জেনারেল রাইটিং - তীব্র শীতে জনজীবন বিধ্বস্ত।
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভাল আছেন। আজ আপনাদের সাথে একটি সমসাময়িক জেনারেল রাইটিং নিয়ে হাজির হয়েছি। যার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে, শীত। অর্থাৎ, তীব্র শীতে জনজীবন দুর্ভোগ হয়ে পড়েছে। সে বিষয়েই আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব।

আমার মনে হচ্ছে বাংলাদেশের জলবায়ুর বেশ বড় রকমের পরিবর্তন ঘটেছে। যারা আবহাওয়া এবং জলবায়ুর মধ্যকার তফাৎ বুঝেন না, তাদের সুবিধায় আমি বলছি, আবহাওয়া হচ্ছে কোন দেশ বা কোন স্থানের স্বল্প সময়ের অর্থাৎ এক সপ্তাহ বা এক মাস বা এক বছরের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ বৃষ্টি, রোদ, ক্ষরা, অনাবৃষ্টি ইত্যাদির একটি উপাত্ত। অন্যদিকে জলবায়ু হচ্ছে একটি দীর্ঘ সময়ের আবহাওয়ার চিত্র।
একটা সময় আমাদের দেশে আমরা ছয়টি ঋতুর অস্তিত্বই টের পেতাম। আমরা চৈত্র মাসের খররোদ এবং বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় পেতাম। বর্ষাকাল যদিও দুই মাসের বলা হতো, কিন্তু বর্ষা ছিল তিন মাস। শরৎ, হেমন্ত খুব দ্রুত চলে গেলেও এ দুটির মধ্যকার তফাৎ আমরা অনুভব করতে পারতাম। তারপর আসতো শীতকাল। শীত কাল প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হত। তারপর বসন্ত এবং গ্রীষ্ম। অর্থাৎ প্রত্যেকটি ঋতুর অস্তিত্বই আমরা টের পেতাম। কিন্তু বর্তমানে তেমনটা আর মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে আমরা যেন তিনটি ঋতুতে আবদ্ধ হয়ে গেছি। গ্রীষ্মকাল, শীতকাল আর বর্ষাকাল।
যাইহোক, আজ আমার আলোচনার বিষয়বস্তু হচ্ছে বর্তমানে প্রবাহমান তীব্র শীত। যদিও আমি আবহাওয়ার খবর দেখিনি, তবে আবহাওয়া দেখে আমি শতভাগ নিশ্চিত আমাদের দেশের শৈত্য প্রবাহ চলছে। যার দরুন আমাদের দেশে বিরাজ করছে তীব্র শীত এবং ঘন কুয়াশা। এমনও হয়েছে সারাদিন আমরা সূর্যের দেখা পাইনি। যার কারনে দৈনন্দন কাজগুলো স্থিমিত হয়ে পড়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ হয়ে গেছে।
শীতের এমন প্রকোপে ঠান্ডা জনিত রোগের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। তাছাড়া যারা গৃহহীন, তাদের কষ্টের কথা আর আমি উল্লেখ করলাম না। তাদের কষ্টের কথা ভাবতেই চোখের কোন জল চলে আসে। আল্লাহ তাদের হেফাজত করুক।
যা আমি বলতে চাচ্ছিলাম, তীব্র শীতে জনজীবন বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। যদিও গতকাল রোদের দেখা মিলেছে। আশা করি সত্য প্রবাহ কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে আমরা খুব শীঘ্রই ফিরতে পারব। সকলকে ধন্যবাদ।