ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স রাতের অন্ধকারে মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে। এটি আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে অবৈধ কাজ। কিন্তু ট্রাম্প সরকার এটি করেছে। এটি একটি বার্তা দিচ্ছে বিশ্বকে যে যুক্তরাষ্ট্র তার নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলে যা খুশি করতে পারে। এটি "মনরো ডক্ট্রিন ২.০" নামে পরিচিত হচ্ছে যা উনিশ শতকের প্রাচীন মনরো ডক্ট্রিনের আধুনিক সংস্করণ। এই তত্ত্ব বলে আমেরিকা পুরো পশ্চিম গোলার্ধ তার নিজস্ব "স্ফিয়ার অফ ইনফ্লুয়েন্স"।
দ্বিতীয়ত, ইউক্রেইনে যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ বদলে গেছে। ট্রাম্প এখন ইউক্রেইনকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করছে। আগে বিডেন প্রশাসন প্রতিদিন অস্ত্র পাঠাচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্প শান্তি আলোচনায় জোর দিচ্ছে এবং ইউক্রেইনের রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কিকে সমঝোতা করতে বাধ্য করছে। এটি একটি পরিষ্কার সংকেত রাশিয়ার কাছে যে ইউক্রেইন তার হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আর বাধা দেবে না।
তৃতীয়ত, চীন এখন ধৈর্য ধরছে এবং তাইওয়ানে তাড়াহুড়ো করছে না। চিনা নেতৃত্ব জানে যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্য আমেরিকায় ব্যস্ত, এশিয়ায় তার ফোকাস কমেছে। তাই চীন অপেক্ষা করছে ২০২৮ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত, যখন এই নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থা আরও দৃঢ় হবে। সিআইএ-এর রিপোর্ট বলছে চীন তাইওয়ান নেবে এই দশকের মধ্যে কিন্তু তার আগে সব কিছু প্রস্তুত করছে।
তিন শক্তির স্বার্থ কেন এখন একসাথে কাজ করছে?
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই ডিল অর্থবহ কারণ পশ্চিম গোলার্ধ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সে একটি নতুন সাম্রাজ্য তৈরি করছে। ভেনেজুয়েলার তেল থেকে ট্রিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসবে। আমেরিকা বিশ্বের একমাত্র সুপারপাওয়ার হিসেবে আবার প্রতিষ্ঠিত হবে। লাতিন আমেরিকা চিরকালের জন্য তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
রাশিয়ার জন্য এই ডিল মানে ইউক্রেইনে তার সম্পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করা। পুতিন এখন শান্তিতে ইউক্রেইন সংযুক্ত করতে পারবে, ইউরোপে তার প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে পারবে। চীনের সাথে ব্যবসা করে আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারবে।
চীনের জন্য এই ডিল অর্থ হলো তাইওয়ান দখল করা। এই দ্বীপটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনকেন্দ্র। এটি পেতে পারলে চীন প্রযুক্তিতে সম্পূর্ণ শক্তিশালী হয়ে যাবে। এশিয়ায় তার আধিপত্য নিশ্চিত হবে। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ পূর্ণ শক্তিতে কাজ করবে।
এই ডিলের লক্ষণগুলো এখনই দেখা যাচ্ছে
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা আলজাজিরায় বলেছেন যদি ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় এত বড় সামরিক অপারেশন করতে পারেন এবং মাদুরোকে গ্রেপ্তার করতে পারেন তাহলে পুতিন কেন ইউক্রেইনে যেতে পারে না? এবং চীন কেন তাইওয়ান দাবি করতে পারে না? এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি নতুন বিধান যা বলে বড় শক্তিরা তাদের নিজস্ব অঞ্চলে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। যুক্তরাজ্য এই অপারেশনে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর নজরদারি দিয়ে সাহায্য করেছে এবং রয়্যাল নেভির জাহাজ পাঠিয়েছে। এটি বার্তা দিচ্ছে পশ্চিমী জোট এই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
চিনা নেতা সি জিনপিং নববর্ষ বক্তৃতায় বলেছেন তাইওয়ান একীকরণ অনিবার্য কিন্তু তিনি তাড়াহুড়ো করছেন না। কেন? কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলায় সম্পূর্ণ ফোকাসড এবং এশিয়ায় তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত। চীন জানে ২০२৮ থেকে ২০३০ পর্যন্ত অপেক্ষা করা নিরাপদ। তখন বিশ্বব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে থাকবে এবং তার পদক্ষেপ সহজ হবে। ইউক্রেইনে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য বন্ধ করছে এটি রাশিয়াকে সবুজ সংকেত দিচ্ছে।
এই তত্ত্য সত্য হলে ভারতের জন্য কী হবে?
যদি এই তিন-শক্তির চুক্তি সত্য হয় তাহলে ভারতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। ভারত এতদিন ধরে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উভয়ই রক্ষা করেছে। কিন্তু এই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে বলবে রাশিয়া ছেড়ে আমাদের সাথে যোগ দাও অথবা ক্ষতি পাবে। চীন ভারতকে চাপ দেবে তাদের সীমান্তের দাবি মেনে নিতে নয়তো তাইওয়ান দখল করার পর এশিয়ায় শক্তিশালী হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যাবে। রাশিয়া দুর্বল হবে কারণ ইউক্রেইন যুদ্ধে এত মনোযোগ দিতে হবে যে তার আর ভারতের জন্য সময় থাকবে না।
ভারত এখন খুবই সংকটে পড়বে। শক্তির উৎসে সমস্যা হবে কারণ যুক্তরাষ্ট্র তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করবে। রাশিয়া থেকে তেল কম পাবে কারণ রাশিয়া নিজেই যুদ্ধে ব্যস্ত থাকবে। বিআরিকস জোট ভেঙে যাবে কারণ চীন এশিয়ায় শক্তিশালী হবে এবং আর ভারতের সাথে থাকার প্রয়োজন বোধ করবে না। সীমান্তে চীনের আক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। পাকিস্তান চীনের সাথে মিলে ভারতকে আরও চাপ দেবে। ভারত একা পড়ে যাবে সম্ভাব্য তিন দিক থেকে চাপের মুখে।
এই বিশ্লেষণ কি সত্য হবে?
ঐতিহাসিক উদাহরণ দেখলে দেখা যায় বড় শক্তিরা আগেও এভাবে পৃথিবী ভাগ করে নিয়েছে। ১৯३९ সালে নাজি জার্মানি এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল যেখানে তারা পোল্যান্ড ভাগ করে নিয়েছিল। ১৯४५ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ইয়াল্তায় একত্রিত হয়ে পৃথিবী তিনভাগে ভাগ করে নিয়েছিল। তাই এই ধরনের চুক্তি অসম্ভব নয়। ২०२६-এ যা ঘটছে তার সবই এই পরিকল্পনার সাথে মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের "মনরো ডক্ট্রিন ২.०" সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে জোট আরও গভীর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আইনের সীমা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে কারণ বড় শক্তিরা এখন যা খুশি করছে।
এই বিশাল বিশ্লেষণ থেকে যা পরিষ্কার হয় তা হলো বিশ্ব এখন একটি নতুন যুগে প্রবেश করছে যেখানে ছোট দেশগুলোর কোনো মূল্য নেই, শুধুমাত্র বড় তিনটি শক্তির স্বার্থই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতকে এখনই কঠোর পছন্দ করতে হবে। নিরপেক্ষতার যুগ শেষ। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগ দিতে হবে নাকি রাশিয়ার সাথে দাঁড়াতে হবে নাকি চীনের কৌশলী হতে হবে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য।


