নিজের ভালো লাগায় একদিন হলেও বাঁচা উচিত!

আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।

IMG_0378.jpeg


আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।

নিজের ভালো লাগায় একদিন হলেও বাঁচা উচিত। কারণ সারাজীবন শুধু দায়িত্ব, চাপ, কাজ আর হিসাবের ভেতর থাকলে জীবনটা একদম ফাঁকা হয়ে যায়। আমাদের চারপাশে সবাই শুধু একটা কথাই শোনায়, এইটা করো, ওইটা করো, এটা না করলে চলবে না। ছোটবেলা থেকে শেখানো হয়েছে ভালো রেজাল্ট করতে হবে, বড় হয়ে চাকরি করতে হবে, সংসার সামলাতে হবে। কিন্তু নিজের ভালো লাগার কথা কবে ভেবেছি সেটা মনে করতে গেলে খালি মনে হয় শুধু অন্যের জন্যই বেঁচে থেকেছি।জীবনের এতসব চাপের মাঝেও নিজের ভালো লাগা একটু সময়ের জন্য হলেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। কারণ দিনের পর দিন শুধু অন্যের কথা ভেবে চললে একটা সময় নিজেকে অনেক ছোট মনে হয়। মনে হয় নিজের জীবনের কোনো দাম নেই, শুধু অন্যের কথায় চলতেই জন্ম। এই অনুভূতি থেকে দূরে থাকতে হলে কখনো কখনো নিজের ভালো লাগার জন্যও বাঁচতে হবে। একদিন হলেও নিজের জন্য কিছু করতে হবে। যেটা করলে নিজের মনে একটু শান্তি আসে, সেটাই করতে হবে।

অনেকে ভাবে নিজের ভালো লাগার জন্য সময় নেওয়া মানে অলসতা। কিন্তু আসলে এটা নিজের মনের শান্তির জন্য দরকার। একদিন সিনেমা দেখা, একটু পছন্দের জায়গায় ঘুরতে যাওয়া, প্রিয় গান শোনা বা প্রিয় খাবার খাওয়া এগুলো অনেক ছোট বিষয় মনে হলেও এগুলোই জীবনের মানে তৈরি করে। এগুলো করলে অন্তত মনে হয় নিজের জন্যেও একটু সময় দিচ্ছি। শুধু দায়িত্ব পালনের জন্যই তো জীবন না।আরেকটা কথা হলো, পৃথিবীতে সবকিছুই ক্ষণিকের। কাজ সবসময় চলতেই থাকবে। অন্যের চাহিদা সবসময় বাড়তেই থাকবে। নিজের ভালো লাগার জন্য সময় না দিলে একসময় নিজেকে হারিয়ে ফেলতে হয়। তখনই মানুষ বিষণ্ণ হয়ে যায়, ছোট ছোট বিষয়েও মেজাজ খারাপ হয়, মনে হয় সবকিছু একঘেয়ে। এই জিনিসগুলো থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিজের ভালো লাগাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া। নিজের ছোট খুশিগুলোকে গুরুত্ব দিলে মনটা হালকা থাকে।

আর কেউ কখনো এসে বলবে না, তুমি নিজের জন্য একটু সময় নাও। বরং সবাই নিজের সুবিধা মতোই ব্যবহার করতে চাইবে। তাই নিজের ভালো লাগার সময়টা নিজেকেই বের করে নিতে হবে। সেটার জন্য কাউকে বুঝানোর দরকার নেই। কারণ শেষ পর্যন্ত নিজের ভালো থাকাটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নিজের ভালো লাগার জন্য বাঁচলে জীবনটা একঘেয়ে মনে হবে না। মন ভালো থাকবে, কাজেও ভালো লাগবে, অন্যের সাথেও ভালো ব্যবহার করা সহজ হবে।সবকিছুর ভেতর থেকে অন্তত একদিন হলেও নিজের ভালো লাগার জন্য বাঁচা উচিত। সেই একদিনই মনে করিয়ে দিবে, আমি শুধু দায়িত্বের বোঝা না, আমি একটা মানুষ। আমারও হাসার অধিকার আছে, আনন্দের অধিকার আছে। নিজের ভালো লাগায় বাঁচলে জীবনটা সুন্দর হয়ে যায়। তাই এই ছোট ছোট ভালো লাগার জিনিসগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখা ঠিক না। জীবন ছোট, আরেকটু নিজের জন্যও বাঁচা দরকার।


ABB.gif