জেনারেল রাইটিং- হাজারও স্মৃতির আমার বাংলা ব্লগ
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন সবাই? আশা করবো সবাই ভালো আছেন। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আমিও আছি ভালোই। তবে ব্যস্ত এ নগরে কতটুকু সময় ভালো থাকতে পারবো সেটা বলা মুশকিল। শত ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয় যান্ত্রিক জীবন। মাঝে মাঝে মনে হয় সব কিছুকে বন্ধ করে দিয়ে দূরে কোথাও সবুজ গাছের ছায়ায় নিজেকে একটু স্বস্থির ছায়া দিতে। কিন্তু ঐ যে বাস্তবতা, সেটা তো বড়ই নিষ্ঠুর আর নির্মম। কোন কিছুতেই ছাড় দিতে চায় না। সে যাই হোক বাবা । চলুন মূল পোস্টে ফিরে যাওয়া যাক।
প্রতিদিনই চেষ্টা করি আপনাদের মাঝে সুন্দর করে কিছু লিখে উপহার দেওয়ার জন্য। চাই চারদিকের মানুষগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা কষ্টগুলো কে আমার লেখার যাদুতে আপনাদের মাঝে তুলে ধরতে। জানিনা কতটুকু আপনাদের মাঝে নিজের মনের কথা গুলো কে শেয়ার করতে পারি। আজ চেষ্টা করলাম আপনাদের মাঝে নতুন একটি জেনারেল রাইটিং শেয়ার করার জন্য। আশা করি প্রতিদিনের মত করে আমার আজকের জেনারেল রাইটিংটিও আপনাদের কাছে বেশ ভালো লাগবে।

Cover Credit by @monira999
মানুষ যখন কোন কষ্টে থাকে কিংবা কোন অস্থিরতা থেকে মুক্তি চায় তখন সে পাগলের মত করে নিজেকে বাচাঁনোর জন্য কোন না কোন নতুন পথ খুজেঁ ফেরে। বার বার তার মনে হতে থাকে যদি সে কোন নতুন পথ খুজেঁ পায়, যদি কোন কিছুর বিনিময়ে তার জীবন থেকে কষ্ট আর অস্থিরতা থেকে মুক্তি মেলে তাহলে তো বেশ সুন্দর একটি জীবন নতুন করে রআবিস্কার করা যায়। আর এমনি একটি লোভ থেকেই বিগত ২০২২ সালে খুজেঁ পেয়েছিলাম প্রিয় আমার বাংলা ব্লগ। খুঁজে পেয়েছিলাম নিজের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করার একটি নতুন প্লাটফর্ম। যেখানে কিনা মনের আবেগ আর অনুভূতি গুলো নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো।
যদিও ছয় মাস কঠিন এক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে হতে হয়েছিল ভেরিফাইড মেম্বার। তথাপিও আমাদের প্রিয় @rme দাদার হাত ধরেই বেশ অনেক কিছুই অর্জন করতে পেরেছি। কি এক যুদ্ধ যে হতো আমাদের। ব্লগার অফদা উইক হওয়ার জন্য সেই রাত জেগে কমেন্ট করা। কেমন করে সবার বেশী কমেন্ট করে আর বেশী বেশী পোস্ট করে একজন ব্লগার অফ দা উইক হবো সেটাই ছিল মুখ্য বিষয়। তারপর তো শুরু হতো বৃস্পতিবার রাতের অপেক্ষা। কে হয় ব্লগার অফদা উইক। ইস্ কি যে এক টেনশন।
অবশেষে সেই কাঙিখত বৃহস্পতিবার রাত ৯.০০ যখন আসতো তখন তো বেশ টেনশন হতো কে হয় ব্লগার অফ দা উইক। আর যদি কখনও ব্লগার অফদা উইকে নিজের নামটা শুনতে পেতাম তখন যে কেমন এক অনুভূতি হতো সেটা বুঝিয়ে বলার নয়। তারপর হ্যাং আউটে মাঝে মাঝে গান করা, অন্যদের গান শোনা আর আনন্দের মধ্য দিয়ে কখন যে রাত হয়ে যেত সেটাই বুঝতে পারতাম না। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে অনুষ্ঠান চলতো। প্রায় সেই ছেলেবেলার বাংলা সিনেমা দেখার মত।
আর আজ সেই সময় আর নেই। ২০২৫ সালের শেষ হয়ে গেল। সেই সাথে প্রিয় আমার বাংলা ব্লগও আজ ভাঙ্গনের দাড়ঁপ্রান্তে। কিন্তু বিগত এই কয়েক বছরে আমার বাংলা ব্লগ দিয়েছে অনেক কিছু। দিয়েছে নতুন কিছু মানুষের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ। দিয়েছে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার উদ্দীপনা। দিয়েছে কিছু বিখ্যাত মানুষ কে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ। যে কারনে আমি আমাদের শ্রদ্বেয় দাদার কাছে কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ দাদা ভালো থাকবেন অনন্ত কাল।
জানিনা প্রিয় আমার বাংলা ব্লগকে নতুন করে নিজের মনের মত করে খুঁজে পাবো কিনা। জানিনা কখনও আবার সকালে ঘুম ভেঙ্গেই দেখবো কিনা বেস্ট ব্লগারে নিজের নাম। আর কখনও বা দেখবো কিনা ফিচারড অব আটিকেলে নিজের লেখা কোন পোস্ট। তবও অপেক্ষায় রইলাম নতুন কোন সূচনার। আমি আশাবাদী দাদা সকল ভাঙ্গনের সুর ভুলে নতুন করে নতুন ভাবে আমাদের কে নিয়ে নতুন কিছু উপহার দিবেন প্রিয় @rme দাদা।
নতুন বছর সবার জন্য নতুন কিছু বয়ে নিয়ে আসুক সেই কামনাতেই সকলকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি আজকের লেখা।
আমার পরিচিতি
আমি মাকসুদা আক্তার। স্টিমিট প্লাটফর্মে আমি @maksudakawsar হিসাবে পরিচিত। ঢাকা হতে আমি আমার বাংলা ব্লগের সাথে যুক্ত আছি। আমি একজন গৃহিনী এবং চাকরিজীবী। তারপরও আমি ভালোবাসি আমার মাতৃভাষা বাংলায় নিজের মনের কথা গুলো আমার বাংলা ব্লগের প্লাটফর্মে শেয়ার করতে। আমি ভালোবাসি গান শুনতে এবং গাইতে। আমি অবসর সময়ে ভ্রমন করতে এবং সেই সাথে সুন্দর কিছু ফটোগ্রাফি নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে ও ভালোবাসি। মাঝে মাঝে নিজের মনের আবেগ দিয়ে দু চার লাইন কবিতা লিখতে কিন্তু আমার বেশ ভালোই লাগে। সর্বোপরি আমি ভালোবাসি আমার প্রাণপ্রিয় মাকে।
.gif)
VOTE @bangla.witness as witness
OR
SET @rme as your proxy



Congratulations @maksudakawsar! Your post was upvoted by @supportive. Accounts that delegate enjoy 10x votes and 10–11% APR.