পুজো পরিক্রমা ২০২৩ : বাদামতলা আষাঢ় সংঘ
নমস্কার বন্ধুরা,
হাজরা পার্ক দুর্গোৎসব কমিটির গপ্পো শেষ করে হেঁটে গেলাম কালীঘাটের উদ্দেশ্যে। কিলোমিটার খানেক রাস্তা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছে প্রথম যে পুজো মণ্ডপে ঢুঁ মারলাম সেটা হলো বাদামতলা আষাঢ় সংঘের পুজো। ১৯৩৭ সাল থেকে চলে আসা বাদামতলা আষাঢ় সংঘের পুজোর এবারের থিম, প্রতিরূপ, যার অর্থ হলো একই রূপের সাদৃশ্য মূলক। আষাঢ় সংঘের পুজোর ভাবনা ছিলো প্রকৃতিকে ঘিরে। যা আমাদের প্রতিরূপ মাত্র।
দেবদেবীরা যেমন প্রকৃতি সৃষ্টি করেছে তেমনি মানুষ জাতিকেও। অথচ দেবতাদের সৃষ্টি এই মানুষই আজ প্রকৃতি ধ্বংসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারিদিকে জঙ্গল কেটে সাফ করে ফেলা হচ্ছে, বড় বড় গাছ নিমেষে ধরাশায়ী হয়ে পড়ছে। সেই সাথে বনের পশু পাখিদেরও উধাও করে দেওয়া হচ্ছে। আর সেটার কুফল মানব সভ্যতা সরাসরি পেতে শুরু করেছে, বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে। প্রকৃতি যেন মানুষের সাথে তার প্রতিরূপ আচরণই করছে। ৮৫ তম বর্ষে পা দেওয়া বাদামতলা আষাঢ় সংঘের এবারের পুজো ছিলো এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই, "প্রতিরূপ"।
দক্ষিণ কলকাতার নামকরা পুজো গুলোর মধ্যে একটি, বাদামতলা আষাঢ় সংঘ তাদের এবছরের পুজোর মাধ্যমে মানুষকে প্রকৃতিকে রক্ষা করার জন্য সচেতন করেছে। মানুষ অকপটে যে পরিমাণে প্রকৃতি নিধন করে চলেছে সেটা থেকেই বিরত করার এক স্বল্প প্রচেষ্টা করেছে। বর্তমান সময়ে আধুনিক সভ্যতার সাথে তাল মেলাতে গিয়ে মানুষ বন বাদার, পশু পাখি কোন কিছুই বাদ রাখছে না, সেখানে বাদামতলা সংঘের এ বছরের পুজোর প্রকৃতি কেন্দ্রিক ভাবনা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে।
পুজোর প্যান্ডেলটি রাস্তার ধারে কয়েকটি গাছের সাথে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে। দূর থেকে যা দেখলে বোঝাই সম্ভব না যে প্যান্ডেলটি গাছ গুলো থেকে আলাদা ভাবে তৈরি হয়েছে। মণ্ডপের প্রতিটা অংশ প্রকৃতি বান্ধব বস্তু দিয়ে তৈরি। ব্যবহার হয়েছে ১০ লক্ষেরও বেশি শালপাতা। শালপাতা সুতোয় বেঁধে মণ্ডপ সজ্জা দিয়েছে। মণ্ডপের ভেতরে ঢুকলে গাছের মতো যে কান্ডগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলি আসলে কোন গাছ কেটে নয় বরং বিভিন্ন রকমের প্রাকৃতিক সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি হয়েছে।
মণ্ডপের অন্দরে কিছুটা এগিয়ে যেতেই মন্ডপের সুন্দর আলোকসজ্জা এবং শাল পাতার কারুকার্য ভালোভাবে নজরে আসে, আর সেগুলোর ঠিক মাঝে প্রতিষ্ঠা হয়েছেন মা। যেন তিনিই প্রকৃতির মূল রক্ষাকর্তী হয়ে উঠেছেন।











দাদা ভারতের থিম পুজো গুলো দেখতে আসলেই অনেক বেশি ভালো লাগে। যদিও কখনো ভারতে গিয়ে দেখি নাই তবে আপনাদের পোষ্টের মাধ্যমে দেখে থাকি। সত্যি বলেছেন দাদা আজকে পৃথিবীর ক্ষতির জন্য দায়ী মানবজাতি। বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে গাছ যেভাবে কেটে ফেলা হচ্ছে তাতে করে পৃথিবী অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যে সুন্দর সময় অতিবাহিত করেছেন পুজোতে জেনে ভালো লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা সুন্দর একটি পোস্ট বিস্তারিত ভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য।