ভ্রমণ শুরু ||ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ পর্ব--২||১০% লাজুক খ্যাকের জন্য
আমি রাহুল হোসেন। আমার ইউজার নেমঃ@mrahul40।বাংলাদেশ থেকে।আশা করি আল্লাহর রহমতে ভাল আছেন আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।
- ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জ
- ৩১, আগস্ট ,২০২৩
- বৃহস্পতিবার
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগবাসি কেমন আছেন আপনারা? আশা করি আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছেন। আজকে আপনাদের সামনে আবারো হাজির হলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে। গত পোস্টে শেয়ার করেছিলাম আমার ভ্রমণের প্রথম পর্ব।আজকে পরবর্তী সময়ের যাত্রা পথের গল্প শেয়ার করবো। এদিক দিয়ে প্রবেশ করে রানীগঞ্জ ব্রীজ পার হতে হবে। রানিগঞ্জ ব্রিজের উপর অনেক সময় বিশ্রাম গ্রহণ করি।
এখান থেকে আশেপাশের পরিবেশটা অসম্ভব সুন্দর লাগছিল। রানীগঞ্জ ফ্রিজের ট্রল দেয়া লেগেছিল ১০ টাকা মাত্র। ব্রিজ পার হওয়ার পরে ভেবেছিলাম সোজা একটা রাস্তা ধরে খুব সহজে গুগল ম্যাপ অনুসরণ করতে করতে চলে আসবো। কিন্তু একটা দুঃখের ঘটনা গুগল ম্যাপ অনুসরণ করতে গিয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি। রানীগঞ্জ ব্রিজ পার হওয়ার পর রাস্তা গুলো বেশ সুন্দর ছিল দুই পাশে বড় বড় গাছ মাঝ দিয়ে অনেক সুন্দর রাস্তা। আমরাও রাস্তা ধরে এগোচ্ছিলাম একটি স্থানে অনেকগুলো সিএনজি ভীর জমিয়ে রেখেছে তাদের পাশ কাটিয়ে বের হয়ে একটি লোহার ব্রিজ। ব্রিজটা পার হয়ে চলে যাইতে পারতাম কিন্তু তা যাইতে পারিনি কারণ ব্রিজটা ভাঙ্গা ছিল। তারপর আমরা ওইখানে কিছু সময় দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে থাকি কি করা যায়। অন্য কোন রাস্তা ধরে যাব নাকি ব্রিজের নিচ দিয়ে নৌকায় পারাপার করছে নৌকা পার হয়ে যাব কিন্তু আমার বন্ধু সে বলল google map দেখেই যে অন্যদিকে আরেকটা রাস্তা আছে তার কথামতো আবার পাঁচ কিলোমিটর চলে গেলাম। কিন্তু সে গুগল ম্যাপের উপর আস্থা আর রাখতে পারল না সে বলল হয়তো সমস্যা আছে তাই গুগল ম্যাপ রাস্তা দেখাচ্ছেনা।
তারপর আমরা আবার ফেরত চলে আসলাম নৌকাতে পার হব। তারপর এখানে বেশ এক ঘন্টা সময় গিয়েছে ফলো করতে করতে চলে আসলাম জগন্নাথপুর বাজার। গুগল ম্যাপ শর্টকাট একটি location দেখাচ্ছে আমরা সেই লোকেশন অনুযায়ী এগোতে থাকলাম। কিন্তু সামনে গিয়ে দেখি আর রাস্তা পাবো না সেটা আমরা বুঝতে পারিনি। আর বুঝতে পারবই বা কিভাবে গুগল ম্যাপ তো আর জানে না এই হাওর এলাকায় পানি হয়ে রাস্তাগুলো সব ডুবে গিয়েছে নাকি এখনো শুকনা আছে। তাই ওই সময় গুগল ম্যাপ ফলো করে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এটা অ্যাডভেঞ্চারও খুঁজে পাই কারণ রাস্তাগুলো অসম্ভব সুন্দর ছিল পাশেই বড় হাওর হাওরের মাঝে মাঝে দুই একটা বাড়ি একাকী বসবাস করছে। আর একটি হাওরের পাশেই অনেক বড় একটি বিল্ডিং পেয়েছিলাম বিল্ডিং টা দেখে পাপ্পু ভাইয়ের কথা খুব মনে পড়ছিল।
তারপর গুগল ম্যাপ ফলো করা বাদ দিয়ে আমরা স্থানীয় লোকের কাছে জিগায়া সুনামগঞ্জ রাস্তা সম্পর্কে জেনে নিন। তারপর আমার বন্ধু খুব ঠান্ডা মাথাটা গরম করে বাইক রাইড শুরু করলো দুই পাশে হাওর মাঝ দিয়ে অসম্ভব সুন্দর রাস্তা আর এখানে একটি সমস্যা রাস্তার আশেপাশে ভেড়া গরু ছাগল প্রচুর ঘুরাঘুরি করছে। আর কেনই বা করবে না কারণ মাঠঘাট সব পানিতে ডুবে গিয়েছে। তাই বাইক রাইড করার সময় বেশ সাবধানতার সাথেই বাইক রাইড করতে হয়েছে। আমাদের জগন্নাথপুর হতে সুনামগঞ্জ ধিরাই উপজেলায় আসতে ৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে কারণ রাস্তাটা অনেক আঁকাবাঁকা ছিল আর অপরিচিত রাস্তা হওয়ায় অনেক সাবধানতার সাথেই বাইক রাইড করতে হয়েছে। আমরা দুইটা 30 মিনিটের দিকে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছায় এবং এসেই গোসল খাওয়া-দাওয়া করে একটু বিশ্রাম গ্রহণ করি। আজ এই পর্যন্তই দেখা হবে পরবর্তী কোনো পোস্টে সুনামগঞ্জ ভ্রমণের কাহিনী নিয়ে সেই পর্যন্ত সাথেই থাকুন ধন্যবাদ সবাইকে।









আসলে বিষয়টা খুবই দুঃখজনক গুগল ম্যাপ দেখে এরকম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যাইহোক একটু ভোগান্তিতে পড়লেও ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে জায়গাটা অনেক সুন্দর তাছাড়া ওই দিকের রাস্তাও বেশ ভালো লাগছে। পানিতে নেমে প্রচুর গোসল করতে হবে হাহাহা হা হা হা।
অনেক ভালো লাগলো ভাইয়া আপনার ভ্রমণ পোস্টটি পড়ে। আসলে পানির মধ্যে রাস্তা চেনা খুবই কঠিন। তবে গুগল ম্যাপে যে এরকম ভোগান্তিতে পড়বেন এটা ভাবিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আপনারা বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন এটা শুনে বেশ ভালো লাগলো। আপনার ভ্রমণ করার রাস্তা গুলো বেশ সুন্দর ভাইয়া।