রেসিপিঃতালের কেক ।

in আমার বাংলা ব্লগ2 years ago

শুভেচ্ছা সবাইকে।

কেমন আছেন সবাই? আশাকরি ভালো আছেন।আমিও ভালো আছি।প্রত্যাশা করি সবাই সব সময় ভালো থাকেন,নিরাপদে থাকেন। আজ ১১ই পৌষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৬শে ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ । আজ একটি রেসিপি পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

r30.jpg

r27.jpg

বন্ধুরা নিয়মিত ব্লগিং এ আজ আবারও হাজির হয়েছি নতুন আর একটি রেসিপি ব্লগ নিয়ে। চেস্টা করি প্রতি সপ্তাহে একটি করে রেসিপি ব্লগ শেয়ার করতে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ নিয়ে এসেছি একটি পিঠার রেসিপি নিয়ে। শীতকাল মানেই বিভিন্ন ধরনের পিঠা খাওয়া। তবে আমি আজ ভাদ্র মাসের পিঠার রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি। আর হলো তালের কেক পিঠার রেসিপি।বেশ কিছুটা তালের পাল্প ফ্রিজে ছিল।এর আগে আমি সেই তালের পাল্প দিয়ে বানানো তালের পোয়া পিঠার রেসিপি শেয়ার করেছিলাম। আর আজ তাই শেয়ার করতে চলে এলাম তালের কেক রেসিপি।তালের এই কেক আমার বেশ পছন্দ ।কারন কোন ধরনের তেল ব্যবহার করা হয় না। তাই বেশ স্বাস্থ্য সম্মত। আর খেতেও বেশ মজা। যেহেতু কুচি ও কোড়ানো দু ধরনের নারিকেল ব্যবহার করা তাই খেতে বেশি ভালো লাগে। আশাকরি আপনাদেরও ভাল লাগবে। তাহলে আর দেরী না করে চলুন দেখে নেয়া যাক তালের কেক রেসিপির উপকরণ সমূহ । সেই সাথে জেনে নেয়া যাক বানানোর ধাপ সমূহ। আশাকরি ভালো লাগবে আপনাদের।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

r2.jpg

r1.jpg

r7.jpg

r33.jpg

r34.jpg

চালের গুড়া২ কাপ
তালের পাল্পপ্রয়োজন অনুযায়ী
চিনিস্বাদ মতো
লবনপরিমান মতো
খাবার সোডা১/৪ চাঃ চামচ
কুড়ানোনারিকেল ১কাপ
কুচি নারিকেল৪টেঃ চামচ

তালের কেক তৈরির ধাপ সমূহ

ধাপ - ১

r3.jpg

প্রথমে একটি বাটিতে পরিমান মতো চালের গুড়া নিয়ে নিয়েছি। তাতে পরিমাণ মতো লবন দিয়ে দিয়েছি।

ধাপ - ২

r9.jpg

কোড়ানো ও কুচি নারিকেল চালের গুড়ার সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছি।

ধাপ - ৩

r10.jpg

r11.jpg

r12.jpg

এবার পরিমাণ মতো তালের পাল্প দিয়ে শুকনো উপকরণ গুলো ভালোভাবে মেখে নিয়েছি। এবং ঢাকনা দিয়ে আধা ঘন্টার জন্য রেস্টে রেখে দিয়েছি।

ধাপ - ৪

r13.jpg

আধা ঘন্টা পর মাখানো মিশ্রণটিতে প্রয়োজনীয় চিনি দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছি।

ধাপ - ৫

r14.jpg

এবার পরিমাণ মতো খাবার সোডা চালের ও তালের মিশ্রণের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়েছি।

ধাপ - ৬

r18.jpg

r23.jpg

r19.jpg

এবার পিঠা বানানোর জন্য একটি হাড়ির মুখে এক টুকরো কাপড় বেঁধে নিয়েছি। পানি যখন ফুটে আসবে ,তখন কাপড়ের উপর তৈরি ব্যাটারটি দিয়ে দিয়েছি।সেই সাথে তৈরি ব্যাটারের উপর কিছু কুচি নারিকেল ছড়িয়ে দিয়েছি ।এবং ঢাকনা ঢেকে প্রায় ১৫ মিঃ এর মতো জ্বাল দিয়ে নিয়েছি।কেক সিদ্ধ হয়ে এলে নামিয়ে নিয়েছি। আর এভাবেই বানিয়ে নিলাম তালের কেক ।

পরিবেশন

r27.jpg

r30.jpg

r31.jpg

তালের কেক হয়ে এলে একটি প্লেটে নিয়ে নিয়েছি। এবং টুকরো করে নিয়েছি পরিবেশনের জন্য।

আশাকরি, আজকের তালের কেক রেসিপিটি আপনাদের ভালো লেগেছে।আমি চেষ্টা করি সব সময় নতুন নতুন রেসিপি শেয়ার করতে ।এবারো সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আবার দেখা হবে নতুন কোন রেসিপি নিয়ে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। শুভ দুপুর।

পোস্ট বিবরণ

শ্রেণিরেসিপি
ক্যামেরাSamsung A-10
পোস্ট তৈরি@selina 75
তারিখ২৬শে ডিসেম্বর, ২০২৪ ইং
লোকেশনঢাকা,বাংলাদেশ

আমার পরিচয়

আমি সেলিনা আখতার শেলী। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। জন্ম,বেড়ে ওঠা চট্রগ্রাম শহরে। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স-মাস্টার্স। দীর্ঘ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কাজ করেছি। স্বামীর বাড়ী দিনাজপুরে,বর্তমানে ঢাকায় থাকি।ঘুরে বেড়ানো,বই পড়া,অজানাকে জানা,নিত্য নতুন রান্না ও বিভিন্ন ধরণের হাতের কাজ করা আমার শখ।দেশাত্ববোধ,দেশীয় শিল্প,সাহিত্য ও সংস্কৃতি আমার অন্যতম ভালো লাগা। এদেশে জন্মগ্রহণ করে আমি গর্বিত।

সাথে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ

image.png

image.png

image.png

Sort:  
 2 years ago 

তাল দিয়ে কখনো কেক খাওয়া হয়নি আমার।আপনি তাল দিয়ে আপু খুব সুন্দর একটি কেক তৈরি করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। কেকটি খেতে খুবই সুস্বাদু হয়েছিল দেখে বুঝতে পারছি। নারিকেল দিয়েছেন এজন্য আরো বেশী সুস্বাদু হয়েছিল আশাকরি। অনেক ধন্যবাদ আপু চমৎকার এই রেসিপিটি শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago 

তালের সিজনে এই কেকটি প্রায়ই খাওয়া হয়। বেশ মজা খেতে।তালের সিজনে একদিন ট্রাই করতে পারেন।ধন্যবাদ আপু।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

 2 years ago 

স্বাস্থ্যকর একটি পিঠা রেসিপি। যেহেতু তেলের কোন কারবার নেই তার মানে নিঃসন্দেহে এটি একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। তাল এবং নারিকেলের সমন্বয় করাতে মনে হচ্ছে খেতে আরও টেস্টি হয়েছিল। ইউনিক একটি রেসিপি খুবই সুন্দর করে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আশা করছি আগামীতে আরও ইউনিক সব পিঠা রেসিপি দেখতে পারবো আপনার পোস্ট থেকে।

 2 years ago 

অনেক মজার ও স্বাস্থ্যসম্মত পিঠা। ধন্যবাদ ভাইয়া মন্তব্যের জন্য।

 2 years ago 

জানেন আপু এই পিঠায় বা কেকে চিনির জায়গায় যদি গুড় ব্যবহার করতেন তবে স্বাদ তো আলাদা হতই আর অনেক বেশি স্বাস্থ্যকরও খেতে হত। তবে আপনার রেসিপি বলছে এটা বেশ লোভনীয় হয়েছে। আসলে আজকাল চিনির জায়গায় গুড় ব্যবহারের প্রচলন বেড়েছে। সে কারণেই আমিও বললাম।

 2 years ago 

আমিও গুড় ব্যবহার করি বাসায় না থাকায় ব্যবহার করতে পারিনি।এখন সবাই চিনিই ছেড়ে মধু ও গুড়ের দিকে ঝুকেছে স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে। ধন্যবাদ আপু মন্তব্যের জন্য।

 2 years ago 

তালের কেক আমি তৈরি করেছিলাম। ঘরোয়া পদ্ধতিতে এরকম কেক তৈরি করলে খেতে অনেক ভালো লাগে। আপনার তৈরি করা কেক আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। দেখেই বুঝতে পারছি এই কেক খেতে দারুন লেগেছিল। মাঝেমধ্যে এভাবে ঘরোয়া ভাবে কেক তৈরি করে খেতে ভালোই লাগে। যারা এরকম কেক তৈরি করতে পারে না তারা চাইলে তৈরি করতে পারবে।

 2 years ago 

আমার অনেক পছন্দ তালের এই কেকটি। খেতে অনেক মজা এই কেকটি। ধন্যবাদ আপু।

 2 years ago 

এত লোভনীয় রেসিপি শেয়ার করেছেন দেখে অসম্ভব ভালো লাগলো। আপনার আজকের রেসিপিটা আমার তো দারুন পছন্দ হয়েছে। মজার মজার রেসিপি গুলো তৈরি করে মাঝেমধ্যে আমাদেরকেও কিন্তু দাওয়াত দিতে পারেন। তাহলে মজার মজার খাবারগুলো আমরাও খেতে পারতাম। এই রেসিপিটা দেখে অনেক সুস্বাদু বলে মনে হচ্ছে। সবাই মনে হয় মজা করে খেয়েছেন।

 2 years ago 

এখন থেকে চেস্টা করবো কোন রেসিপি তৈরি করলে দাওয়াত দেয়ার। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ভাইয়া।

 2 years ago 

কেকটি অনেক লোভনীয় হয়েছে দেখতে।কেক অনেক ধরনের খাওয়া হলেও তালের কেক কখনো খাওয়া হয়নি। অনেক ইউনিক একটি রেসিপি। রেসিপির প্রতিটি ধাপ ধারাবাহিকভাবে গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন আমাদের মাঝে। মজাদার এই তালের কেক রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।

 2 years ago 

তালের সিজনে একদিন বানিয়ে খাবেন। আশাকরি ভালো লাগবে। ধন্যবাদ আপু।

 2 years ago 

তালের কেক বেশ কয়েকবার খাওয়া হয়েছে তবে নিজে কখনো তৈরি করিনি। এই কেকটা খুবই ভালো লাগে খেতে। আপনার রেসিপি টা দেখে তো খেতে ইচ্ছে করছে। একদম পারফেক্টলি এটা তৈরি করেছেন। উপরে নারকেল দিয়ে ডেকোরেশন করার কারণে খুবই লোভনীয় লাগছে দেখতে। সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ আপু।

 2 years ago 

জি আপু পারফেক্টলি হয়েছিল কেকটি। কিন্তু মাঝে মাঝে আবার ঝামেলা করে হতে চায় না। তবে খেতে বেশ মজা এই কেকেটি। ধন্যবাদ আপু।

 2 years ago 

Daily Task

dt1.png

dt2.png

super walk1.jpg