শিল্পীর হাতের জাদুতে মহিষাসুরমর্দিনী
শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি বাঙালির শিল্প, নান্দনিকতা ও ঐতিহ্যের এক মহামিলন। প্রতিটি মণ্ডপে মা এসে থাকে নতুন রূপে এবং নতুন ভাবনায়। এই প্রতিমাটি সেই চিরায়ত শিল্পধারার এক অনবদ্য উদাহরণ। যেখানে শিল্পীর দক্ষতা ও লোকজ ঐতিহ্য একসূত্রে গাঁথা। এই প্রতিমায় মা দুর্গাকে দেখা যাচ্ছে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে-দশভূজা, সিংহবাহিনী এবং অসুরবিনাশিনী। শিল্পীর পরিকল্পনায় মুখমণ্ডল শান্ত কিন্তু দৃঢ়, এটি “উগ্রে শান্ত” ভাবের নিখুঁত উদাহরণ ফুটে উঠেছে। দশটি হাতে বিভিন্ন অস্ত্র অর্থাৎ ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, ধনুক ইত্যাদি প্রতিটি দেবতার শক্তির সম্মিলিত রূপ নির্দেশ করে থাকে।
শাস্ত্রমতে দেবতারা নিজেদের অস্ত্র মাকে প্রদান করেছিলো। শিল্পী সেই ঐতিহ্য নিখুঁতভাবে তাঁর হাতের জাদুতে ফুটিয়ে তুলেছে এখানে। এরপর মায়ের বাহন সিংহটিকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেনো যুদ্ধের উত্তেজনায় আছে। শিল্পী তার কারিগরি দক্ষতার মধ্যে দিয়ে বিষয়টিকে আরো সুন্দরভাবে তুলে ধরেছে। এই প্রতিমার শোলার মুকুট, দুল, পেছনের চক্রাকার অলঙ্করণ, সবকিছুই বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এই মা দুর্গার প্রতিমা শুধু একটি ধর্মীয় প্রতীক নয়। এটি বাংলার লোকশিল্প, পৌরাণিক ঐতিহ্য এবং আধুনিক নান্দনিকতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। শিল্পীর কল্পনা ও নিষ্ঠা প্রতিমাটিকে জীবন্ত করে তুলেছে, যেন মা সত্যিই মর্ত্যে আগমন করেছে।
