এত বছর পর আমরা আবার একসাথে সময় কাটাতে পারব এটা কল্পনাতেও ছিল না। তবে পুরো পরিকল্পনাটাই ছিল মোহসীনের। জুন মাসের ৪ তারিখ আমরা আমাদের ট্যুর শুরু করি। সিলেটগামী উপবন ট্রেনের টিকিট কনফার্ম করা ছিল। আমাদের রাত দশটায় ট্রেন। রাত ৯ টার সময় আমরা কমলাপুরে একসাথে হই। তারপর একটি রেস্টুরেন্টে আমরা রাতের খাবার খেয়ে প্লাটফর্মে চলে আসি। প্ল্যাটফর্মে আসার পর জানতে পারি ট্রেন কিছুটা বিলম্ব হবে। আমরা কিছুটা চিন্তিত হই কারণ আমাদের সুনামগঞ্জে হাউস বোট বুক করা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগে পৌঁছাতে না পারলে কিছুটা ঝামেলা হবে। ৫০ মিনিট বিলম্বে আমাদের ট্রেন কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেল। আমরা কিছুটা স্বস্তি পেলাম। ট্রেনের সিটগুলো আমরা মাঝখানে নিয়েছিলাম যাতে আমরা চারজন একসাথে সামনাসামনি বসে গল্প করতে পারি। তার চেয়ে বড় কথা আমাদের পরিকল্পনা ছিল আমরা কার্ড খেলব। ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশন পার হওয়ার পর আমরা কার্ড খেলা শুরু করি। খেলার মাঝে কত গল্প কত হাসাহাসি। আমাদের ট্রেন যখন নরসিংদী স্টেশনে আসে তখনও আমরা খেলায় খুব ব্যস্ত। প্রায় দশ মিনিট হয়ে যাচ্ছে ট্রেন ছাড়তেছে না কিছুক্ষণ পর জানতে পারি ভৈরব স্টেশনে নাকি খুব মারামারি হচ্ছে। ফুটবল খেলা নিয়ে দুপক্ষের গন্ডগোল সেখান থেকে স্টেশনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আড়াই ঘন্টা পরে আমাদের ট্রেন আবার চলা শুরু করল। তারপর আমরা ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম যেহেতু অনেক রাত হয়ে গেছে। শ্রীমঙ্গল যখন আসে তখন ঘুম ভেঙ্গে যায় বাইরের অপরূপ দৃশ্য দেখতে অনেক ভালো লাগলো। ভালো ঘুম কারোই হয়নি। কিছুক্ষণ পরপর কেউ জেগে উঠতেছে আবার ঘুমাচ্ছে।


সকাল 8:25 মিনিটে আমরা সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে পৌছালাম। স্টেশনে নেমে আমরা কয়েকটা সেলফি তুললাম। বাহিরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল কিন ব্রিজ পার হয়ে আমরা প্রাইভেট কার ভাড়া করে চলে যাব। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা সম্ভব হলো না। আমাদের ওই ট্রেনে সুনামগঞ্জের আরও কয়েকজন টুরিস্ট ছিল। তাদের সাথে একসাথে হয়ে আমরা ১৪ সিটের একটি হাইস ভাড়া করি। প্রায় দেড় ঘন্টা পর সুনামগঞ্জ আমাদের নামিয়ে দেয়। তবে এই গাড়িতে আসতে খুব কষ্ট হয়েছে ।আমি ছাড়া সবাই খুব চাপাচাপি করে বসে ছিল। আমি সামনে বসে ছিলাম। সুনামগঞ্জ থেকে আমরা সিএনজি রিজার্ভ করলাম আনোয়ারপুর ঘাটে যাওয়ার জন্য। ফয়সাল পেয়ারা মাখা নিল সেটা খেতে অনেক ভালো লাগলো। সিএনজির সামনে বসে ছিল ইমন আর পিছনে আমরা তিনজন। প্রায় এক ঘন্টা ভ্রমণ শেষে আমরা আনোয়ার পুর ঘাটে পৌছালাম। হাউজ বোটের মালিক এসে আমাদের রিসিভ করে বোটে নিয়ে গেলেন। বোটে উঠার পর ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস দেওয়া হল। আমরা সকলেই ঘুমের জন্য খুব ক্লান্ত ছিলাম। কিছুক্ষণ পর আমাদের সকালের খাবার দিল। হাউজবোটের খাবার তুলনামূলক ভালই ছিল। আমাদের পরিকল্পনা ছিল হাউজ বোটের ছাদে বসে আমরা কার্ড খেলব কিন্তু রোদ থাকার কারণে সেটা হয়নি। সকালের খাবার খাওয়ার পর আমরা আমাদের রুমে এসে কার্ড খেলা শুরু করি এবং বাহিরের দৃশ্য উপভোগ করতে থাকি।






হাউস বোট চলতে শুরু করে, হাওরের ঠান্ডা বাতাস শরীরটা জুড়িয়ে দেয়। কার্ড খেলার সময় আমরা অনেক মজা করি এবং মাঝে মাঝে সিরিয়াস হয়ে যাই। দুপুর ২ টা পর্যন্ত আমাদের এভাবেই চলতে থাকে। আড়াইটার পরে আমাদের হাউজবোট ওয়াচ টাওয়ার এর কাছে এসে থামে। আমরা ছোট আরেকটি নৌকা নিয়ে গোসল করতে নেমে যাই।

আমাদের মধ্যে ফয়সাল সবথেকে ভালো সাঁতার জানে। আমরা তিনজন মোটামুটি পারি। সাঁতার কাটতে কাটতে আমরা চা খাচ্ছিলাম। লাইফ জ্যাকেট পরে ভেসে থাকতেও অনেক ভালো লাগে। বেশ কিছুক্ষণ আমরা সাঁতার কাটার পর আবার ছোট নৌকায় উঠি, তারপর এসে ওয়াচ টাওয়ারের উপরে উঠি। সেখানে কয়েকটা ছবি তুলি।

তারপর আবার আমরা আমাদের হাউজবোটে এসে গোসল করি। হাউসবোট থেকে দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর আমরা রুমে চলে আসি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেই।

বিকেল পাঁচটার সময় আমাদের হাউজবোট টেকেরঘাট চলে আসে। আজকের রাতে হাউসবোট এখানেই নোঙ্গর করা থাকবে। তারপর আমরা হাউসবোট থেকে নেমে নীলাদ্রি লেক এর দৃশ্য উপভোগ করি এবং পুরো বিকালটা আমরা সেখানেই কাটাই।

মূলত এখানে হচ্ছে ভারতীয় সীমান্ত। ভারতের পাহাড় গুলো অনেক সুন্দর দেখতে। এর মাঝে আমরা ডাব খাই। প্রচন্ড গরম ছিল এ সময়। সুন্দর কিছুক্ষণ পরে আমরা হাউজবোটের কাছে চলে আসি। মজার ব্যাপারে হচ্ছে ঘুরে এসে আমরা আমাদের হাউসবোট খুঁজে পাচ্ছিলাম না। যেখান থেকে আমরা নেমেছিলাম সেখান থেকে হাউজবোট অন্য জায়গায় চলে গেছে। প্রায় ৪০ মিনিট পর যোগাযোগ করার পর হাউসবোটে পৌঁছাই। হাউজবোটে আসার পর আমরা আবার কিছুক্ষণ কার্ড খেলি। তারপর রাতের খাবার খাই
রাতের খাবার খাওয়ার পর হাউজবোটের ছাদে যেয়ে আমরা শুয়ে থাকি। বিশেষ করে রাতে মোটামুটি ঠান্ডা থাকে। রাত বারোটার সময় আমরা ঘুমিয়ে যাই। রুমে আমি, মোহসীন এবং ফয়সাল ছিলাম ঘুমাই। ইমন হাউজ বোটের লবিতে ছিল। সকালবেলা আমাদের ঘুম ভাঙ্গার আগে হাউজ বোট চলা শুরু করে। সকাল ৯ টার সময় আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমরা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সকালের খাবার খাই।


সাড়ে দশটার সময় আমাদের হাউজবোট শিমুল বাগানে এসে নোঙ্গর করে। বাহিরে প্রচন্ড রোদ আমরা সকলেই ক্যাপ নিয়ে বাহির হয়েছিলাম। মোহসীন আমাদের সবাইকে জার্মানির জার্সি এবং একটি ক্যাপ উপহার হিসেবে দিয়েছিল। শিমুল বাগানে আমরা ঢুকে পুরোটা ঘুরতে থাকলাম। মোহসীন এবং ফয়সাল এখানকার স্থানীয় ভাষা মোটামুটি রপ্ত করে ফেলেছিল। আমি আর ইমন অতটা ভালো পারতাম না। ওদের কথাগুলো শুনে সত্যি না হেসে থাকা যায় না।
মোহসীন ঘোড়ায় উঠে শিমুল বাগান ঘুরেছিল। আমাদের নির্ধারিত যে সময় দেয়া হয়েছিল সে সময়ের আগেই আমরা হাউসবোটে চলে আসি। এখানে আসার পর জানতে পারি বাকি টুরিস্ট নাকি এইমাত্র বের হয়ে গেছে। এদিকে হাউজবোটের জেনারেটরও বন্ধ। বিষয়টা আমাদের কাছে খুব বিব্রতকর মনে হয়েছে। যাইহোক মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। একটা সময় আমাদের হাউজবোট আবার চলা শুরু করল বারিক্কা টিলার উদ্দেশ্যে।




কিছুক্ষণ পর আমরা বারিক্কা টিলা পৌছালাম। হাউসবোট থেকে নেমে আমরা পাহাড় বেয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছলাম। সেখানে অনেক ছবি তুললাম আমরা ।এতটা গরম বলে বোঝানো যাবে না। সেখান থেকে দৃশ্যগুলো অসাধারণ লাগতেছিল। এক ঘণ্টার মতো সেখানে অবস্থান করার পর আমরা হাউসবোটে ফিরে আসি। তারপর আবার হাউসবোট চলতে শুরু করে যাদুকাটা নদীতে । নদীর একপাড়ে এসে হাউসবোট থামে।তারপর আমরা লাইফ জ্যাকেট পড়ে সেখানে গোসল করি। প্রায় এক ঘণ্টার মতো আমরা সেখানে গোসল করেছি। সেখান থেকে দূরের উঁচু উঁচু পাহাড় দেখতে অনেক ভালো লাগলো। সাঁতার কাটার জন্য মোহসিন একটি চশমা নিয়ে এসেছিল সেটি পানিতে পড়ে গেছে অনেক খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া যায়নি। আমরা দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটা শেষ করে হাউজবোটে এসে গোসল করি। দুপুরের খাওয়া শেষ হওয়ারপর হাউসবোট চলতে শুরু করল আনোয়ারপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে। বিকেল পাঁচটার সময় আমাদের হাউসবোট আনোয়ারপুর ঘাটে এসে পৌঁছায়।

আমরা হাউসবোট থেকে বিদায় নিয়ে আসার পর সিএনজি স্টেশনে আসি। সেখানে আসার পর সিএনজি ড্রাইভারদের সিন্ডিকেট এর মধ্যে পড়ে যাই। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে আমাদের সুনামগঞ্জ আসতে হয়। এসে দেখি এখানকার যে ভাল। বাস সার্ভিস গুলো বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে রাত আটটার সময় আমাদের লোকাল বাসে উঠতে হলো। ২ ঘন্টার চরম বিরক্তকর একটু জার্নি শেষ করে আমরা সিলেট পৌঁছালাম। সেখান থেকে আমরা একটা সিএনজি নিয়ে শাহজালাল মাজারের কাছাকাছি চলে আসলাম। সেখানে অসংখ্য হোটেল আছে প্রায় আধা ঘন্টা হোটেল খোঁজাখুঁজি করার পর একটি হোটেল ঠিক করা হলো। হোটেল আল আরব, সার্ভিস মোটামুটি ভালো। হোটেলে আসার পর প্রথমে গোসল করে নিলাম আমরা। তারপর রাতের খাবার খাওয়ার জন্য মোহসীন ফয়সাল এবং ইমন বাহিরে গেল আমি রুমে ছিলাম। আমার জন্য ওরা রাতের খাবার পার্সেল করে নিয়ে এসেছিল। তারপর রাতের খাবার শেষ করে আমরা ঘুমিয়ে পড়লাম। পরের দিন রাতে আমাদের সকলেরই বাড়ি ফেরার পালা। সকালে হোটেল থেকে বের হয়ে আমরা একটু রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা করি। তারপর মোহসিন এবং ফয়সাল হোটেলে চলে যায়। আমাদের হোটেল ছেড়ে দিতে হবে দুপুর ১২ টার সময়। আমি আর ইমন চলে যাই বাস কাউন্টারে টিকিট কনফার্ম করার জন্য। মোহসীন যাবে চট্টগ্রাম। আমি, ইমন এবং ফয়সাল যাব ঢাকা। অনেক কয়টা কাউন্টার ঘুরে মোহসীন জন্য লন্ডন এক্সপ্রেস এর টিকিট কনফার্ম করা হলো। আমি ইমন এবং ফয়সাল এনা পরিবহনের টিকিট কনফার্ম করি। টিকিট কাটা শেষে আমরা হোটেলে চলে আসি ।


হোটেল চেক আউট করার পর আমরা শাহজালাল মাজার এর ভিতরে প্রবেশ করি। কিছু সময় আমরা মাজার ঘুরে দেখি। মাজারের ভিতরে অসংখ্য কবুতর দেখে অনেক ভালো লাগলো।

তারপর আমরা চা বাগানের উদ্দেশ্যে সিএনজি নেই। আমাদের আরো অনেক পরিকল্পনা ছিল কিন্তু গরমের কারণে আমরা সেগুলো ক্যানসেল করেছি। সিলেটে অনেক চা বাগান আছে কিন্তু আমরা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশে চা বাগান সেটাতেই ঘুরবো ঠিক করলাম। সিএনজিতে আমরা এসে নামলাম স্টেডিয়ামের পাশেই। তারপর আমরা একটি পাহাড় বেয়ে উঠি। মূলত যেখান থেকে এই স্টেডিয়াম পুরোপুরি দেখা যায়। সেখানে বসে আমরা চারজন খালি গায়ে হয়ে কার্ড খেলা শুরু করি। এই দৃশ্য দেখে হয়তো আশেপাশের অনেক লোক আমাদের পাগল ভাবতে শুরু করে। আমরা কিছু সময় কার্ড খেলে নিচে নেমে আসি এবং আর একটা চা বাগানে ঘুরতে যাই।বিকেল তিনটার সময় আমরা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য রেস্টুরেন্ট এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।

সিলেটের কয়েকটি ভালো রেস্টুরেন্ট এর মধ্যে পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট। এখানে আমরা দুপুরের খাবার খাই। খাবারের স্বাদ আহামরি একটা ভালো নয় কিন্তু মানুষের ভীড় প্রচুর। এতটা ভীড় যে ১৫ থেকে ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যেহেতু আমাদের বাস রাতে তাই বিকেলের এই সময়টুকু আমাদের বাহিরে কাটাতে হবে। সেখান থেকে বের হয়ে আমরা একটি শপিংমলে যাই সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকি। তারপর সেখান থেকে বের হয়ে আমরা একটি ফুটপাতের চায়ের দোকানে থেকে চা খাই।


তারপর আমরা যাত্রা করি সিলেটের বিখ্যাত কীন ব্রিজের উদ্দেশ্যে। সেখানে আসার পর আমরা ব্রিজের উপরে উঠলাম। বীজ থেকে আশেপাশে দৃশ্য গুলো অনেক ভালো লাগে। ব্রিজ থেকে আমরা দেখতে পেলাম নদীতে ছোট একটি নৌকা । আশেপাশে আর কোন নৌকা নেই।নৌকার মাঝি একজন বয়স্ক লোক। মোহসীন কে বললাম চল নৌকাটা ভাড়া করে কিছুক্ষণের জন্য ঘুরি। মোহসীন রাজি হয়ে গেল ।তারপর দরদাম করে আমরা সেই নৌকায় উঠে গেলাম। এক ঘন্টার জন্য আমরা নৌকাটা ভাড়া করেছিলাম। ৬:১০ মিনিটে আমরা নৌকায় উঠলাম। নৌকায় উঠে খালি গায়ে হয়ে আমরা সেখানেই কার্ড খেলা শুরু করলাম ।আমাদের ভ্রমণের সবচেয়ে অসাধারণ মুহূর্ত হচ্ছে এটাই। নদীর ঠান্ডা বাতাস ,নৌকা চলছে তার মাঝে আমরা কার্ড খেলতেছি। অসাধারণ মুহূর্ত, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ৭:১০ মিনিটে আমরা নৌকা থেকে নেমে যাই। তারপর আমরা হাঁটতে হাঁটতে একটি রেস্টুরেন্টে চলে আসি ।

রেস্টুরেন্টের নাম হচ্ছে দুধওয়ালা'স কিচেন । সেখানে আমরা দই খাই। তারপর বাস কাউন্টারে চলে আসি । এর মধ্যে শুরু হয় আবার ঝুম বৃষ্টি । মোহসীন এর বাস ছাড়ার সময় হয়ে গেল। মোহসীন আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসে উঠে গেল। সত্যি এই বিদায়ের মুহূর্তটা খুব কঠিন। আবার কখনো এভাবে এক সাথে হতে পারব কিনা জানিনা। এভাবে একসাথে হতেও সময় লেগে গেছে এতগুলো বছর। মোহসীন বাসে উঠে গেল এবং বাসে ছেড়ে দিল। বৃষ্টির কারণে আমরা লন্ডন এক্সপ্রেস এর কাউন্টারে বসে ছিলাম অনেকক্ষণ। আমাদের বাস দশটা চল্লিশে। বৃষ্টি কিছুটা কমার পর আমরা আমাদের এনা পরিবহনের কাউন্টারে যাই। আমাদের বাস ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। তিন ঘণ্টা পরে বাস একটি জায়গায় যাত্রা বিরতি দেয়। সকাল আটটার সময় বাস বিমানবন্দর স্টেশনে এসে আমাদের নামিয়ে দেয়। আরেকটি বাসে উঠে আমরা মহাখালী চলে আসি। সেখান থেকে ফয়সাল দক্ষিণ দিকে, ইমন পশ্চিম দিকে, আমি উত্তর দিকে চলে যাই।বাসে জার্নি করতে আমার অনেক বেশি সমস্যা হয়। ফয়সালের ও মোটামুটি সমস্যা হয়।

পুরো ভ্রমণটাই ছিল এক কথায় অসাধারণ। এসব জায়গায় ঘুরে দেখা আমাদের কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আমরা চারজন একসাথে খুব ভালো একটি সময় কাটাবো। এজন্যই এত কিছু। আমাদের এই ভ্রমণের মুহূর্তে আমাদের বর্তমান জীবন নিয়ে আমরা তেমন কোন আলোচনাই করিনি ।আমরা চেয়েছি আমাদের ফেলে আসা স্মৃতিগুলো কিছুটা মনে করে ভালো সময় কাটাতে। আমরা যখন একসাথে থাকি তখন মনে হয় আমরা সেই স্কুল কলেজ লাইফে যেরকম সময় কাটাতাম সেরকম। দিনশেষে এটাই সত্য বন্ধুত্ব কখনো পুরাতন হয় না। শুধু সময় পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। জানিনা জীবনে কখনো এভাবে সময় কাটাতে পারব কিনা। হয়তো হতেও পারে হয়তো না। মোহসীন দেশে আসলে হয়তোবা আবারও হতে পারে। ভালো থাকিস সবাই।
| লোকেশন: ঢাকা , সিলেট , সুনামগঞ্জ |
আমি মো: সেলিম রেজা। আমি বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি করি।ফটোগ্রাফি করতে আমার অনেক ভালো লাগে। আমি লেখালেখি, বিভিন্ন জায়গা ভ্রমণ করতে বেশি পছন্দ করি।
ধন্যবাদ সবাইকে
Thank you very much
@selimreza1 - try being more selective with your use of photographs...
Thank you, I will try my best.