অন্যের কিছু হলেই তা অভিশাপ এসেছে তা ভাবা উচিত নয়!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
অন্যের জীবনে কোনো খারাপ কিছু ঘটলেই আমরা অনেক সময় মনে করি, হয়তো এটা তার কোনো অভিশাপ। এই চিন্তাটা আসলে আমাদের সমাজে খুব গভীরভাবে গেঁথে আছে। কারও জীবনে দুর্ঘটনা ঘটলেই আমরা ধরে নিই, নিশ্চয়ই তার কোনো পাপ ছিল, অথবা ভাগ্যের শাস্তি নেমে এসেছে। অথচ সত্য হলো জীবনে ভালো-মন্দ দুইটাই আসবেই। কেউ অসুস্থ হলে সেটা কেবল রোগ, কেউ অর্থকষ্টে পড়লে সেটা কেবল পরিস্থিতি সবকিছুকে অভিশাপ ভাবা উচিত নয়।
এই ধরনের চিন্তা মানুষকে আরও কষ্ট দেয়। যখন কেউ বিপদে থাকে, তখন তার প্রয়োজন হয় সহমর্মিতা আর সমর্থনের, কিন্তু আমরা অনেক সময় বিচার করতে বসি। বলি হয়তো কোনো অন্যায় করেছিলো।এতে ওই মানুষটা ভেতরে ভেতরে ভেঙে যায়। অথচ বিপদ আপদ সবার জীবনেই আসে। এগুলো জীবনকে পরীক্ষা করার মাধ্যম আর শিখিয়ে দেয় ধৈর্য আর মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা।তাছাড়া, অন্যের কষ্টকে অভিশাপ ভেবে বসলে আমরা নিজের মধ্যেও এক ধরনের ভীতি তৈরি করি। মনে হয়, আমিও যদি এমন করি তাহলে আমার সাথেও এমন কিছু ঘটবে। এই ভাবনা আসলে মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়। বরং আমাদের ভাবা উচিত যা ঘটেছে সেটা একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি, আর সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, জীবনকে অভিশাপের দৃষ্টিতে নয়, বরং অভিজ্ঞতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত। প্রতিটি বিপদই নতুনভাবে বেঁচে থাকার পাঠ দেয়। কারও কষ্ট দেখে তাকে বিচার করার বদলে পাশে দাঁড়ানোই মানবতার শিক্ষা। কারণ আজ কারও জীবনে যা ঘটছে, কাল সেটা আমাদের সাথেও ঘটতে পারে।জীবনে যাই হোক না কেন, সেটাকে অভিশাপ না ভেবে অভিজ্ঞতা হিসেবে নেওয়া উচিত। এভাবেই আমরা সহমর্মিতা শিখতে পারবো আর ভেতরটা আরও শক্ত করে তুলতে পারব।

