ছেলেবেলার মজার খেলা- চোর-পুলিশ
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আমার প্রিয় ও সহযাত্রী সকল ভাই ও বোনেরা। আশা করি সবাই অনেক ভালো আছেন।আজ আবারও হাজির হয়ে গেলাম আপনাদের সবার অতি নিকটে। ফেলে আশা অনেক স্মৃতির মাঝ থেকে কিছু স্মৃতি নিয়ে। আমাদের চলার পথে জীবনে সুখ দুঃখ কতো স্মৃতি জড়িয়ে আছে।সেই শৈশব থেকে শুরু করে মৃতুর আগ পর্যন্ত স্মৃতিগুলো যেন চোখে ও মনের মনি কোঠায় ভেসে বেড়ায়। আর তার মধ্যে জীবনে এমন অনেক ঘটনা থাকে যা কখনও ভোলা যায় না।

প্রতিটি মানুষের জীবনে ছেলেবেলা হলো একটি স্বর্ণযুগ। আমরা কেউ কিন্তু আমাদের ছেলেবেলাকে ভুলতে পারি না।জীবনের প্রতিটি পদে পদে আমাদের কাছে আমাদের ছেলেবেলা ধরা দেয় স্মৃতি হয়ে। ছেলেবেলার সেই আনন্দঘন দিনগুলো আমাদের জীবনে মাঝে মাঝে মধুর স্মৃতি বিলিয়ে দেয়। নিয়ে যায় সেই শৈশবের কিছু সুন্দর মূহূর্তে। যেখান থেকে ফিরে আসাটাই বেশ মুশকিল। তবুও আমরা ফিরে আসি। আমাদের কে ফিরে আসতে হয়। তাই তো আজ আমি আবার চলে আসলাম আপনাদের মাঝে আমার সেই ছেলেবেলার আরও কিছু স্মৃতি ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য।
আমাদের ছোটবেলার অন্যতম প্রিয় খেলা ছিল ‘চোর-পুলিশ’। এই খেলা ছিল দৌড়ঝাঁপ, কৌশল আর দলবদ্ধ পরিকল্পনার মিশেল। সরকারি কোয়ার্টারের ছোট ছোট গলিতে, মাঠে কিংবা বাড়ির উঠোনে আমরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই খেলায় মেতে উঠতাম। চোর-পুলিশ খেলার মজা আর উত্তেজনা আজও মনে পড়ে। খেলাটি শুরু হতো দুই দলে ভাগ হয়ে — এক দল পুলিশ, আর অন্য দল চোর। পুলিশের কাজ ছিল চোরদের ধরে ফেলা, আর চোরদের কাজ ছিল পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালানো। এই খেলায় কৌশল, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় খুবই জরুরি ছিল।
আমাদের কোয়ার্টারের গলিতে খেলার জন্য উপযুক্ত জায়গা ছিল ছোট ছোট কোণাগুলো, যেখানে লুকিয়ে থাকা আর পালানোর জন্য অনেক সুযোগ ছিল। আমরা লুকোচুরি খেলতে খেলতে, চোর-পুলিশ খেলার মধ্যে পড়ে যেতাম মগ্ন। কখনো কখনো এতটা মজা হতো যে আমরা জানতাম না কখন রাত হয়ে গেছে।
খেলার সময় আমরা নানা ধরনের পরিকল্পনা করতাম — কখনো কেউ ফাঁদ পেতে প্রস্তুতি নিতো, আবার কেউ চোরদের জন্য লুকিয়ে থাকার জায়গা দেখাতো। একে অপরকে সাহায্য করে আমরা পুরো গলিটাকে আমাদের খেলার জায়গা বানিয়ে ফেলতাম। বর্ষায় বৃষ্টির সময় চোর-পুলিশ খেলা একটু কঠিন হলেও আমরা থামতাম না। বরং বৃষ্টির স্নিগ্ধতায় খেলার মজা আরও বেড়ে যেত। শরীর ভিজে যাওয়ার পর গরম গরম চা খেয়ে আমরা নতুন উদ্দীপনায় আবার খেলায় ঝাঁপিয়ে পড়তাম। শীতকালে খেলার সময় ঠাণ্ডা লাগলেও, দৌড়ঝাঁপে শরীর গরম থাকতো। খেলার শেষে আমরা একসাথে গরম খাবার খেতাম আর নিজেরা নিজেরা খেলায় লেগে থাকা অংশের গল্প শেয়ার করতাম।
চোর-পুলিশ খেলা আমাদের শৈশবের এক জীবন্ত স্মৃতি, যা আমাদের মধ্যে দলবদ্ধ কাজের দক্ষতা, সাহস আর বন্ধুত্বের মূল্যবোধ তৈরি করেছে। আজকের জীবনে যখন স্মৃতি ফিরে দেখি, তখন বুঝি সেই ছোট ছোট খেলাগুলো ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
জানিনা কেমন লাগলো আমার আজকের টপিকটি। আশা করি আপনাদের কাছে আজকের পোষ্টটি বেশ ভালা লাগলো। ভালো থাকবেন, সুখে থাকবেন। আর নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করবেন।
আমার পরিচিতি
আমি মাহফুজা আক্তার নীলা । আমার ইউজার নাম @mahfuzanila। আমি একজন বাংলাদেশী ইউজার। আমি স্টিমিট প্লাটফর্মে যোগদান করি ২০২২ সালের মার্চ মাসে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যোগদান করে আমি অরেনেক বিষয় শিখেছি। আগামীতে আরও ভালো কিছু শেখার ইচ্ছে আছে। আমি পছন্দ করি ভ্রমন করতে, ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে। এছাড়াও আমি বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে। মন খারাপ থাকলে গান শুনি। তবে সব কিছুর পাশাপাশি আমি ঘুমাতে কিন্তু একটু বেশীই পছন্দ করি।



আপু আপনি দারুন একটি বিষয় নিয়ে পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করছেন। ছোটবেলার চোর পুলিশ এটা এক আনন্দময় খেলা ছিলো।যাইহোক আপনার ছোটবেলার এই খেলার পোস্ট টি পড়ে খুব ভালো লাগলো।ধন্যবাদ আপনাকে পোস্টটি শেয়ার করার জন্য।