Better Life with Steem|| The Diary Game||08-03-25|| আজ পলাশ ও সঙ্গীতার বৌ ভাত ||
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
দেখতে দেখতে কিভাবে আনন্দের মুহূর্তগুলো কিভাবে পার হয়ে যায় তা বোঝাই যায় না। গায়ে হলুদ হল ,বিয়ে হল, বাসি বিয়ে হল, মেয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে গেল। ৮ তারিখ পলাশ-সঙ্গীতার বৌভাত ।
আমাদের সময় বিয়ের সাত দিন পরে এই অনুষ্ঠানটি করা হতো কিন্তু এখন সকলের কর্মব্যস্ততা এবং বাচ্চাদের স্কুল কলেজে খোলা ছিল তাই সকলের হাতে ছুটি কম ছিল বিধায় বিয়ের তিন দিনে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান করা হলো ।
![]() | ![]() |
|---|
খুব সকালবেলা সকলকে উঠতে হয়েছিল। অনেকেই এই বৌভাতের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সকালে নাস্তা দিলাম। বাচ্চারা অনেক খুশি তারা আজকে দিদি শ্বশুর বাড়ি যাবে, দিদিকে দেখবে ।মেয়েটা বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়ি এক দিন হয় গিয়েছে তাতেই মনে হচ্ছে যেন, অনেকদিন তারা দিদিকে দেখেনি ।সঙ্গীতার শ্বশুরবাড়ি ততটা দূরে নয় ,মাত্র দুই ঘণ্টার পথ হবে।
বর্তমান সময়ে যাতায়াত ব্যবস্থা অনেক ভালো থাকায় তেমন সময় লাগে না ।সে আমাদের সময় গাড়ির ব্যবস্থা ততটা ছিল না ,লঞ্চে করে যাতায়াত করতে হতো। সকাল ৯ঃ০০ টার সময় লঞ্চে উঠেছিলাম আর রাত আটটার সময় আর্মি বাবুর বাড়ি এসে আমরা পৌঁছেছিলাম।
মেয়েরা সবাই তৈরি হচ্ছে এদিকে রান্নার দিদি নাস্তার পাশাপাশি গরম গরম ভাতের ব্যবস্থা করেছিলেন। সাথে ইলিশ মাছ ভাজি ও ডাল করেছিলাম। বাচ্চারা কেউ খেতে চাচ্ছিল না । আমি ওদেরকে খাইয়ে দিয়েছিলাম ।অনেকে হাসি ঠাট্টা করতেছিল।দেবরজী বলতেছে, ”আপনাদের আটা ময়দা মাখতে তো অনেক সময় লেগে যাবে,আপনার আগেই তৈরি হয়েনিন।
![]() |
|---|
আমরা প্রায় ৫০ জন ওদের বাড়িতে যাব। এখন বরযাত্রী বলুন কিংবা বৌভাতের অনুষ্ঠান বলুন মেয়েদেরকে নেয়া হয় কিন্তু আমার বাবার বাড়ির পরিবারে এখনো অবিবাহিত মেয়েদেরকে বরযাত্রী কিংবা মেয়ের সঙ্গে পাঠানো হয় না ।আমার বাবার বাড়ি রক্ষণশীল পরিবার বলা যায় । তারা মেয়েদের একটু বেশি শাসন করে থাকে। কিন্তু আমার শ্বশুর বাড়িতে মেয়েদেরকে সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকেন।
আমার বিয়ের আগে কখনো বরযাত্রী যেতে পারিনি। তবে আমাদের বাড়ির নিয়মটা কঠিন হলেও বর্তমান সময়ের থেকে অনেক ভালোই ছিল কারণ বর্তমান সময় মেয়েদের নিরাপত্তা দেয়া খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।পেপার খুললে কিংবা ফেইসবুকে চোখ পরলে দেখা যায় ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি।
![]() |
|---|
যাইহোক, মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে আজ আমরা প্রথম যাচ্ছি ।সেজন্য ২০০ মিষ্টি নিলাম ,মেয়ের জন্য উপহার নিলাম ,পান-সুপারি, সিঁদুর নিলাম ।এগুলো নাকি নিতে হয় ।দুপুর বারোটার সময় বেরিয়ে পড়লাম। আমরা মেয়ের শ্বশুর বাড়ি এসে পৌঁছাই, বাজনা বাজিয়ে, ফুল দিয়ে আমাদের বরণ করা হলো ।মেয়েকে সাজিয়ে তার নির্দিষ্ট আসনে বসানো হলো ।সবাইকে একত্রে দেখে মেয়েতো ভীষণ খুশি হল ।
আমাদের প্রথমে নাস্তা দেওয়া হলো ।তারপরে আমরা ওদের বাড়ির আশপাশে ঘুরে আসলাম এবং খুব সুন্দর সুন্দর ছবি তোলাহল। এখানে একটি অনেক পুরনো জমিদার বাড়ি আছে। তবে এখানে জমিদার পরিবারে কেউ বসবাস করেন না । এটা বাড়ি পরিত্যক্ত বলা হয় । আমিও কিছু ছবি তুলে নিলাম ।
আজ সঙ্গীতার বৌভাত ,আজ স্বামী তার স্ত্রীর সারা জীবনের জন্য ভাত ,ও কাপড় সকল দায়িত্ব সহ তার মোবাইল বিল, তার ইন্টারনেট বিল, তার মেকআপ থেকে শুরু করে শপিং, হাত খরচ সকল কিছুর দায়িত্ব নিবে। স্ত্রীকে সুখে রাখার দায়িত্ব নিবে এবং স্ত্রীও স্বামীকে সুখের রাখার সকল দায়িত্ব গ্রহণ করবে । এখনকার এই নিয়মটা অনেক পরিবর্তন হয়েছে কারণ মেয়েরা শুধু ঘরের কাজ নয়, আজকাল আজ মেয়েরা ঘরে বাহিরে দুটোই সামলাচ্ছে একই হাতে। আজ মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়েছে ।তারাও পুরুষের পাশাপাশি চাকরি করে টাকা উপার্জন করছে ।
![]() | ![]() |
|---|
আমাদেরকে দুপুরের খাবার দেয়া হলো এবং নতুন বউ সে নিজ হাতে সবাইকে ঘি ভাত দিয়ে তা সংসার জীবনে রান্না ঘরের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। মেয়েদেরকে কিছু শিখিয়ে দিতে হয় না ।পরিবেশ এবং পরিস্থিতিতে সবকিছুই তারা শিখে নিতে পারে । খাওয়া-দাওয়া শেষে আমার কিছু সময় বিশ্রাম নিলাম। আবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে কারণ অনেক মেহমানে আজই তাদের নিজ নিজ বাড়িতে চলে যাবেন।
কিছু হিজলা আসলেন, তারা সুন্দর নাচ দেখালেন এবং তারা ১০,০০০ টাকা দাবি করলেন। অনেক কথা কাটাকাটির পরে তাদেরকে ৬০০০ টাকা দিয়ে খুশি করা হলো । একটি করে সুতির শাড়ি দেওয়া হলো । এখানে বৌভাতের দিনে রং খেলা হয়, ওরা ওদের বাড়ির লোকজনদেরকে রং দিচ্ছে তার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ছোটদেরকে রং দিচ্ছে।
![]() | ![]() |
|---|
একটি আনন্দের দিন কাটানো হল । মেয়ে আমাদের সাথে আসেনি ।ওরা পরে আসবে ,আনুষঙ্গিক কাজগুলো সম্পন্ন করে তারপরে আমাদের বাড়ি আসবে। আমরা বিকেল পাঁচটায় বেরিয়ে পড়লাম। বাড়িতে আসতে আসতে আমাদের সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেল ।এভাবে কেটে গেল আমাদের ০৮ তারিখের দিন।
আশা করি আপনাদের দিনগুলো অনেক ভালো কেটে যাচ্ছে । সকলে ভালো থাকবেন , সুস্থ থাকবেন এবং পরিবারের সকলের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য রাখবে ।শুভরাত্রি










https://x.com/muktaseo/status/1902078320860393965
সর্বপ্রথম দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা ও অভিনন্দন রইল,, তাদের সামনের দিন গুলো অনেক সুন্দর ভাবে কাটবে এটাই আশা করি,, এবং আজকে বৌ ভাতে যাওয়ার কিছু মুহূর্ত আপনি আমাদের মাঝে সুন্দর করে তুলে ধরেছেন যেটা দেখে সত্যিই ভালো লাগলো,, এবং একটা রীতি প্রত্যেকটি ধর্মের মধ্যে আছে এটা আমাদের মানতে হবে,, যেহেতু বৌ ভাতের অনুষ্ঠানটা বিয়ের সাত দিন পরে হয়,, তবুও সবার হাতে ছুটি কম থাকার জন্য তিন দিনের মাথায় বৌ ভাতের অনুষ্ঠানটি করেছে,, এটা সত্যি একটি ভাল কাজ করেছে কারণ এখন প্রত্যেকটি মানুষের কর্ম জীবনে অনেক ব্যস্ততা থাকে।
বিয়ে বাড়ি মানে অনেক মজা হৈ হুল্লোর আনন্দ করতে করতে দিন কেটে যায়। তেমনি আমার অনেক নিয়ম কানুন থাকে। আপনাদের ওখানে বিয়ের সাত দিন পর বৌভাতের অনুষ্ঠান করা হতো। কিন্তু এখন সেটা তিনদিন পর করা হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সেটা একদিন বাদেই পালন করা হয়। তবে এটা ঠিক আগের দিনে মেয়েদের অনেক নিরাপত্তা ছিল। চারিদিকে ধর্ষণ ,খুনের ঘটনা শোনা যেত না কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই এইসব ঘটনা ঘটতেই চলেছে। আপনাদের সময় বিয়ের আগে কোনদিন বরযাত্রী যাননি। কিন্তু এখন সব জায়গাতেই সব কিছু নিয়মই পাল্টে গেছে। আপনার বিয়ে বাড়ির সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।