বাংলাদেশ সফরের এক বছর সম্পূর্ণ হল। স্মৃতির পাতা থেকে কিছু কথা।
বাংলাদেশ ট্রিপের এক বছর সম্পূর্ণ হল
🙏 সকলকে স্বাগত জানাই 🙏
আগের বছর ঠিক আজকের দিনে আমি ছিলাম বাংলাদেশে। ৮ দিনের জন্য গিয়েছিলাম বাংলাদেশ সফরে। দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কবি মিলন উৎসবে যোগদান করবার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ গিয়েছিলাম। সেই ছিল আমার প্রথমবারের জন্য বাংলাদেশ যাওয়া। চোখে একরাশ কৌতুহল জমিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে চেপে বসেছিলাম মৈত্রী এক্সপ্রেসে৷ তারপর ধীরে ধীরে গেদে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিলাম বাংলাদেশের মাটিতে৷ নিজের দেশ ভারতবর্ষের সঙ্গে সেই দেশের খুব একটা পার্থক্যও খুঁজে পাইনি। এমনকি বেশ কয়েকদিন ঢাকা শহরে ঘুরেও আমি কলকাতার সঙ্গে ঢাকার পার্থক্য করতে পারিনি। ঘুরেছিলাম একুশে বইমেলাতেও। সেখানে এত ভালবাসা পেয়েছি যেন মনে হয়েছিল আমি কলকাতা বইমেলায় ঘুরছি। এই বছর ফেসবুকে যখন দেখছি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা, তখন বারবার স্মৃতির দরজায় কড়া নেড়ে পৌঁছে যাচ্ছিলাম আগের বছরের বইমেলাতে। পরিচয় হয়েছিল বাংলাদেশের কত নতুন বন্ধুর সাথে। কখনো সেটিকে অন্য দেশ বলে মনে হয়নি একবারও৷
আজ হঠাৎ ফেসবুক মনে করিয়ে দিল বিগত বছর এই পয়লা মার্চ আমি টাঙ্গাইলে ছিলাম। সেখানকার একটি ছোট্ট গ্রাম শালিয়াবহ। আন্তর্জাতিক কবি মিলন মেলা উপলক্ষে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম এই আজকের দিনেই। যাত্রাপদ প্রিয় ছিল খুব আকর্ষণীয়। কক্সবাজার থেকে সরাসরি এসেছিলাম টাঙ্গাইল। সেখানকার লাইব্রেরী গেটে আমাকে বাস থেকে নামিয়ে দেন কন্ডাক্টর। তারপর বাস থামিয়ে তিনি আমার জন্য অট বুক করে আমাকে বসিয়ে দিয়েছিলেন। ভারত থেকে এসেছি শুনে এইসব স্পেশাল ব্যবস্থা আমার জন্য। তারপর দেখতে দেখতে কেমন করে যেন তিনটা দিন পেরিয়ে গেছিল তা বুঝতেই পারিনি। সবথেকে অবাক লেগেছিল শুধুমাত্র কবি এবং কবিতাকে কেন্দ্র করে সেই গ্রামে বসেছিল বিশাল একটি মেলা। দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন কবিরা এসে হাজির হয়েছিল সেই মেলাতে। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, জামালপুর ইত্যাদি জায়গা থেকে অসংখ্য কবিরা যেমন এসেছিলেন, ঠিক তেমনভাবেই ভারতসহ নেপাল ভুটান এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকেও কবিরা এসেছিলেন সেই মেলাতে।
সেখানে আমি উপস্থিত হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছিলাম। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ছিল মাটির মা ফাউন্ডেশন নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সেই অনুষ্ঠানে আমি বাংলা ভাষা এবং কবিতাকে কেন্দ্র করে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়েছিলাম। ভারত থেকে গিয়েছিলাম বলে সেখানে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছিলাম বাংলাদেশের কবিদের কাছ থেকে। আর বিশেষভাবে ভালো লেগেছিল শালিয়াবহ গ্রামটি। চারিদিকে আনারস ক্ষেত৷ তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের সবুজ সবজির জঙ্গল। এবং তার মাঝখান দিয়ে আমরা হেঁটে চলেছি গ্রামের এপাশ থেকে ওপাশ। পাহাড়ি গ্রাম হিসাবে সেই গ্রামটির ছবি আজও আমার চোখে যেন লেগে আছে।
দেখতে দেখতে কেটে গেছে একটি বছর। কিন্তু সেই ঘুরে আসবার স্মৃতি যেন মনে হয় ভীষণ টাটকা। এখনো পর্যন্ত প্রত্যেকদিন আমি বাংলাদেশের সেই স্মৃতিগুলোকে নিয়ে নিজের মধ্যে যাপন করি। ঢাকা কক্সবাজার টাঙ্গাইল সমেত বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছিলাম একেবারে নিজের মতো করে। হোটেলে এক একটি ঘরে কাটিয়েছিলাম একা। নিজের মতো ঘুরে আসা সেই সোলো টিপের অনুভূতি কাউকে বলে বোঝাতে পারবো না। আর তার মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া আতিথেয়তা তো ছিলই। আজ ঠিক এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার মুহূর্তে যেন বারবার মনে পড়ছে বাংলাদেশে কাটানো সেই দিনগুলোর কথা। ফেরবার সময় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি প্লেনে ফিরেছিলাম কলকাতায়। যে যাত্রাপথ যেতে প্রায় ৯ ঘণ্টা লেগেছিল, আসবার সময় তা মাত্র ১ ঘন্টায় অতিক্রম করে নিয়েছিলাম। বাংলাদেশের কাটানো মুহূর্তগুলো আজও ভীষণ সজীব। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ঢাকা বা কক্সবাজারের বিভিন্ন ছবিগুলি দেখলে বারবার মনে পড়ে আমার কাটিয়ে আসা স্মৃতিগুলো। একটা ট্রিপে কত বন্ধু যুক্ত হয়ে গেছিল আমার জীবনের সঙ্গে। এখনো তারা নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন আমার। আবার ডাকেন তাঁদের দেশে। আর আমিও ভবিষ্যতে সুযোগ খুঁজবো আবার তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার। আসলে দেশের কোন সীমান্ত হয় না। সবটাই মানুষের তৈরি করা বেড়াজাল। সীমান্তকে ভেদ করে যখন আমরা এক দেশ থেকে প্রতিবেশী দেশে পৌঁছে যাই, তখন যেন কোথাও গিয়ে নিজের মানব সত্তাটাই আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আজ এই এক বছর পরে একটা কথাই বারবার বলতে ইচ্ছে করছে। ভালো থেকো বাংলাদেশ। ভালো থেকো আমার সেখানকার বন্ধুরা।
🙏 ধন্যবাদ 🙏
(১০% বেনিফিশিয়ারি প্রিয় লাজুক খ্যাঁককে)
--লেখক পরিচিতি--
কৌশিক চক্রবর্ত্তী। নিবাস পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়। পেশায় কারিগরি বিভাগের প্রশিক্ষক। নেশায় অক্ষরকর্মী। কলকাতায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবিতার আলো পত্রিকার প্রধান সম্পাদক। দুই বাংলার বিভিন্ন প্রথম সারির পত্রিকা ও দৈনিকে নিয়মিত প্রকাশ হয় কবিতা ও প্রবন্ধ। প্রকাশিত বই সাতটি৷ তার মধ্যে গবেষণামূলক বই 'ফ্রেডরিক্স নগরের অলিতে গলিতে', 'সাহেবি কলকাতা ও তৎকালীন ছড়া' জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সাহিত্যকর্মের জন্য আছে একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তার মধ্যে সুরজিত ও কবিতা ক্লাব সেরা কলমকার সম্মান,(২০১৮), কাব্যলোক ঋতুভিত্তিক কবিতায় প্রথম পুরস্কার (বাংলাদেশ), যুগসাগ্নিক সেরা কবি ১৪২৬, স্রোত তরুণ বঙ্গ প্রতিভা সম্মান (২০১৯), স্টোরিমিরর অথর অব দ্যা ইয়ার, ২০২১, কচিপাতা সাহিত্য সম্মান, ২০২১ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
ধন্যবাদ জানাই আমার বাংলা ব্লগের সকল সদস্যবন্ধুদের৷ ভালো থাকুন, ভালো রাখুন।



















https://x.com/KausikChak1234/status/1896271518851895781?t=JjQEqVSnj0hKoMtWqfJUqQ&s=19
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
Daily tasks-
আপনার বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা সত্যিই চমৎকার! টাঙ্গাইলের কবি মিলন মেলা থেকে শুরু করে শালিয়াবহ গ্রাম এবং কক্সবাজারের সফর সব কিছুই খুবই প্রাণবন্ত এবং অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করে। সোলো ট্রিপের অভিজ্ঞতা এবং সেখানে পাওয়া আতিথেয়তা মনে হয় একদম অসাধারণ ছিল। আপনার এই স্মৃতিগুলো পড়তে খুব ভালো লাগলো, এবং সত্যিই মনে হয় যে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশে ঘুরতে আসার জন্য আন্তরিক নিমন্ত্রণ রইল দাদা।
সত্যিই এই বাংলাদেশ সফরটি আমার কাছে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। আপনি আবার আমাকে নিমন্ত্রণ করলেন বলে অনেক ধন্যবাদ।। আবার যাওয়ার ইচ্ছা আছে খুব তাড়াতাড়ি।