লাইফ স্টাইল - " বোনের বাসায় সবাই মিলে শীতের পিঠা খাওয়ার সুন্দর অনুভূতি "
হ্যালো বন্ধুরা,
মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার প্রিয়"আমার বাংলা ব্লগ"এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগন,কেমন আছেন সবাই?আশা করি সবাই ভালো আছেন।আমিও আলহামদুলিল্লাহ্ আল্লাহ্র অশেষ রহমতে ভালো আছি।
বন্ধুরা,আমি @shimulakter"আমার বাংলা ব্লগ" এর একজন নিয়মিত ও অ্যাক্টিভ ইউজার।বাংলায় ব্লগিং করতে পেরে আমার অনেক বেশী ভালো লাগা কাজ করে মনের মাঝে।তাইতো আপনাদের মাঝে প্রতিনিয়ত মনের নানান অনুভূতি গুলো নিয়ে নানা রকমের পোস্ট শেয়ার করে থাকি।আজ ও আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিযে।আশাকরি সবাই সঙ্গেই থাকবেন।
বোনের বাসায় সবাই মিলে শীতের পিঠা খাওয়ার সুন্দর অনুভূতিঃ
বন্ধুরা,আজ আবার হাজির হয়ে গেলাম নতুন একটি পোস্ট নিয়ে।আজ শেয়ার করবো লাইফ স্টাইল পোস্ট। পরিবারের বন্ধন অটুট বন্ধন।পরিবারের সব সদস্য একসাথে মিলে কোন কিছু করলে তা অনেকটা ই আনন্দের।শীত এসেছে আর শীতের পিঠা খাওয়া হবে না,এমনটা কখনও হয়নি।আব্বু বেঁচে থাকতে আমরা সবাই ভাইয়ার বাসায় একত্রিত হয়ে শীতে পিঠা সবাই মিলে বানাতাম।আর সকাল হলে প্রচন্ড শীতে সবাই মিলে একসাথে শীতের পিঠা খেতাম।পিঠার মিষ্টি যতটা না মুখে লাগতো,তার চাইতে ও বেশী মিষ্টি লাগতো মনের মধ্যে পরিবারের সবাই মিলে একত্রিত হওয়াটা।
আব্বু দুনিয়া থেকে চলে গেলো।সেই যে পিঠা উৎসব আর তেমন করে হয়নি।এবার বোন বলল,ওদের বাসায় যেতে সবাই মিলে পিঠা উৎসবে একসাথে পিঠা খাবো তাই।
পরিবারের সবাই মিলে এক জায়গায় একত্রিত হতে পারলে আমি কখনও না করিনা যে যেতে পারব না।এটা ভীষন আনন্দের।একসাথে হবো এটা বড় পাওয়া আমার জন্য।তাই বোনের বাসায় সেদিন গিয়েছিলাম।আর অন্য দিকে আমার বড় ভাই,ভাবি আর বাচ্চারাও এসেছিল।সবাইকে একসাথে দেখে খুবই ভালো লাগা কাজ করলো মনে।
বোন পিঠা তৈরি করার সব উপকরণ রেডি করে রেখেছিল।পাটিসাপটা,ভাপা পিঠা আর দুধ পুলি পিঠা তৈরি হয়েছিল সেদিন।সবাই মিলে খুব মজা করে পিঠা খেয়েছিলাম।
আম্মু প্রথমে ছোট ছোট ভাপা পিঠা তৈরি করে নিয়েছিল।কিন্তু অনেক সময় লাগবে তাই আম্মুকে বলেছিলাম একটি বড় করে ভাপা পিঠা তৈরি করে নিতে।কারন আমরা পরিবারে অনেক সদস্য ই ছিলাম।ভাপা পিঠা তৈরি করতে এতো সময় নিলে বাকি আরো দুই রকমের পিঠা তৈরি করতে সময় আরো বেশী লাগবে।আম্মু তাই বড় করে ই ভাপা পিঠা তৈরি করে নিয়েছিল।ভাপা পিঠা হতে বেশী সময় লাগেনি।পিঠা ঠান্ডা হয়ে গেলে আমরা ছুরি দিয়ে কেকের মতো পিঠা কেটে কেটে সবাই খেয়েছিলাম।
এরপর দুধের ক্ষীরসা দিয়ে পাটিসাপটা আমার ভাবী বানিয়েছিল।খেতে কিন্তু দারুন সুস্বাদু হয়েছিল।এরপর রাতের ডিনার শেষ করে আমরা সবাই মিলে পুলি পিঠা হাতে হাতে তৈরি করে নিয়েছিলাম।আর নানা রকমের গল্পে পরিবেশ ভীষণ আনন্দ মূখর হয়ে উঠেছিল।আমার আম্মু ভীষণ আনন্দ পেয়েছে আমাদের কে একসাথে পেয়ে।এটা খুব আনন্দের ছিল আমাদের জন্য।আব্বু নেই বেঁচে,আম্মুর মনে আনন্দ দেয়াটাই এখন আমাদের একমাত্র কাজ।
আমরা একদিকে পিঠা বানিয়ে নিচ্ছিলাম আর অন্য দিকে বাচ্চারা একসাথে সবাই লুডু খেলে আনন্দ করে সময় কাটিয়েছিল।সেদিন ছোটরা ছোটদের মতো আনন্দ করেছিল।আর আমরা আমাদের মতো নানা গল্প ও আড্ডায় সুন্দর সময় কাটিয়েছিলাম আর পিঠা তৈরি করেছিলাম।এরপর রাতে খেজুরের গুড় দিয়ে আর ঘন দুধ জাল করে পুলি পিঠা রান্না করা হয়েছিল।সুন্দর সময় গুলো দ্রুত জীবন থেকে হারিয়ে যায়।এটা ভীষণ কষ্টদায়ক বিষয়।সুন্দর সময় গুলো বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।
বোনকে ধন্যবাদ জানিয়েছি সবাইকে একসাথে করে শীতের এই পিঠা উৎসবকে আরো বেশী আনন্দময় করে তোলার জন্য।বছরের শেষ প্রান্তে এসে সেদিন খুব সুন্দর সময় কেটেছে আমাদের সবার।এমন আনন্দ ও হাসিতে ভরে থাকুক প্রতিটি পরিবার।দোয়া করবেন সবাই আমাদের এই বন্ধন অটুট থাকার জন্য।
পোস্ট বিবরন
| শ্রেণী | লাইফ স্টাইল |
|---|---|
| ক্যামেরা | Galaxy A16.Oppo A 6 pro |
| পোস্ট তৈরি | @shimulakter |
| লোকেশন | বসুন্ধরা,ঢাকা |
আজ এখানেই শেষ করছি।আবার হয়ত হাজির হয়ে যাব অন্য কোন পোস্টে ভিন্ন কিছু অনুভূতি নিয়ে।সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে
আমার পরিচয়
আমি শিমুল আক্তার।আমি একজন বাংলাদেশী।বাংলাদেশ ঢাকা থেকে আমি আপনাদের সাথে যুক্ত আছি।আমি এম এস সি ( জিওগ্রাফি) কমপ্লিট করি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। আমি বিবাহিতা।আমি একজন গৃহিণী।আমি একজন স্বাধীনচেতা মানুষ। ভালোবাসি বই পড়তে, নানা রকমের রান্না করতে,আর সবাইকে নতুন নতুন রান্না করে খাওয়াতে ভীষণ ভালোবাসি।ফটোগ্রাফি করতে আমি ভীষণ পছন্দ করি।বাংলায় লিখতে আর বলতে পারার মধ্যে অনেক বেশী আনন্দ খুঁজে পাই।নিজের মধ্যে থাকা সৃজনশীলতাকে সব সময় প্রকাশ করতে পছন্দ করি।এই বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছি বলে নিজেকে অনেক ধন্য মনে করি।










