মেঘনা তীরের স্মৃতি।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে ক্ষুদ্র কিছু স্মৃতির মুহূর্ত শেয়ার করব। এই স্মৃতির বিষয়টি হচ্ছে মেঘনা নদীর তীরে কাটানো আমাদের আনন্দময় কিছু সময়।

আমার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলায়। চাঁদপুর জেলার নাম শুনলেই যেই শব্দটি সবার মাথায় আসে, তা হচ্ছে ইলিশ মাছ। তাছাড়া, চাঁদপুরের বিখ্যাত তিন নদীর মোহনা। আমাদের চাঁদপুর জেলা নদী বেষ্টিত একটি জেলা। চাঁদপুরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে খরস্রোতা নদী মেঘনা। এই চাঁদপুর জেলাতেই পদ্মা এবং যমুনা মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। সেই মিলনস্থল থেকে ডাকাতিয়া নদী পুরো চাঁদপুর জেলাতেই ঘূর্ণিপাক খেয়েছে। যার কারণে ডাকাতিয়াকে আমরা নিজস্ব এবং খুবই আপন মনে করি। সেই দিক থেকে মেঘনা নদীকে ততটা আপন ভাবি না যতটা ডাকাতিয়াকে ভাবি।

যাইহোক, মেঘনা একটি বড় এবং বিশাল নদী এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান একটি নদী। শুধু বাংলাদেশ কেন, মেঘনা নদী দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান একটি নদী। আমার গ্রামের বাড়ি থেকে মেঘনা নদীর দূরত্ব সর্বসাকুল্যে ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার। আমার গ্রামের বাড়ি থেকে আমাদের থানা যতটুকু দূরে, মেঘনাও ঠিক ততটুকুই দূরে। থানায় তো আমাদের তেমন কোন কাজ থাকে না। তবে মেঘনা নদীর তীরে আমাদের অনেক কাজ থাকে। কারণ এই নদীকে ছোটবেলা থেকেই আমরা দেখে এসেছি। নদীর বিশালত্ব, নদীর আবহাওয়া, নদীর পরিবেশ আমাদের মনকে স্নিগ্ধ করে দেয়, বিশুদ্ধ করে দেয়, পবিত্র করে দেয়। মনে এক ধরনের শান্তি নিয়ে আসে।

যার কারনে আমরা যখনই সময় পাই দল বেঁধে আমরা মেঘনা নদীর তীরে চলে যাই সময় কাটানোর জন্য। একটা সময় ছিল যখন আমাদের মোটরসাইকেল ছিল না। তখন আমরা পায়ে চালিত সাইকেল দিয়েই মেঘনা নদীর তীরে যেতাম। যেতে আমাদের এক ঘন্টার মত সময় লাগতো। এক ঘন্টা টানা সাইকেল চালানোর ধকল যারা চালাননি, তারা হয়তো বুঝতে নাও পারেন। কিন্তু এই ধকল আমরা আনন্দচিত্তে গ্রহণ করতাম, যখন আমরা মেঘনা নদীর বিশালতার সামনে দাঁড়াতাম। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতাম। সেখানে আমরা গান গাইতাম, সঙ্গে নিয়ে যাওয়া খাবার খেতাম। সেখানকার দোকানগুলোতে বানানো খাবার খেতাম। বেশ দারুন একটি সময় উপভোগ করে আবার ফিরে আসতাম। সেই মুহূর্তটুকু আমাদের মনকে একদম আনন্দে ভরিয়ে দিত।

একটা সময় আমরা, আমাদের বন্ধু-বান্ধবরা মোটরসাইকেলের মালিক হই। আগে যেখানে মাসে একদিন যেতাম, এখন সেখানে প্রতি সপ্তাহেই যাওয়া হয়। কখনো মনে হয়নি পুরাতন হয়ে গেছে। বরং সব সময় নতুন লাগে, একই লাগে, আনন্দ লাগে। মেঘনার সাথে আমাদের সম্পর্ক ডাকাতিয়ার মত এতটা গভীর না হলেও, যথেষ্ট গভীর। যেন পরিবারের অন্য এক সদস্য।
| বিঃদ্রঃ- নানা সময়ে তোলা মেঘনার তীরের ছবি সমূহ |
|---|