ছোট গল্প পোস্ট ||| শেষ ভাবনাতেও তুমি পর্ব-০৩ ||| original writing by @saymaakter
হ্যালো বন্ধুরা সকলে কেমন আছেন? আশা রাখি সকলে পরিবারসহ সুস্থ আছেন এবং ভালো আছেন।আমিও পরিবারসহ বেশ ভালো আছি।
.jpg)
source
আজকে আমি আপনাদের মাঝে আমার ছোট গল্প "শেষ ভাবনাতেও তুমি পর্ব-০৩" নিয়ে হাজির হয়েছি।আগের পর্বে আপনাদের সুন্দর সুন্দর মন্তব্য পেয়ে তৃতীয় পর্ব লেখার আগ্রহ অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছে।চলুন আর কথা না বাড়িয়ে তৃতীয় পর্বে কি আছে তা দেখে নেওয়া যাক।
আশা আরিফ এর বাড়ি থেকে দ্রুত বের হয়ে নিজের বাসায় চলে যায়।এদিকে আসার হাজবেন্ড আশাকে বলে আমার গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ ছিল। এইমাত্র ফোন এসেছে আমাকে এখনই ঢাকায় ব্যাক করতে হবে। আশা খুব আপসেট হয়ে বলল আর কয়েকটা দিন থাকলে হয় না এই তো সবে মাত্র বাড়িতে এলাম কত বছর পর।কিন্তু আশার স্বামী আশাকে অনেক কথা শুনিয়ে তাকে জোর করে নিয়ে চলে গেল ঢাকার উদ্দেশ্যে। আশার মা-বাবা অনেক কষ্ট পেল আশার স্বামীর ব্যবহারে। তখন আশা বলল তুমি না চেয়েছো অনেক টাকা পয়সা এবার নাও এই ব্যবহারগুলো একটু দেখে নাও আর সহ্য করে যাও। তোমার মেয়ে কত সুখে আছে সেটা নিজের মনকে একবার জিজ্ঞাসা কর আর সান্তনা পেও।
আসলে মা টাকা পয়সা হলেই যে একটা মেয়ের সুখে থাকবে এটা একদম সত্য নয় । সুখ সেটাই যেটা একজন আরেকজনকে বোঝার ক্ষমতা থাকবে। যেখানে ভালোবাসা থাকবে বিশ্বাস থাকবে বোঝার ক্ষমতা থাকবে সেটাই প্রকৃত সুখ বুঝলে মা। তুমি তো দেখেছো টাকা। আর এই টাকার কাছেই আমাকে বিক্রি করে দিয়েছো আমি না পারি সেখানে কোন কথা বলতে না পারি কিছু করতে না পারি কাউকে কিছু বলতে। আমার জীবনটা না মা অনেক হতাশায় থাকি।তোমাদের জামাই কখন বাসায় আসে কখন ফিরে আমি ঠিক ভাবে বলতেও পারি না আবার কখনো আসেও না।কি বলবো আর বলার কিছুই নেই ভালো থেকো মা চলে যাচ্ছি। আবার কখন আসা হবে না কি হবে না নিজেও জানিনা।
তবে আমি কোন অন্যায় করিনি। বাংলাদেশ আমার ভাগ্যটা কেন এমন হলো। আমি তো এত টাকা-পয়সা চাইনি।আমি শুধু আমার মা বাবাকে ভালো রাখতে চেয়েছি এবং তাদের যেন কোন মান সম্মান নষ্ট না হয় এই জন্যই আমি তাদের কথা কে মূল্যায়ন দিতে নিজের জীবনকে অস্থিরতার ভিতরে জড়িয়ে নিয়েছি।আজ আমার কিছুই চাওয়ার নেই আমার আছে টাকা-পয়সা সবই আছে। শুধু নেই কথা বলার মানুষ বোঝার মানুষ।ভালো থেকো মা, চলে যাচ্ছি। তবে তোমাদের যে সিদ্ধান্ত আমার মাথার উপর চাপিয়ে দিয়েছো সেই সিদ্ধান্তর ভার আর আমি নিতে পারছি না। হয়তো একদিন দেখবে তোমাদের মেয়ে আর নেই।
তবে সব কিছুরই বিচার আছে যা করলে তা একদিন ঠিক বুঝতে পারবে। আরিফের সঙ্গে তোমরা যা করেছ তা একদম ঠিক করনি। এই বলে আশা কাঁদতে কাঁদতে তার হাজবেন্ডের সঙ্গে চলে গেল। বাসায় পৌঁছে আশা তার মাকে ফোন দিল ঠিকভাবে বাসায় পৌঁছে গেছে। আশার হাজবেন্ড বাসায় পৌঁছে চলে গেল অফিসে। অফিসের কাজ শেষে গভীর রাতে আশাকে ফোন দিয়ে বলল আজ বাসায় ফিরতে পারবে না। আশা আর কোন কথা না বলে ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর দুদিন হয়ে গেল তারপরও আশার হাজবেন্ডের বাসায় আসার কোন খবর নেই। অপেক্ষা জিনিসটি কত কঠিন সেটা একমাত্র আশাই প্রতিদিন অনুভব করে। তিনদিন পর আশার হাজবেন্ড বাসায় এলো। সে কোথায় ছিল কি করলো জিজ্ঞাসা করতে আশাকে প্রচন্ড মারধর করল।
আমার পরিচয়
আমি মোছাঃ সায়মা আক্তার।আমি একজন ব্লগার, উদ্যোক্তা।কবিতা লিখতে, নতুন কোনো রেসিপি তৈরি করতে এবং নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।আমি উদ্যোক্তা জীবনে সব সময় গ্রামের অবহেলিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করি।আর এই অবহেলিত মহিলাদের কাজ নিয়ে দেশের স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রোভাইড করি এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি করছি।আর এসব কিছুর পিছনে আমার এই অবহেলিত মহিলাদের উৎসহ এবং উদ্দীপনায় সম্ভব হয়েছে।তাই সব সময় আমি অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে এবং অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে খুব ভালো লাগে।এজন্যই সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং তাদের সহযোগিতায় নিজেকে সব সময় সম্পৃক্ত রাখি।আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে স্টিমিটে যুক্ত হই।আমার বাংলা ব্লগে শুরু থেকে আছি এবং এখন পর্যন্ত আমার বাংলা ব্লগেই ব্লগিং করে যাচ্ছি।
🇧🇩আল্লাহ হাফেজ🇧🇩



