শীতের সকালে মাঠে গিয়েছিলাম ঘুরতে
আমি @riyadx2 বাংলাদেশ থেকে
বৃহস্পতিবার, ০৪ ই ডিসেম্বর ২০২৫ ইং
শীতের সকাল মানেই এক ধরনের আলাদা শান্তি, এক ধরনের সতেজতা। সেই শান্ত সকালেই আজ বেরিয়ে পড়েছিলাম আমাদের গ্রামের মাঠের দিকে। ঘর থেকে বের হতেই গা ভরে এলো শীতের নরম হাওয়া, আর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা কুয়াশার তুলোর মতো সাদা পর্দা। পথের দু’ধারে জমে থাকা শিশিরের ফোঁটাগুলো সকালের আলোয় চকচক করছিল। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি যেন শীতের সাজে নিজেকে নতুন করে সাজিয়েছে।আর আজকে সকাল বেলা অন্যান্য সব দিনের তুলনায় একটু বেশি পরিমাণে শীত পড়ছিল। তবে আমাদের এলাকার মধ্যে এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ভাবে শীত পড়তে শুরু করেনি। আশা করছি সামনের মাস থেকে শীতের তীব্রতা আরো অনেক টা বৃদ্ধি পাবে।
মাঠের দিকে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের নীরবতায় একটা সুন্দর প্রশান্তি অনুভব করছিলাম। দূর থেকে ধানক্ষেতের ছোট্ট ঝলক দেখতে পাচ্ছিলাম যেন সোনালি রঙের আস্ত এক সমুদ্র অপেক্ষা করছে। যতই কাছে যাই, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল সোনালি ধানের হাসি। ধানের গাছগুলো মাথা নত করে দাঁড়িয়ে ছিল, যেন তারা নিজ হাতে উপহার দিতে চায় পুরো বছরের পরিশ্রমের ফল। তবে শীতের জন্য ধান ক্ষেত গুলো তেমন একটা দেখা যাচ্ছিল না। শীতের আবরণে ধান ক্ষেত গুলো একদম ঢাকা পড়েছে।আসলে শীতকাল চলে আসলেই এরকম সুন্দর সুন্দর মুহূর্ত গুলো উপভোগ করা যায়।
ধানগুলো একেবারে পেকে উঠেছে। হালকা হাওয়া বইলেই সেই পাকা ধানের শিষগুলো একসাথে দুলে উঠছিল, আর সেই দুলুনি যেন মাঠের মধ্যে কোনো সুর ছড়িয়ে দিচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি গান গাইছে ধীরে ধীরে, কোমল সুরে, শীতের হাওয়ার তালে। কুয়াশার মধ্যে দিয়ে পড়া সূর্যের নরম আলো ধানক্ষেতের উপর এত মায়াবী একটা আভা ফেলেছিল যে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। কিছু কিছু কৃষক রয়েছে যারা এই শীতের মধ্যে ও ধান কাটার কাজ করছেন। তাদের কাজ দেখে আমার নিজের শরীর পর্যন্ত কেঁপে উঠছিল। কেননা শীতের মধ্যে কাজ করা অনেক টা কষ্টের কাজ।
মাঠের ভেজা মাটির গন্ধ, দূরের পাখিদের ডাক, আর কুয়াশার ভেতরে লুকোচুরি খেলা সূর্যের আলো সব মিলিয়ে সকালে সেই দৃশ্যটি যেন একটা জীবন্ত ছবি হয়ে মনে রয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, গ্রামের প্রতিদিনের এই সাধনাই আমাদের প্রকৃত সম্পদ, আমাদের আসল সৌন্দর্য। প্রতিটি ধানের শিষ যেন বলছিল কৃষকের পরিশ্রমের গল্প, আর শীতের সকালটি সেই গল্পকে আরও বেশি জাদুময় করে তুলেছিল। আসলে এই সব ধান গুলো প্রতিটি কৃষকদের অনেক বেশি কষ্টের ফল।যা তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিশ্রম করার পর উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশের প্রতিটি মানুষ কৃষকদের কাছে ঋণী। কেননা আমরা তাদের কষ্টের ফলানো ফসল খেয়ে বেঁচে আছি।
সেদিনের অভিজ্ঞতা শুধু চোখে দেখা নয়, মনে থাকার মতো। এমন একটি সকাল মানুষকে শান্ত হতে শেখায়, প্রকৃতির সাথে আবারও গভীরভাবে মিশে যেতে শেখায়। শীতের সকালের সেই মায়াবী মাঠ আজও মনকে ছুঁয়ে যায় বারবার। ভবিষ্যতে এরকম সুযোগ পেলে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করবো।
সবাই কে অনেক ধন্যবাদ।
| Device | iPhone 11 |
|---|---|
| Camera | 11+11 MP |
| County | Bangladesh |
| Location | Rangpur, Bangladesh |
Vote@bangla.witness as witness








