ভ্রমন পোস্ট- বাংলার তাজমহল ঘুরে দেখার কিছু অনুভূতি
আসসালামু আলাইকুম
কেমন আছেন আমার প্রিয় সহযাত্রী ভাই বোনেরা? আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছেন। আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। আশা করি সবার দিনটা ভাল কেটেছে। আজকে আপনাদের সবার মাঝে আমার আরও একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। প্রতি সপ্তাহের মত আজও আমি একটি ভ্রমণ পোস্ট নিয়ে আপনাদের সবার মাঝে হাজির হয়েছি। আশা করি আপনাদের সবার কাছে অনেক ভালো লাগবে। তাহলে চলুন আজ আমার ভ্রমণ পোস্ট দেখে আসি কেমন হয়েছে।

ভ্রমণ সবসময়ই মনকে প্রফুল্ল করে। আর যদি গন্তব্য হয় বাংলার তাজমহলের মতো এক আকর্ষণীয় স্থান, তবে সেই অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে আরও বিশেষ। কয়েকদিন আগে আপুর সাথে ঘুরে এলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের পেরাব এলাকায় অবস্থিত বাংলার তাজমহল। বহুদিন ধরেই এই জায়গাটির নাম শুনে আসছিলাম, তাই সশরীরে সেখানে গিয়ে দেখতে আগ্রহ ছিল প্রবল। অবশেষে আমরা রওনা হলাম। সকালবেলায় ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে আমরা ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পৌঁছে যাই বাংলার তাজমহলের গেটের সামনে। গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। হুবহু ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে তৈরি এই প্রতিরূপটি দেখে প্রথমেই আমি বিস্মিত হয়ে যাই। মার্বেলের মতো দেখতে সাদা পাথরের গায়ে সূক্ষ্ম নকশা, গম্বুজের গঠন, চারটি মিনার। সব কিছু এতটাই নিখুঁতভাবে নির্মিত যে এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল আমি বুঝি সত্যিই আগ্রার তাজমহলে চলে এসেছি।

ভেতরে ঢুকে পরিবেশটি মনোমুগ্ধকর মনে হলো। পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সুসজ্জিত বাগান, রঙিন ফুলের সারি — সব মিলিয়ে এক শোভাময় পরিবেশ। বাংলার তাজমহলের মূল গেট দিয়ে ঢুকে একটু সামনে এগোলেই মূল ভবনটি চোখে পড়ে। প্রবেশপথের সামনে দাঁড়িয়ে আমরা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইলাম। এরপর ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেলাম এবং মূল ভবনের ভেতরে ঢুকলাম। ভেতরের স্থাপত্যেও রয়েছে দারুণ সৌন্দর্য ও কারুকাজ। যদিও এটা পুরোপুরি মার্বেল দিয়ে তৈরি নয়, তবুও খুবই নিখুঁতভাবে তাজমহলের আদলেই তৈরি করা হয়েছে।


এই তাজমহলটি তৈরি করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র পরিচালক আহসানউল্লাহ মণি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, সাধারণ মানুষ যারা ভারতে গিয়ে মূল তাজমহল দেখতে পারেন না, তারা যেন নিজ দেশে থেকেই এর রূপ উপভোগ করতে পারে। এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। ভেতরে ঘোরাঘুরি করতে করতে আমি অবাক হয়ে ভাবছিলাম কী অসাধারণ নিপুণতায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি মানুষ অন্তত একবার হলেও আসতে চায়।


তাজমহল চত্বরের আশপাশে রয়েছে কিছু অন্যান্য আকর্ষণও। ছোট একটি যাদুঘর, ক্যাফে, আর একটি সুন্দর লেক — সব মিলিয়ে একটি দিন কাটানোর মতো সুন্দর পরিবেশ রয়েছে এখানে। আমরা দুপুরে ক্যাফেতে খেয়ে নিই এবং এরপর কিছু সময় লেকে বসে কাটাই। পরিবেশ এতটাই শান্ত ও নির্মল ছিল যে শহরের কোলাহল থেকে যেন একটুখানি প্রশান্তির আশ্রয় পেয়েছিলাম।ছবি তোলা তো চলছিল সারাক্ষণই। প্রতিটি কোণ থেকেই ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য ধরা পড়ছিল ক্যামেরার ফ্রেমে। বিশেষ করে সূর্য যখন একটু পশ্চিমে হেলে পড়ে, তখন সাদা তাজমহলের গায়ে পড়া রোদ যেন এক মোহময় আভা তৈরি করছিল। দিন শেষে যখন ফিরে যাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিল যেন মনটা সেখানেই রেখে যাচ্ছি। বাংলার তাজমহল শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি একটি অনুভূতি। এটি ইতিহাস, প্রেম, এবং নান্দনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আমি মনে করি, প্রতিটি বাঙালির উচিত একবার হলেও এই স্থাপনাটি দেখে আসা। এটি আমাদের দেশেই এমন একটি নিদর্শন, যা গর্ব করার মতো।

আপনাদের ভাল লাগলেই আমার মনের উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পাবে। আজ আপনাদের সবার সুস্থতা কামনা করে এখানে বিদায় নিচ্ছি। আবারও যে কোন সময় নতুন কোন জায়গার ভ্রমণ পোস্টের ব্লগ নিয়ে আপনাদের মাঝে চলে আসব। এ পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।
আমার পরিচিতি
আমি মাহফুজা আক্তার নীলা । আমার ইউজার নাম @mahfuzanila। আমি একজন বাংলাদেশী ইউজার। আমি স্টিমিট প্লাটফর্মে যোগদান করি ২০২২ সালের মার্চ মাসে। আমার বাংলা ব্লগ কমিউনিটিতে যোগদান করে আমি অরেনেক বিষয় শিখেছি। আগামীতে আরও ভালো কিছু শেখার ইচ্ছে আছে। আমি পছন্দ করি ভ্রমন করতে, ছবি আঁকতে, বিভিন্ন ধরনের মজার মাজার গল্পের বই পড়তে, ফটোগ্রাফি করতে, ডাই প্রজেক্ট বানাতে ও আর্ট করতে। এছাড়াও আমি বেশী পছন্দ করি মজার রেসিপি করতে। মন খারাপ থাকলে গান শুনি। তবে সব কিছুর পাশাপাশি আমি ঘুমাতে কিন্তু একটু বেশীই পছন্দ করি।



খুব সুন্দর একটি জায়গায় ভ্রমণ করেছেন আপু। কখনো এই জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তবে আপনি পোস্টে খুব সুন্দর ভাবে সে জায়গা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। আপনার লেখা পোস্ট টি পড়ে জায়গা টি সম্পর্কে জানতে পারলাম। আপনার পোস্টের মাধ্যমে তাজমহলের অনেক কিছু সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারলাম। ধন্যবাদ আপু সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
https://x.com/mahfuzanila95/status/1917934243314905224
খুবই সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন আপনি৷ আপনার কাছ থেকে আজকের এই সুন্দর পোস্ট দেখে খুব ভালই লাগলো৷ যেভাবে আপনি এই বাংলার তাজমহল ঘুরে দেখেছেন এবং সেখানকার সুন্দর মুহূর্ত ফটোগ্রাফি এবং বর্ননার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন তা পড়ে খুব ভালই লাগলো৷ অনেক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য৷